Dr. Aminul Islam

Published:
2021-04-04 12:06:32 BdST

বরগুনায় মানসিক রোগীর ঢিলে দুর্ঘটনা, নিহত ২: এই ট্রাজেডির দায় কার!


 

অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
ওসিডি ও জেরিয়াট্রিক কনসালটেন্ট
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
------------------------------------------

বরগুনায় ২ রিকশা যাত্রী টমটম চাপায় নিহত হয়েছে।
এক মানসিক রোগী রিকশা যাত্রীদের দিকে ঢিল ছুড়লে রিকশা চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তখন অন্য দিক থেকে আসা একটি টমটম চাপা দেয় রিকশা যাত্রীদের।

মানসিক রোগীর এই ঢিল ছোঁড়ার অস্বাভাবিক কাজের ফলশ্রুতিতে এই শোকাবহ বেদনাদায়ক ঘটনা।
শুরুতেই নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।
কোন মানসিক রোগী বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, বা বিশ্বের কোথাও যখন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটান, তখন একজন মানসিক রোগ চিকিৎসক হিসেবে মর্মাহত বোধ করি।
মর্মান্তিক কোন ঘটনা ঘটে গেলে শোক বোধ করি।

গভীর বিষন্ন বোধ করি, ওই মানসিক রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয় নি জেনে।

এই মানসিক রোগী কেন এমনটা করলেন।
এর দায় কার। কেন তাকে চিকিৎসা দেওয়া হল না আগে ভাগে। দেয়া হলে এসব শোক ঘটনা হত না।
এখন মনোরোগের সুচিকিৎসা আছে। তাদের রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তাদের রক্ষা করা গেলে এই নিহতদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হত।

মানসিক রোগী কেন ঢিল ছুঁড়লেন।
মনোরোগ চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় সম্ভাব্য কারণ গুলো বলি-

১.
মানসিক রোগী কোন গায়েবী নির্দেশ পেয়ে থাকবেন।
কোন গায়েবী আওয়াজ শুনে থাকতে পারেন।
ঢিল মার, ঢিল মার।
কোন মন-গায়েরী আওয়াজ বা আদেশ পেয়ে তিনি কাজটা করতে পারেন।
২.
মানসিক রোগীদের রাস্তা ঘাটে নানাভাবে উত্যক্ত করা হয়। তাদের এখনো নানা সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে হয়, সে সকলের জানা।
ছেলে বুড়ো সবাই মজা লোটেন।
মানসিক রোগীকে চিকিৎসার আওতায় না এনে নানা লাইভ বিকৃত আনন্দের ফুর্তি সুযোগ উপভোগ করেন।
পরিনতি কখনও কখনও হয় কঠিন শোকাবহ।
৩.
এই মানসিক রোগী র চিকিৎসা কেন হয় নি। বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে এখন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছেন।
এবার কয়েক দিন আগে ৫২ জন নতুন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় পেয়েছেন।
তাঁরা সারাদেশে মনোরোগ চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন।
৪.
কিন্তু মনোরোগীদের চিকিৎসা নিতে তাদের পরিবার, স্বজন, সমাজ কতটা আন্তরিক। জেলা শহরে অনেক সম্পন্ন পরিবারের মানসিক রোগ আক্রান্ত সন্তান অবহেলায় থাকে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে না নিয়ে কবিরাজ, মোল্লা,ওঝা, হুজুর দের কাছে নিয়ে গায়েবি রোগের জীবন ঝুঁকি পূর্ণ গায়েবি এলেম ও তন্ত্র মন্ত্রের শিকার করে রোগীকে নিরাময় অযোগ্য করে তোলা হয়।
৫.
তাকে শিকল বা দড়ি দিয়ে মাসের পর মাস বেধে রাখা হয় সকলের অগোচরে।
অনেকে মানসিক রোগীকে অবহেলায় রাস্তা ঘাটে ছেড়ে দেয়। পরিচয় খোঁজ খবরও নেয় না।
তারপর বড় কোন ট্রাজেডি, যেমন, মানসিক রোগী হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে খুন করেছে স্বজনদের, পিতা মাতা, পড়শীকে। আঘাত করেছে করেছে। তখন তা মিডিয়ার রিপোর্টে র খোরাক হয়। বাস্তবতা রয়ে যায় সেই অন্ধকারে।
আমি নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ করবো না।
বলবো এ দায় সমাজের, পরিবারের, রাষ্ট্রের, আমাদের সকলের।

আর বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, যদি পরিবারে, স্বজনদের মধ্যে, পাড়ায় মহল্লায়, শহরে মানসিক রোগী থাকেন, তার প্রতি অবহেলা করবেন না। তাকে পাগল বলে দূরে ঠেলে দেবেন না। তার রোগ অবশ্য ই নিরাময়যোগ্য। তাকে নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা য় সুস্থ রাখা সম্ভব।
তাঁর যত্ন নিন। তার মানসিক রোগ এর নিয়মিত চিকিৎসা নিন।

 

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়