Ameen Qudir

Published:
2019-03-18 21:01:40 BdST

রকেট ইস্টিমারগুলো আমরা কেমন করে পেলাম


 

অধ্যক্ষ ড. ইমানুল হাকিম
_________________________________

বাংলাদেশ'র নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে 'ষ্টিমার'র ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রায় শতবছর ধরে এগুলো চলাচল করছে।ইংরেজ রাজত্বকালে এগুলো ঢাকা-বরিশাল, বরিশাল-গোয়ালন্দ রুটে যোগাযোগ রক্ষা করতো। পূর্ব বাংলার তখনকার মানুষ এ ষ্টিমারে করে গোয়ালন্দ গিয়ে ট্রেনে কোলকাতা যেতো।প্রায় শতবছর আগে থেকে ইংল্যান্ড'র রিভার এন্ড স্টিম নেভিগেশন(RSN) কোম্পানির বৃহৎ আকারের সব ষ্টিমার চলাচল করতো এই নৌপথ দিয়ে। বাহারি নাম ছিল সে সবের। ১.ফ্লেমিংগো, ২.ফ্লোরিকান, ৩.বেলুচি ইত্যাদি। তখন দু'টি কোম্পানির নাম পাওয়া যায়।১.ইন্ডিয়া জেনারেল স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি (IGN)এবং ২.রিভার্স জেনারেল স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি (RGN)লিমিটেড।দু'টি কোম্পানিই আঠার শতকের মাঝামাঝি থেকে পৃথকভাবে বৃটিশ ভারতের নদীপথে যান্ত্রিক জলযানের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। পরে শতাব্দীর শেষদিকে এসে দু'টি প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়ে নামকরণ হয় 'ইন্ডিয়া জেনারেল নেভিগেশন রেলওয়ে কোম্পানি(IGNRC)।১৯৪৭সালে ভারত ভাগের পরও কিছুদিন এই কোম্পানি ভারত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান উভয় অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।পরবর্তীতে পাকিস্তান রিভার সার্ভিস কোম্পানি ষ্টিমার রকেট সার্ভিস পরিচালনার ভার গ্রহণ করে।মেল ষ্টিমার সার্ভিস আগে থেকেই বরিশাল-খুলনা রুটে নিয়মিত চলাচল করতো।বঙ্গবন্ধু এ পথে বহুবার যাতায়াত করেছেন।তিনি কোলকাতা যেতেন বেশীরভাগ খুলনা হয়ে।ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সর্বভারতীয় নেতারাও বরিশাল সফর করেছেন এ'ষ্টীমার'র যাত্রী হয়ে। বাংলার সুয়েজ খাল নামে খ্যাত'গাবখান চ্যানেল' কাটা হয় ইংরেজ শাসনামলে(১৯১২-১৯১৮)। সেসময়ে নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থা সহজতর ও দ্রুততম করতে এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এটির দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার।

 


সারা বিশ্বে যে ক'টি হাতে গোনা পেডেল ষ্টিমার আছে তারমধ্যে বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি অক্ষত আছে । এগুলো হল : ১.মাসহুদ, ২.অস্ট্রিচ,৩.লেপচা ও টার্ণ।অন্যটি পিএইচ গাজী এক দুর্ঘটনায় বিনষ্ট হয়।একই পরিণতি 'কিউই' ক্ষেত্রেও ঘটে শোনা যায়। শতবর্ষী এ ষ্টিমারগুলো তৈরি হয় গত শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে কোলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে। শুরুর দিকে এসব ষ্টিমারে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হত। কয়লার দ্বারা উৎপাদিত ষ্টিমে চলতো বলে এগুলোকে ষ্টিমার বলা হয়। এখন চলে ডিজেলে। আশির দশকের শুরুতে এগুলো ডিজেলে রূপান্তর করা হয়। তবু নাম রয়ে গেছে ষ্টিমার। আর কোন এক অজানা কারনে এর অন্য নাম রকেট সার্ভিস। হয়তো আগের দিনে এটি ছিল সবচেয়ে গতি সম্পন্ন। তাই এই নামকরণ।

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়