Ameen Qudir

Published:
2018-11-28 11:13:38 BdST

ঢাকা কলকাতা বিলাসবহুল জলজাহাজ নামছে মার্চে, দক্ষিণের কোচি,ত্রিবান্দ্রাম আগামীতে


 



ভারতবর্ষে কোচি থেকে সাগর স্বর্গ লাক্ষ্যাদ্বীপে এ ধরণের জলপথের বিলাসভ্রমণ অনেক আগে থেকেই চালু। সে আঙ্গিকেই ঢাকা কলকাতা বিলাস জাহাজ নেয়া হচ্ছে।

সুদীপ্তা সালাম
____________________________
বিলাসবহুল জলভ্রমণের জন্য আর সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া যেতে হবে না। এশিয়ার সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড মিলিয়ে যেমন সাগর ছুঁয়ে নদী ও সাগর ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়, সেসবে উঠতে ঢাকা থেকে উড়ে যেতে হয় সিঙ্গাপুর; এবার সে খরচ ছাড়াই আমাদের উপমহাদেশেই সাগর, নদী শহর, বন্দর দেখার জলভ্রমণের ব্যবস্থা হচ্ছে। আসছে বছরের শুরুতেই জলে নামবে বিলাসবহুল জাহাজ। তাতে থাকবে সবরকম আধুনিক আনন্দ বিলাসের উপকরণ।

 

২০১৯ সালের মার্চ থেকেই শুরু হবে এই ‘রিভার ক্রুজ’, এমনটাই জানাচ্ছে ‘ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (আইডবলিউএআই)। ভারতবর্ষে কোচি থেকে সাগর স্বর্গ লাক্ষ্যাদ্বীপে এ ধরণের জলপথের বিলাসভ্রমণ অনেক আগে থেকেই চালু। সে আঙ্গিকেই ঢাকা কলকাতা বিলাস জাহাজ নেয়া হচ্ছে।

দু-এক দিনের সুন্দরবন ভ্রমণ তো প্রায়শই গিয়ে থাকি আমরা। কেউ উড়ে যাই আরও দূরে উপমহাদেশ ছাড়িয়ে। কিন্তু এবার আস্ত সুন্দরবনটাই যদি ঘোরার সুযোগ হয়, কিংবা ঢাকা থেকে আসাম পূর্ব ভারত ঘুরে চলে যাই দক্ষিণ ভারতে!। ঢাকায় যাত্রা শুরু; নোঙর গিয়ে তিরুবনন্তপূরম বা ত্রিবান্দ্রামে। তা হলে! সব প্লান পাকাপাকি হচ্ছে। শুরু হচ্ছে এপার বাংলা ওপার বাংলা মিলিয়ে।

দুই বাংলার জলপথে ভেসে, কলকাতা থেকে সটান ঢাকা যাওযার সুযোগ মিলবে এ বার।

সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতা-সুন্দরবন রুট ধরে বাংলাদেশ পৌঁছবে এই ক্রুজ। তার পরে যাবে আরও উত্তর-পূর্ব দিকে। এই জলপথ ঠিক হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে।

এই জলপথে প্রতি দিনই ১৫ থেকে ২০টি বার্জ চলাচল করে। মূলত তাতে ফ্লাই-অ্যাশ থাকে যা ভারত থেকে বাংলাদেশ নিয়ে যাওয়া হয়। এই তথ্য জানিয়েছেন আইডব্লিউএআই-এর এক সদস্য এসভিকে রেড্ডি। ফলে, ক্রুজ চলাচলে কোনও অসুবিধাই হবে না।

 

কলকাতা থেকে শুরু করে, ঢাকা পৌঁছতে ছ’দিন লাগবে বলে জানা গিয়েছে। মাথা পিছু খরচ পড়বে ৬০ হাজার টাকা। শুধু থাকা-খাওয়াই নয়, ক্রুজে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য থাকবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ ছাড়া, সুন্দরবন অঞ্চলের নানা জায়গায় থাকবে রাত্রিবাসের সুবিধা। এপার বাংলার সুন্দরবন অঞ্চল পেরিয়ে ওপার বাংলার বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ হয়ে ক্রুজ পৌঁছবে ঢাকায়।

ভারতের উত্তর-পূর্ব দিকের রুট ধরলে, অসমের ধুবুড়ি হয়ে চাঁদপুর ঢুকবে রিভার ক্রুজটি। শুরু হচ্ছে বাংলা ও আসামে। তারপর দক্ষিণের কোচি,ত্রিবান্দ্রাম, কেরালাতেও আমরা যাব।

আইডবলিউএআই-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রাতে ক্রুজ চললে, তার জন্য থাকবে বিশেষ নেভিগেশন পরিষেবা। ভারতের সীমা পর্যন্ত এ দেশের আধিকারিকরাই তা করবেন। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরে, বাংলাদেশও রাজি হয়েছে রাতের এই পরিষেবা দেওয়ায়।

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়