Ameen Qudir

Published:
2018-11-28 14:57:21 BdST

শুনে এলাম হিরোশিমার কান্না


 

 

ডা. মোহাম্মদ সাঈদ এনাম
_____________________________

এক.

সিজুকা কানে কানে বললো, 'সাদাকো জানো, তুমি যদি কাগজ দিয়ে একহাজার সারস পাখি বানাতে পারো তাহলে তুমি সৃষ্টিকর্তার কাছে একটা কিছু চাইতে পারবে, এবং তিনি তোমার সে চাওয়া পুরণ করবেন'।
বান্ধবীর মু্খে কথাটি শুনে সাদাকো'র চোখ চনমনে হয়ে উঠে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে সাদাকু একেবারে ভেংগে পড়েছিলো। তার আর কিছুই ভাল্লাগছে না। তবে সে কাউকে বুঝতে দেয়না। সবার সাথেই চায় হাসি মুখে কথা বলতে। দুরারোগ্য রোগে ভুগলে যা হয়। এমন কি এক সময় খাবার দাবারের প্রতি অরুচি চলে আসে। সাদাকুর মা বাবারা চাইতেন মেয়েটিকে সব সময় ভালো কিছু খাওয়াতে। তার অন্তিম সময়।

কিন্তু সাদাকু প্রায় সময় বলতো,
'মা আমাকে গ্রীন টি সাথে ভাত দাও। ওটা আমার খেতে খুব ভালো লাগে। মন জুড়ে যায়...'। সাদাকু তার চোখের জল আড়াল করে। হাসপাতালের বিছানায় শায়িত কাউকে 'কি খেতে ভালো লাগে ' এ প্রশ্নটির গভীরতা সে বুঝে।

সাদাকু প্রচণ্ড ধৈর্যশীল, তার জন্যে কারো কস্ট হোক এটা সে চায়না। তাইতো মামনি 'তোমার কি খেতে ইচ্ছে করছে' বললেই সে বলতো হাসপাতালের সব চেয়ে কমদামী এবং সহজ লভ্য খাবারটির নাম,
'মা চা এবং ভাত আনতে পারো, আমার খুব ভালো লাগে, মন জুড়ে যায় খেলে মাগো...' । এটা সাদাকোর মা বুঝতেন। তার জানতেন এ মেয়েটি যেনো তেনো মেয়ে নয়। সাক্ষাৎ বিধাতার ছায়া। ছোট বেলা দুই বছর বয়সে তাঁকে তিনি হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে পেয়েছেন। সাদাকো চায়না তার ইচ্ছা পুরণে কারো কস্ট হোক।

হাসপাতালে রুগীর সাথে থাকলে অনেকেই কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। স্বাভাবিক, প্রিয়জনের দুশ্চিন্তায় , নাওয়া খাওয়ার অভাবে। সাদাক'ুর আম্মুর ও ইদানিং মাঝেমধ্যে মাথা ব্যাথা হয়। একদিন মাথাব্যথায় কিছুটা দূর্বল হয়ে তিনি সাদাকুর বেডের পাশে শুয়ে পড়লেন।

তন্দ্রা ভেংগে উঠেই দেখলে, সাদাকু বিছানায় নেই।
একটু পরেই ক্র‍্যাচের উপর ভর করে ধীরে ধীরে রুমে ঢুকলো সাদাকো। তার এক পা প্রচণ্ড রকম ফুলে গেছে। লিউকেমিয়ায় অনেক সময় হাত, পায়ের লিম্ফনোড গুলো ফুলে যায়া এবং লিম্ফেটিক সার্কুলেশন বন্ধ হয়ে এমন হয়। সাদাকুর সারাগায়ের লিম্ফনোড গুলো ফুলতে শুরু করেছে।

মা শংকিত হয়ে জিগ্যেস করলেন, 'মামানি, তুমি কোথায় গিয়েছিলে, ডাক্তার না তোমাকে উঠতে বারন করেছেন?!'।
'আম্মু তোমার জন্যে মাথা ব্যথার ওষুধ কিনতে গিয়েছিলাম...', সাদাকো জবাব দেয়।

মা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন বোবা কান্নায়,
'তুই এতো ভালো কেনোরে মা....'।

সাদাকো স্কুলের সেরা ছাত্রী, পড়াশুনা এবং খেলাধুলায়। সে ক্লাস ক্যাপ্টেন। তার নেতৃত্বে স্কুলের খেলার টিম বেশক'বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
একদিন খেলতে গিয়ে দুর্বল হয়ে মাঠে পড়ে যায় সে। সবাই ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেই থেকে আজ কয়েক মাস হয়ে গেলো সাদাকো হাসপাতালে।

