SAHA ANTAR

Published:
2020-11-05 11:41:58 BdST

ভিটামিন ডি এবং মানসিক রোগ: কেন ভিটামিন ডি পরীক্ষা খুব জরুরি


 

ডা. সুলতানা আলগিন
সহযোগী অধ্যাপক মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা।

______________________________


ভিটামিন ডি এখন প্রায়ই ডাক্তাররা রোগীদের পরীক্ষা করতে দিচ্ছেন।  কেউ কেউ পরীক্ষা সাথে সাথে করান আবার কেউ দেখি করব টাকা পয়সা নাই এই ভাবে দেরী করতে থাকেন । কিন্তু এই ভিটামিন ডি মানুষের কি কি কাজে লাগে? কেনই বা ডাক্তাররা এটা করতে দেন ?
সূর্যের “আলট্রাভায়োলেট রে” শরীরের চামড়াতে এই ভিটামিন ডি তৈরীতে সাহায্য করে।। যাদের চামড়ার রং গাঢ়, তাদের চামড়ায় মেলানিন বেশী থাকে। এই মেলানিন প্রাকৃতিক সানস্ক্রীন । সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চামড়াকে রক্ষা করে। কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ডি তৈরীতে বাধা দেয়। ভিটামিন ডি ছেলেদের শরীরে বেশী থাকে।

কি কাজ করে ?

ভিটামিন ডি ব্রেন ডেভেলপমেন্ট,অস্থির প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম শোষণ .পেশীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়াবিক্রিয়ায় সাহায্য করে। কোন খরচ ছাড়াই এই ভিটামিন ডি আমরা যোগাড় করতে পারি। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারি।


কি কি রোগ হতে পারে?

অপর্যাপ্ত সূযালোক ,খাবারে ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা এর কারণ। ভিটামিন ডি কমে গেলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় :দুর্বলতা,হাড়ে ব্যথা,পেশীতে ভ্যথা,দুর্বলতা,কামড়ানো,ঘুমের সমস্যা,হতাশা,বিরক্তিবোধ ইত্যাদি।
ভিটামিন ডি কমে গেলে মানসিক রোগের আশংকা বেড়ে যায়। একটা পরীক্ষায় দেখা গেছে যাদের ভিটামিন ডি কম তাদের ¯স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৫গুণ বেশী সাইকোটিক লক্ষণ দেখা গেছে। ডিপ্রেশন,উদ্বেগরোগ,মনোযোগের অভাব,প্রিমেন্সট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার,মুড ডিসঅর্ডার,সিজোফ্রেনিয়া,ভুলে যাওয়া ,অনিদ্রা ইত্যাদি রোগ হয়ে থাকে। এসব রোগের মাত্রাও বেড়ে যায়।

এছাড়া ভিটামিন ডি কমে গেলে স্থুলতা,ডায়াবেটিস,হাইপারটেনশন,ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনাও বেড়ে যায়।


কি কি খাবেন ? কি করবেন?
দুধজাতীয় খাবার ,ডিম,বাদাম,বিচি জাতীয় সব্জি,ফুলক্রীম দুধ,এভোকেডো ,সিফুড,তেলযুক্ত মাছ,মাশরুম,কড লিভার অয়েল,স্যামন,টুনা মাছ ইত্যাদি খাবার ভিটামিন ডি শোষণে সহায়তা করে।

নিয়মিত রোদের মধ্যে হাঁটবেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত গায়ে রোদ লাগাবেন। ভরদুপুরের রোদে অল্প সময় থাকলেই চলে। শারীরিক পরিশ্রম বাড়াবেন।
ডাক্তারের পরামর্শ মত ভিটামিন ডি ট্যাবলেট ,ক্যাপসুল খেতে পারেন। সাধারণত ভরাপেটে এই ওষুধটি খাবেন।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়