RAHANUMA NURAIN AONTY

Published:
2026-02-19 19:54:10 BdST

ওসিডি ডায়েরি : নতুন এপিসোড"বাসে স্বামীসহ যাচ্ছিল: মেয়েটির বদ্ধমূল ধারণা, এক সহযাত্রী তাকে গায়েবীভাবে প্রেগনেন্ট করে দিয়েছে"


এ আই প্রস্তুত করা প্রতিকী ছবি। ছবিটি বাস্তব তরুণির প্রতিকল্প হলেও ছবির মুখের বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই : বা/স



অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
বাংলাদেশের প্রথিতযশ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
লেখক,লোকসেবী চিকিৎসক
___________________________

সাদাসিধে একজন মহিলা তার ২৮-৩০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চেম্বারে ঢুকলেন।খুবই মন খারাপ মা মেয়ে দুজনের। মেয়েটার চেহারা খুবই ফ্যাকাশে। জিজ্ঞেস করলাম চেহারা এত সাদা ফ্যাকাশে কেন? মেয়ে চুপ। কোন উত্তর দিল না। মা বললেন, ওর বিয়ে হয়েছে প্রায় ৫ বছর । কোন বাচ্চা নাই। ভাবলাম এটাতো গাইনী-অবসের ডাক্তারের বিষয় ; আমার কাছে এলেন কেন এরা। হয়তো ভুল করেই এসেছেন। তাই বললাম, আমার কাছে কেন আসছেন? এ ব্যাপারে তো আমি আপনাকে তেমন সাহায্য করতে পারবো না।
কিন্তু কাহিনির সেখানেই শুরু।
মা জানালেন, কি বলব ম্যাডাম! এপর্যন্ত ও ৪-৫ বার এবরশন করিয়েছে।
অবাক হয়ে বললাম এই বয়সে! কারণ কি?
হরমোনের সমস্যা বোধ হয়।
শুরুতে ডাক্তার দেখান নাই? মা জানালেন প্রত্যেকবার দেখিয়েছি। প্রেগনেন্সি কিট লাল দাগ হলেই ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার সাহেব ওষুধ দেন । ফলোআপে যেতে বলেন। এর মধ্যে আমার মেয়ের মধ্যে অন্যরকম অশান্তি শুরু হয়ে যায় । বলতে থাকে এই বাচ্চার বাবা তার স্বামী না।
এবার তো আমি আরো অবাক।
কি বলে!
এই মেয়ের পরকিয়াও আছে!
আবার প্রেগনেন্টও হয়ে গেছে।
বিবাহিত মেয়ে । এতদূর এগিয়েছে ?
জানতে চাইলাম আপনার মেয়ে আর মেয়ে জামাইয়ের সম্পর্ক কেমন?
মা জানালেন খুবই ভাল। আমি মা হিসেবে খুশি।
উনি জানালেন ঐ জাতীয় কোন সমস্যা না ম্যাডাম। দুইমাস আগে ও শ্বশুরবাড়ী যায়।
বাসে একজন লোক ওর পাশে বসছিল। তাতেই মেয়ের মনোজগতে পরিবর্তন । আমার মেয়ের ধারণা, বাচ্চা ঐ লোকের। যতই বুঝাই। ওর স্বামীও বোঝায়; কোন লাভ হয় না।
ওর স্বামী ওকে বলে , ঐ সময় তো সে তার সাথে ছিল। তাহলে কিভাবে সম্ভব?
মেয়েও বোঝে। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। আসলেই তো এটার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই।
তারপরও মাথা থেকে এই অসম্ভব চিন্তা বের করতে পারে না। বাসায় রাগারাগি ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে অসহনীয় হয়ে ওঠে। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়। এবার নিয়ে ৫বার ।
মা জানালেন, আমার মেয়ে খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। গায়ে রক্ত নাই। এখন কি করব? আপনার খবর পেয়েছি আমার পাশের বাসার মহিলার কাছে। এখন আপনিই ভরসা।
ঠিক আছে। এখন বলেন , আর কি কি সমস্যা আছে? সংসারের কাজকর্ম ঠিকমত করতে পারে?
মেয়ে কোন কথা বলে না। মা জানালেন যে, নামাজ পড়তে গেলে তাকে পাশে থেকে জোরে জোরে দোয়া পড়তে হয়। ও নিজে উচ্চারণ করে পড়তে পারে না। কোন জামা পরবে , তার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
কোন বই পড়বে তা বলতে পারে না।
তিনটা টাওয়েল,১টা নতুন সাবান নিয়ে গোসলে ঢোকে। এক বেলাতেই একটা পুরা সাবান শেষ। এসব সমস্যা অনেক আগে থেকেই। তখন এতটা ছিল না।
তারপর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করল। বিয়ে হলো । শ্বশুরবাড়ীতে গেল। কোন কাজ করতে পারে না। ওর প্রতিমাসে ৩-৪ টা নতুন আন্ডার গার্মেন্টস কিনতে হয়। এ পর্যন্ত ৩-৪টা মোবাইল ফেলে দিয়েছে।
জিজ্ঞেস করলাম কেন এমন কর? কোন জবাব নেই। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললাম এবার কথা বল। এসব কেন কর?
উত্তরে জানাল যে তার যখন নোংরা মনে হয় তখনই সে সেটা ফেলে দেয়।
সেটা আর ব্যবহার করে না। করতে পারে না।
আমি বললাম ধুয়ে তো ব্যবহার করা যেতে পারে। সবাইতো তাই করে। আর মোবাইল তো হারিয়ে গেলেও একটা কথা। বারবার কেনা একটু ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। তাই না!
ওর মুখে কোন শব্দ নাই। নীরবে শুধুই চেয়ে থাকে। চোখ ভর্তি পানি। আমারো খারাপ লাগছিল। এত অল্প বয়সে মেয়েটার কত কষ্ট! সব বোঝে। সে জানে না যে কোন অদৃশ্য ব্রেনের সার্কিট তাকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তার বা তার পরিবারের কোন দোষ নাই। ওসিডি রোগটি মানুষকে নির্মমভাবে নিষ্পেষিত করে। মনের কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করা যায় না আর করলে হাসির খোরাক হতে হয়।
১৮.২.২৬

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়