Ameen Qudir

Published:
2019-01-20 11:20:26 BdST

ভ্রমণাভিজ্ঞতাচলো যাই নৈনিতাল: ৮,০০০ রুপীর রুম মাত্র ২,২০০ রুপী!


 

 

ডেস্ক
__________________________

ঢাকা থেকে এক উড়ানেই নয়াদিল্লী; জেট এয়ার
সরাসরিই নিয়ে যাবে। ইন্ডিগোতে উড়ে কলকাতা হয়েও ডোমেস্টিকে যাওয়া যায়। তাতে বিমান খরচ কম পড়ে। চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা হয়ে যাওয়া যাবে।
এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে, ট্রেনে কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে কাঠগোদাম যেতে হবে। কাঠগোদাম থেকে বাসে বা ট্যাক্সিতে করে এক ঘণ্টার পথে যাওয়া যায় শৈল শহর নৈনিতালে।

উত্তরাখন্ডের জনপ্রিয় শৈল শহর নৈনিতাল। ‘ভারতের হ্রদ জেলা’ বলা হয় নৈনিতালকে। এখানকার শান্ত ও মনোরম সৌন্দর্য এবং হ্রদের শোভা পর্যটকদের আকৃস্ট করে। রাশকিন বন্ড, জিম করবেট ও ব্রিটিশ অভিনেতা এরিক মাটুরিন-র মতো কিংবদন্তিদের সংযোগসূ্ত্র নৈনিতালকে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের জায়গা করে তুলেছে। মার্চ ও জুন মাস নৈনিতাল বেড়ানোর সেরা সময়।

নৈনিতালের আকর্ষণ নৈনি লেক। নৈনিতাল লেক নামেও সুপরিচিত। লেকটির উত্তর প্রান্ত মল্লিতাল নামে পরিচিত, দক্ষিণ প্রান্তটির নাম তাল্লিতাল। লেকের মধ্যে নৌকো চালচল করে। আপনিও প্যাডেল-বোট, রো বোট বা য়্যাট ভাড়া নিতে পারেন এবং লেকটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এছাড়া হ্রদের চারপাশে হাঁটাহাঁটি ক্রলেও মন ভরে যাবে। এরপর চলুন মল রোডে। লেক বা হ্রদটির উত্তর প্রান্তকে তার দক্ষিণ প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এই জায়গা। কিছু মাসের জন্য, রাস্তায় সব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে রাস্তার সমগ্র প্রসারণ জুড়ে হাঁটা এবং ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ হয়ে যায়। মল রোডে শৌখিন দ্রব্যের দোকান, রেস্তোঁরা, হোটেল এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে।পাশেই রয়েছে নয়না দেবী মন্দির। মন্দিরটি মা নয়না দেবীর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। যিনি দুটি নয়নের দ্বারা প্রতিস্থাপিত। একবার একটি ধসে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর নয়না দেবী মন্দিরটিকে পুনর্নির্মিত করা হয়। নৈনিতাল লেকের উত্তর প্রান্ত বরাবর অবস্থিত এবং তার ইতিহাস ও প্রস্তাবিত সুন্দর দৃশ্যের জন্য পর্যটক ও উপাসকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

 

এবার দেখে নিন নৈনিতাল চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১00 মিটার (৬৮৯0 ফুট) উচুঁতে অবস্থিত। উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলের বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৪ সালে এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পঞ্চাশটিরও বেশি প্রজাতির মুক্ত পরিসর পাখি দেখা যায়। যেমন– বাবলার, টিট, ম্যাগপি, জেয়, বারবেট, কাঠঠোকরা, থ্রাশে, কালিজ ফিজেন্ট, পাহাড়ি তিতির, হিমালয়ান গ্রিফন ও লাম্যেরজিয়ার শকুনি ইত্যাদি। পাখি পরিদর্শকের জন্য একটি স্বর্গোদ্যান ছাড়াও এটি বহু জীবজন্তুর আবাসস্থল। এখানে চিতাবাঘ, রোজ রিং টিয়া ও পার্বত্য শিয়াল, তিব্বতি নেকড়ে, সাম্বার, চিতা বিড়াল, হিমালয়ের ভালুক এবং আরোও অনেক কিছুর থাকাটাও কঠিন কিছু নয়। চিড়িয়াখানাটি অমসৃণ ভূ-খণ্ড জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে এবং এটির দেখার জন্য অনেকটা আরোহণ প্রয়োজন। দর্শকদের আরামপ্রদ জুতো পরতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

