RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-03-02 19:23:32 BdST
ওসিডির বিচিত্র কেস স্টাডি"গরু খাসির কলিজার মধ্যে ছিদ্রগুলো দেখলে মনে হয়, চোখগুলো গোল গোল করে তাকিয়ে আছে"
অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
বাংলাদেশের প্রথিতযশ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
লেখক, চিকিৎসক, চিকিৎসা শাস্ত্রের বরেণ্য শিক্ষক
________________________________
বয়স আর কত হবে! ২৫-২৬। পাশে তার মা বসে। বছরখানেক হয়েছে বিয়ে হলো। মা বেশ উদ্বিগ্ন। তার প্রথম কথাই হলো' আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সাংসারিক কাজ করতে পারছে না। মেয়ে আমার মাষ্টার্স করা। দেখতে শুনতে যে ভাল তা দেখতেই পাচ্ছেন। স্বভাব চরিত্র নিয়ে কোন অভিযোগ নাই। কিন্তু সে রান্না-বান্না করতে ভয় পায়।
আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম কিসের ভয়?
সে জানায়, "পেঁপের বিচি শসার বিচি কুমড়ার বিচি দেখলে ভয় পায়। এসব তো খুবই সাধারণ প্রতিদিনের খাবার তরকারী। এসব বিচি জাতীয় জিনিস দেখলে আমার শরীরে কেমন যেন শিরশির করতে থাকে। গায়ের লোমের গোড়াগুলো শক্ত হয়ে যায়। মনে মনে সিঁটিয়ে যাই। ভয় হয় কখন যেন এগুলো আমার নাক মুখ দিয়ে ঢুকে যায়। ছোট বেলায় শুনেছি বিচি পেটে গেলে গাছ মাথার উপর গাছ গজাবে।
তারপর থেকে আমি কখনো তরমুজ বাঙ্গি জাতীয় ফল খাই না । আর এখন সালাদ বানাতে বললেও আমার আতংক লাগে। অথচ এটা কোন ব্যাপার না। খুবই সাধারণ কাজ। এটা আমি বুঝি।"
মেয়েটা বলে যেতে লাগল “ একবার তার বেশ কিছুদিন জ্বর কাশি ছিল। ডাক্তার তাকে বুকের এক্স-রে করতে দিয়েছিল। আমার বাবা যখন রিপোর্ট নিয়ে বাসায় ফিরেন তখন বাবার মন খুব খারাপ দেখতে পাই । সবাই জানতে চাইলো। জানা গেল আমার যক্ষ্মা হয়েছে।
সবার খুবই মন খারাপ। সেদিনই রাতের বেলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন আসে, এই রিপোর্ট অন্য রোগীর । সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল ঠিকই কিন্তু আমার মনে গেঁথে গেল এক আতংক । তারপর থেকে স্বাস্থ্য রিলেটেড কাগজপত্র এমনভাবে গুছিয়ে রাখি দেখলে অনেকেই বিস্মিত হয়”।
সে আরো জানায়,
“আমি গরু খাসির কলিজা দেখতেও পারি না, খেতেও চাই না”। বললাম কেন?
মেয়েটি বলল, কলিজার মধ্যে গোল গোল অনেক ছিদ্র থাকে। আমার খারাপ লাগে। ছিদ্রগুলোর মধ্যে রক্ত জমাট থাকে ।ময়লা জমে থাকে। ছিদ্রগুলো দেখলে মনে হয় চোখগুলো গোল গোল করে তাকিয়ে আছে।
মুরগীর চামড়া পরিস্কার করতে গেলেও সমস্যা হয়। রোমের গোড়া গুলো দেখলে গা শিরশির করে। ইদানিং আমার আরেকটা সমস্যা হচ্ছে। মনে হয় শরীরের শিরাগুলি দেখা যাচ্ছে।
বার বার দেখি। আয়নায় চেহারা বারবার দেখতে হয়। মনে হয় চামড়া পাতলা হয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম দেখাওতো তোমার হাত। দেখে বললাম তেমন কিছুতো চোখে পড়ছে না। আর বার বার আয়না দেখার কি হলো? কিন্তু ওর চেহারায় একটা অসন্তোষের ভাব ফুটে উঠল। ওদেরকে জানালাম, এটা একধরণের ওসিডি রোগ। এসবের চিকিৎসা আছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি নিজের আচরণ পরিবর্তনের দিকেও সচেষ্ট থাকতে হবে।
২০. ২.২৬
আপনার মতামত দিন:
