SAHA ANTAR

Published:
2020-11-18 11:01:22 BdST

মানসিক রোগীর জন্য তার পরিবারের আবশ্যিক ৫ পয়েন্ট :ডাক্তারের ৫ পয়েন্ট


ডা. সুলতানা এলগিন


সহযোগী অধ্যাপক
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা
___________________________________

একথা গভীর আশ্বাসের সঙ্গে বলব , অন্য সব রোগের মত মানসিক রোগ অবশ্যই চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। একজন মানসিক রোগী তখন দু:খজনকভাবে অসহায় , যখন পরিবারের লোকজন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন না। তাই এখানে মানসিক রোগীর পরিবারের ৫ আবশ্যিক পয়েন্টের পাশাপাশি ডাক্তারের করণীয় ৫ পয়েন্ট নিয়ে বলছি।

মানসিক রোগীর জন্য তার পরিবারের আবশ্যিক ৫ পয়েন্ট
__________________________________

১.


পরিবারে কেউ মানসিক রোগে ভুগলে এ নিয়ে লুকোচুরি করবেন না। হেলা ফেলা করবেন না। দেখি না কি হয়, করবেন না। যত দেরী করছেন , রোগী ততই বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নেবেন ; রোগীর তত ভাল।
২.
মানসিক রোগীর পাশে দাঁড়ান। তিনি পাগল নন। পরিবারের সদস্যরা তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন না। তাকে ভালবাসায় আগলে রাখুন। মনে রাখবেন , যেমন , আমার আপনার অন্য রোগ হয়; তখন আমরা যেমন ডাক্তারের কাছে যাই। মানসিক রোগীকেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসুন। কোভিড১৯ মত মহামারী রোগ থেকে রোগীরা লাখে লাখে কোটি কোটি ভাল হয়ে , সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সে তুলনায় মানসিক রোগ তো অতি সাধারণ রোগ। এ রোগে সবাই যথা সময়ে চিকিৎসা পেলে এবং নিয়মিত চিকিৎসা পেলে অবশ্যই জীবন ভর ভাল থাকে। সুতরাং চিকিৎসা দিন।

৩.
মানসিক রোগীকে ভুলে ওঝা, কবিরাজ, পীর, ফকির , পানি পড়া, তাবিজ, জর্মন,রুহানি , তান্ত্রিক, ইউনানী মঘা চিকিৎসায় প্রতারণার মধ্যে নিয়ে যাবেন না। অভিজ্ঞতায় দেখি, অনেক মানসিক রোগীকে এসব ভন্ড অজ্ঞ ওঝাদের কাছে নিয়ে রোগীর বারোটা বাজিয়ে তবে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা হয়। তখন রোগীর চিকিৎসা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। যে রোগী সহজেই ভাল হত, তার জন্য দীর্ঘ কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়।
৪.
মানসিক রোগীর চিকিৎসা লুকাতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। রোগী মরে গেলে রোগীর স্বজন বা ডাক্তারের কিছু করার থাকে না গভীর শোক জানানো ছাড়া। কিন্তু সেই রোগী যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেত, তাহলে সেও আপনার আমার মত সুস্থ জীবন যাপন করত।


৫.
মানসিক রোগীর চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন : তা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক রোগ বিভাগ: সরকারি মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ; বেসরকারি প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ; সরকারি মানসিক হাসপাতাল ও ইনস্টি টিউট এবং বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞর চেম্বার: অনলাইন ভিডিও চেম্বার।
এর বাইরে অন্য কোথাও গিয়ে; চিকিৎসার লুকোচুরি করতে গিয়ে নিজেরা ঠকবেন না। আপনার আত্মীয় মানসিক রোগীকেও সারাজীবনের জন্য ঠকাবেন না।

ডাক্তারের ৫ পয়েন্ট
_______________________

১.
আপনার কাছে যদি কোন মনোরোগের পেশেন্ট আসে , তাকে মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিন। তাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর কাছে রেফার করুন।
২.
মানসিক রোগীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক রোগ বিভাগ: সরকারি মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ; বেসরকারি প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ; সরকারি মানসিক হাসপাতাল ও ইনস্টি টিউট এবং বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞর চেম্বার: অনলাইন ভিডিও চেম্বার-এ চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিন।
৩.
মানসিক রোগীর আত্মীয়স্বজনকে রোগীর প্রতি পরম যত্নশীল ও দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলুন।
৪.
মানসিক রোগীর আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে মনোরোগ নিয়ে নানা মিথ আছে। সেসব ঠিক নয় , সেটা বলুন। রোগীকে পাগল বলে অভিহিত না করতে বলুন। যে কোন দেশের জনসংখ্যার ১৮-২০ শতাংশ কম বেশী মানসিক রোগে ভোগে , সেটা বলুন। তাদের লজ্জা ভয় দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে বলুন। রোগীর আত্মীয়দের সাহসী করুন। আশ্বস্ত করুন।
৫.
এটা দু:খজনক হলেও সত্য , আমাদের এমবিবিএস কারিকুলামে মানসিক রোগ নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয় নি। দেশের প্রায় ২০ শতাংশ রোগী এই কারিকুলাম অবহেলার কারণে নানা রকম চিকিৎসা বিলম্বের শিকার হচ্ছে।
অনেক এমবিবিএস ডাক্তার, এমন কি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দেখা পেয়েছি, যারা মানসিক রোগের বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওয়াকিবহাল নন।
সবার প্রতি , করজোড়ে বিনীত অনুরোধ , মানসিক রোগের শিকার কোটি মানুষেরা এখনও সমাজে , পরিবারে নানা অবহেলার চরম শিকার। আসুন , বিষয়টিকে গুরুত্ব দেই। তাদের পাশে দাঁড়াই।

 

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়