এবার স্নো ভিউ পয়েন্টে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২৭0 মিটার (৭৪৪৮ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ। নন্দাদেবী-সহ পারিপার্শ্বিক অঞ্চলের এক মনোরম দৃশ্য পরিদর্শন করুন। এরিয়্যেল রোপওয়ে চেপে প্রকৃতির স্বাদ নিন। এই কেবেল কার স্নো ভিউ পয়েন্টকে নৈনিতালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। হাতে সময় থাকলে যেতে পারেন রাজ ভবন। উত্তরাখন্ড গর্ভনরের আধিকারিক বাসভবনটিতে ইউরোপীয় স্থাপত্যের নিদর্শন ঝরে পড়ছে। ঊনবিংশ শতকে তৈরি ভবনটি গথিক স্থাপত্যশৈলীতে ভরা এবং প্রায় ২0৫ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়াও এখানে একটি সুইমং পুল, একটি বিশাল বাগান ও সেইসঙ্গে একটি গল্ফ ক্ষেত্রও রয়েছে। তাই ইতিহাসে আগ্রহী দর্শকদের জন্য নৈনিতাললের একটি অবশ্য-দর্শনীয় স্থান রাজ ভবন।

_________________________

 

পর্যটক সজল জাহিদের ভ্রমণাভিজ্ঞতা

ভ্রমণশিল্পী ও পর্যটক সজল জাহিদ এক অনন্য ভ্রমণাভিজ্ঞতায় জানান,

লেকের পাড়ে গাড়ি রেখেই প্রথমে ছুটলাম দুই দিনের জন্য একটি মান সম্মত হোটেল বা থাকার জায়গা খুঁজে পেতে। যদিও বাজেট একটা বড় ব্যাপার। কারণ আমাদের বাজেট সাধারণত ১,২০০-১,৫০০ এর মধ্যেই আমরা রাখার চেষ্টা করি। যদিও কখনো কখনো এই বাজেট বেড়ে যায় সেটা আমরা মাথাতে রাখি আর এই জন্যই চেষ্টা করি ১,২০০ এর নিচে যদি পাওয়া যায়! কিন্তু নৈনিতালে যে ১,০০০ টাকায় কোনো হোটেল পাবো না সেটা এই শহরে ঢুকতেই বেশ বুঝতে পারছিলাম।
নানক হোটেলের বেলকোনিতে গিয়ে তো আরও বেশি করে আফসোসে পুড়েছিলাম যে ইশ এই হোটেলে থাকতে পারলে কী দারুণ-ই না হতো। কারণ বেলকোনিতে দাঁড়ালেই পুরো নৈনিতালের টলটলে জলের, ঝলমলে হাসিতে হেসে থাকা রূপালী জলের লেক আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যার চার দিকেই পাহাড়ের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত সব সময়। আর পাহাড়ের ঢালে ঢালে রয়েছে নানা রকমের স্থাপনার আকর্ষণ। কিন্তু সেই সব দেখে, কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই নিচে নেমে এলাম। দেখেছি যেহেতু, ভাড়াটা জিজ্ঞাসা করেই যাই একবার। মন তো মানবে যে এত ভাড়া দেবার সাধ্য আমাদের নেই।


ভাড়াটা আসলেই আমাদের ভাবনার চেয়েও বাইরে। অনেক অনেক বেশী। ৮,০০০ রুপী একটি চার বেডের রুমের ভাড়া। উহ, শুনেই পারলে সাথে সাথেই নেমে যাই। কিন্তু আমাদেরকে ভীষণ অবাক করে দিয়ে হোটেলের ম্যানেজার জানালো তবে সেটা শুধু পিক আওয়ারে। মানে যখন রুমের চাহিদা বেশী থাকে। যেটার শুরু হবে ২৫ ডিসেম্বর মানে বড় দিনের শুরু থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে আমরা যদি চাই তবে ২৩ আর ২৪ ডিসেম্বর এই দুই দিনের জন্য ২,২০০ রুপীতেই নিতে পারবো! দুই পরিবারের জন্যই চার বেডের এক বিশাল রুম! সত্যি শুনলাম কিনা জানি না। কিছুটা না, ভীষণই অবাক হয়েছি। ভাবা যায় ৮,০০০ রুপীর রুম মাত্র ২,২০০ রুপীতে দিতে চায়!



