Ameen Qudir

Published:
2017-03-27 08:38:57 BdST

১হাজার রুপির ডাক্তার দেখাতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বোন কলকাতা গেল


 

 

ডা. শারমিন জাহান
__________________________

মাত্র ১হাজার রুপির ডাক্তার দেখাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বোন কলকাতা গেল মাত্র একদিনের জন্য। আজ গেল। কালই বাংলাদেশ বিমানের ফিরতি ফ্লাইট।
আমার বোন , ভগ্নিপতি বড়লোক নন। মধ্যবিত্ত।
বাসে করেই ডাক্তার দেখাতে কলকাতা যেতেন। কিন্তু বেনাপোলে ভয়ঙ্কর ভিড় শুনে বিমানে গেলেন।

শুনে আমি সত্যিই ভিমরি খেলাম। ১০০০ রুপির ডাক্তারের জন্য ৫০ গুন বেশী খরচ।
বিস্ময়কর ব্যাপার। ঢাকা শহরে কি ডাক্তার নেই!
আমার বোনের কি মাথা খারাপ। তার কি টাকার গাছ গজিয়েছে ঘরে। না, তার কোনটাই নয়। সে ছোটবেলা থেকে অতি মিতব্যয়ী। তার স্বামীও মিতব্যয়ী মানুষ।

তাহলে সে গেল কেন।

বলে রাখা ভাল , বোনটির বাবা ডাক্তার ছিলেন।
তার সন্তানও ডাক্তার।


কলকাতায় কেউ ডাক্তার দেখাতে যেতেই পারে। সেটা নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু অবাক হয়েছি, একটি মিতব্যয়ী পরিবারের লোক হয়ে, নিজে বোনটি খুবই মিতব্যয়ী হয়েও ৫০ গুন বেশী খরচ করতে কলকাতা গেল কেন।

কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছি না।
যে শারীরিক সমস্যার জন্য সে গেল , সেটা বললাম
না। বড় কো্ন জটিলতাও নয়।

আমি আমার কার্ড দিয়ে দেশের দুই সেরা ডাক্তারের কাছে পাঠিয়েছিলাম তাকে।বোনটির খুব সংশয় ছিল , ডাক্তার যত্ন বা কেয়ার নিয়ে দেখবে তো।

তাই বলেছিলাম, তুই যে ডাক্তারের মেয়ে , সেটাও বলিস। কেয়ার অবশ্যই নেবে।

বোনটি ঢাকায় তার বাসার ঠিক কয়েক টি বাড়ি পরে এক বড় ডাক্তারের কাছে গেল। আরেক বড় ডাক্তারের চেম্বারও তার বাসা থেকে ৩০ টাকার রিকশা ভাড়া দূরে।
ও জানাল, একজনকে আমার কার্ড দিয়েছিল। সেটা দেখে সে সামান্য হাসল। ডাক্তার সাহেব বলল, ও অমুকের রেফারেন্স। আচ্ছা।

আরেক ডাক্তার কার্ড দেখেই নাই এত ব্যস্ত। বোনটি তার বাবার ডাক্তার পরিচয় একজনকে বলেছিল। তাতে ডাক্তারের হাসিমুখ নাকি শুকিয়ে আমসি হয়। ভাবখানা , বিরাট কোন আপত্তিকর কথা বলেছিল সে ।
এই কারণে সে আরেক ডাক্তারকে আর বাবা ও সন্তানের পরিচয় বলতে সাহসই পায় নাই।

বোনটি আমার মুখের ওপরই বলল, এইজন্য আপা কলকাতায় যাইতেছি। ওই খানে ডাক্তার সাহেব হাসে। হাসি মুখে কথা বলে। মনে হয় , সে যেন আমার আব্বাকেও চেনে। মনে হয়, কলকাতার ডাক্তার আমার আব্বার ছাত্র ছিল। এমন ভক্তি দেখায়। আমার সন্তান ডাক্তার শুনে তাকে দেখতে চায় । ইচ্ছা আছে পরের বার সন্তানকে ডাক্তারের চোখের দেখা দেখাতে নিয়ে যাব। বোনটি জানায়।

বোনটি আরেকটি কথা বলল, সেটা হল, কলকাতা গিয়ে মনে হয়, ওই ডাক্তারের আর কোন রোগী নাই। শুধু যেন আমারে দেখার জন্যই চেম্বারে বসে আছে। যদিও তা সত্য নয়। এপয়েন্টমত সবকজন রোগী দেখেন তিনি। কলকাতার রোগী হলেও একই ব্যবহার করেন।


বোনের কথা শুনে আমার মুখে রা নাই। ৫০ গুন বেশী খরচ কিছুতেই মানতে পারছি না। কিছুতেই না।

ঢাকায় আমাদের তথাকথিত ব্যবহারের সমস্যা, মুখ আমসি টাইপ হওয়া, সময় বেশী না দেওয়া এই জন্য ৫০ গুন বেশী মাশুল। না মানতেই পারছি না।


ইচ্ছা হয়, সময় নিয়ে আমিও ওইসব ডাক্তারের শ্রীবদন দেখে আসি। কি এমন মধুর ব্যবহার, যার দাম ৫০গুন বেশী।


________________________

লেখক শারমিন জাহান, রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়