Ameen Qudir

Published:
2019-11-30 12:04:46 BdST

মায়ের মৃত্যুর শোকে ডাক্তার কন্যার মৃত্যু: কন্যার শোকে মৃত্যুকে বেছে নিলেন পিতাও


ছবির এই মুখ ডা. নম্রতা। নম্র সুশীলা , সদা হাস্যমুখ ছিলেন। কিন্তু অজান্তে তাকে কুড়ে খাচ্ছিল নীরব বিষন্নতা। চিকিৎসক হওয়ায় আমলে নেন নি। পরে তারই জেরে তার জীবনেও ডেকে আনে অনাকাঙ্খিত স্বেচ্ছামৃত্যু। এ বিষয়ে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। নম্রতার ঘটনাও এ বছরের । লাহোরের। ফাইল ছবি।

ডেস্ক
___________________


কখনও অপ্রত্যাশিত অনাকাঙ্খিত মৃত্যু ডেকে আনে স্বজনদের সিরিজ মৃত্যুও। তেমনই চরম শোকাবহ ঘটনা এই চিকিৎসক কন্যার পরিবারে। ডা. দেবাদৃতা সাহা ছিলেন বাবার পরম আদরের। বাবা ছিলেন কন্যা অন্ত প্রাণ। আর দেবাদৃতা ছিলেন মায়েরও পরম আদরের। মাকে ভালবাসতেন। মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে অকাল মৃত্যুকে বেছে নিল দেবাদৃতা । সেই কন্যার অনাকাঙ্খিত মৃত্যু মেনে নিতে পারেন নি পিতাও । তাই নিজেও সপেঁ দিলেন প্রাণ। তিন প্রয়াণে এখন সৃষ্টি হয়েছে ট্রাজিক এপিটাফের।
মানসিক রোগাক্রান্ত মা ছয় মাস আগে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এ নিয়ে বিষন্নতা ছিল ডা. দেবাদৃতা সাহার (২৫)।
বুধবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। শোক সইতে না পেরে বাবাও ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দেন।

দেবাদৃতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। আর তার বাবা দিলীপ সাহা বিদ্যুৎ ভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

দিলীপ সাহার ভাই প্রদীপ জানান, , কেষ্টপুরের বারোয়ারিতলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী-মেয়ের সঙ্গে থাকতেন দিলীপ। দেবাদৃতার মানসিক রোগাক্রান্ত মা মধুচন্দ্রা ছয় মাস আগে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর ডা. দেবাদৃতার ইচ্ছায় ওই এলাকা ছেড়ে দেন তারা। বাবা-মেয়ে বেলঘরিয়ার যতীন দাস নগরের বাড়িতে থাকতেন। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কেষ্টপুরের ফ্ল্যাটে গিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন দেবাদৃতা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্ত্রীর পর মেয়েকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন দিলীপ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পরে খবর আসে, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
দেবাদৃতার মা মানসিক অবসাদের শিকার ছিলেন। মেয়ের অবস্থাও তাই। দুজনের পরপর মৃত্যুর পরে ভাইও চলে গেলো।

এই শোকাবহ ঘটনা কি এড়ানো যেত না !

 

এই শোকাবহ ঘটনা কি এড়ানো যেত না? প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক ও ওসিডি কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা এলগিন বলেন, এড়ানোর চেষ্টা অবশ্যই করা যেত। আর চেষ্টাই দেয় সফলতা। এক্ষেত্রে পুরো কেস স্টাডি জানা দরকার। সেটা না জেনে কিছু বলা মুশকিল। এরকম শোকাবহ কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
যেটুকু জানা গেল, তাতে মনোরোগী ছিলেন ডা. দেবাদৃতার মা । অন্য দুটো মৃত্যু তার অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর পরের ঘটনা।
প্রথম প্রশ্ন হল, ডা. দেবাদৃতার মা সঠিক চিকিৎসা পেতেন কি! তার রোগ নিয়ে পরিবার কতটা ভুগত।
আমাদের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় দেখি, বেশীর ভাগ রোগী চিকিৎসা পান না। পরিবার রোগ লুকায়। তা নিয়ে পুরো পরিবারে চলে একে অপরকে দোষারোপ। সেসব নানা পরপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
মা হয়তো চিকিৎসা পায় নি। তা সন্তানরা মেনে নিতে পারে না। তারা দোষারোপ করে বাবাকে। পুরো পরিবারে অজান্তেই বাড়তে থাকে অশান্তির ছায়া। সেই ছায়া কখন যে দীর্ঘ হয়ে সবাইকে বিষন্নতায় গ্রাস করে, সেটা কারও খেয়াল হয় না। বিষয়টি নিয়ে তাই ডাক্তার , মনোরোগ বিশেষজ্ঞর কাছে আসা উচিত।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়