তারপরেও সুযোগ যেহেতু পেয়েছি-ই, তাই অভ্যেস বশত আবারো সেই দরদাম করে ২,২০০ এর পরিবর্তে ২,০০০ রুপীতে ঠিক করে ফেললাম অভিজাত নৈনিতালের এক অভিজাত হোটেলের দারুণ মনকাড়া, মন ভালো করা ঝকঝকে থাকার জায়গা। হোটেল নানকে।
_______________________


নৈনিতালে দেখার মতো আরও রয়েছে নয়না শৃঙ্গ। চায়না শৃঙ্গ বা চিনা শৃঙ্গ নামেও পরিচিত নয়না শৃঙ্গ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৬১৫ মিটার (৮৫৭৯ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি শহরের সর্বোচ্চ কেন্দ্র। শৃঙ্গটি সমগ্র এলাকার অত্যাশ্চর্য দৃশ্য পরিদর্শনের প্রস্তাব দেয়। এই শৃঙ্গে পৌঁছাতে, আপনাকে ৬ কিলোমিটার হাঁটতে হবে অথবা মল্লিতাল বা স্নো ভিউ পয়েন্ট থেকে কোনও টাট্টু ঘোড়া চেপে যেতে হবে। এরপর চলে আসুন টিফিন টপ। এটি একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। ২২৯২ মিটার (৭৫১৯ ফুট) উচ্চ আয়ারপট্টা পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। এখানে, ইংরেজ চিত্রশিল্পী, ডরোথী কেল্যির এক স্মারক হিসাবে ডরোথীর উপবেশনটিও দেখ নিতে পেতে পারেন। বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর এটি তাঁর স্বামী ও স্বজনরা নির্মাণ করেছিলেন।

এবার অবশ্যই দেখুন জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক। এটাই ভারতের পুরনোতম জাতীয় উদ্যান। সুবিশাল করবেট ব্যাঘ্র সংরক্ষণের একটি অংশ জুড়ে। উদ্যানটির ভেতরে, যে কেউ অসংখ্য পশুদের দেখা মিলবে। যেমন- হাতি, চিতল, বাদুড় ও বাঘের পাশাপাশি কিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী যেমন ভোঁদড় ও মৎস্যভূক কুমীর। জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে পাহাড়, জলাভূমি বিশিষ্ট প্রাকৃতিক অবনমন, নদীতীরের অঞ্চল, তৃণভূমি ও একটি সুবৃহৎ হ্রদ রয়েছে। ৬৫0-এর বেশি প্রজাতির বাসিন্দা ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল। পাখি পরিদর্শককারীদের কাছেও এই উদ্যানটি স্বর্গভূমি। এবার আপনাকে যেতে হবে ভীমতালে। নৈনিতাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভীমতাল। প্রাচীন মহাভারতের যুগে জায়গাটির বর্ণনা রয়েছে। সেই ইতিহাস থেকে সরে এসেও, ভীমতালের জনপ্রিয়তা। কারণ, নির্জনতাপ্রিয় প্ররযটকদের কাছে এটি আদর্শ জায়গা।সবশেষে সাততাল ঘুরুন। একসঙ্গে সাতটি পারস্পরিক হ্রদের জন্য সুবিখ্যাত।

আর কোথায় থাকবেন:
হোটেল সুখতাল, ফোন- ০৫৯৪২-২৩৫৪০০। হোটেল তাল্লিতাল, ফোন- ০৫৯৮২-২৩৫৫৭০। হোটেল স্নো ভিউ ০৫৯৪২-২

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়