সিজুকা তার বান্ধবী, তাকে প্রায়ই দেখতে আসে। সময় কাটায়, গল্প করে। হাতে এটা ওটা থাকে, পুতুল বা খেলনা। অন্যান্য বান্ধবীরাও আসে তাকে রোজ দেখতে হাসপাতালে। আজ সিজুকা রংগীন কাগজের একটি সারস নিয়ে পাখি নিয়ে এসেছে। ফিস ফিস করে বললো,

'কেউ যদি ছোট ছোট কাগজ দিয়ে এক হাজার সারস বানাতে পারে তাহলে সে একটি ইচ্ছা ব্যক্ত করতে পারবে সৃস্তিকর্তার কাছে, আর সৃস্টিকর্তা তার সেই একটা ইচ্ছা পুরন করবেন...'।
কথাটি শুনে সাদাকোর মন চনমনে হয়ে উঠে।

সাদাকো তার বাবাকে জিগ্যেস করে, 'আব্বু কেউ যদি কাগজ দিয়ে এক হাজার সারস বানাতে পারে তাহলে সৃষ্টিকর্তা নাকি একটি প্রার্থনা কবুল করেন, এটা কি সত্যি..?'

সাদাকুর বাবা মাথা নেড়ে বলেন 'হ্যা মা। আমিও তাই জানি'।
তাহলে বাবা, 'আমি এক হাজার সারস পাখি বানাতে চাই, আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে একটা মানত করবো'।
বাবা আর কিছু বলেন না। কান্না লুকাতে তিনি আলতো পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় চলে যান।

বান্ধবী সিজুকার কথায় সাদাকো কাগজ দিয়ে সারস পাখি বানাতে থাকে একটা একটা। জাপানে একটা লোকগাথা কথা প্রচলিত আছে, নিভৃতে মনের কোনে আশা পোষণ করে, কেউ যদি একহাজার কাগজের সারস পাখির মালা বুনে সৃস্তকর্তার নিকট কিছু চায়, সৃষ্টিকর্তা তার সে চাওয়া পুরন করেন।

সাদাকো তাই হাসপাতালে তার বিভিন্ন ওষুধের মোড়ক, এবং পাশের কেবিনের রোগীদের ওষুধ ও টুকিটাকি কাগজ পড়ে থাকে এগুলো নিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে সারস পাখি বানাতে শুরু করে। আমাদের বাচ্চারা যেভাবে কাগজের খেলনা নৌকা বানায় ঠিক ওরকম আরকি।

দেহের প্রচণ্ড রক্তশুন্যতা নিয়ে সাদাকো পারেনা, তারপর ও সে চেষ্টা করছে। এক হাজার সারস তাকে বানাতেই হবে। তার একটি চাওয়া আছে সৃস্টিকর্তার নিকট। ব্লাড ক্যন্সারে আক্রান্ত সাদাকার শরীর ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছে। চোখেও ঠিকমতো দেখতে পায়না। তবুও সে থেমে থাকেনা।

তাকে সারস বানাতে সাহায্য করে তার স্কুলের বান্ধবীরা। রোজ স্কুল শেষ করে তারা চলে আসে হাসপাতালে, সাদাকুর কেবিনে। সেখানে বসে বসে তারা সাদাকুর সাথে গল্প করে আর সারস পাখি বানাতে সাদাকু'কে সাহায্য করে।
সিজুকা বলে,

'একহাজার সারস বানানো শেষ করেই তুমি কিন্তু সৃস্টিকর্তার কাছে তোমার আরোগ্য কামনা করবে, সাদাকু। আমরা তোমাকে চাই। আমাদের স্কুলের সবাই তোমার জন্যে মনমরা হয়ে বসে থাকে। সবাই তোমার সুস্থতার জন্যে প্রার্থনা করে, অপেক্ষা করে, তুমি কবে আসবে। তুমি তাড়াতাড়ি সেরে উঠো সাদাকু, তুমি আমাদের সেরা বান্ধবী...'।

দুই.

ছয় ই আগস্ট ১৯৪৫ সাল, সকাল আট'টায় আমেরিকা যখন এটম বোমা 'লিটল বয়' ফেলে হিরোশিমায়, তখন সাদাকুর বয়স মাত্র দুই বছর। তখন সে কেবল মায়ের কোলে বসে নাস্তা খাচ্ছিলো। বোমার আগুন ঝরা ঝাপ্টা বাতাসে মায়ের কোল থেকে সে জানালা দিয়ে ছিটকে পড়ে দূরে পড়ে। যদিও বোমার বিস্ফারণ স্থল থেকে তাদের বাড়ি ছিলো দেড় কিলো মিটার দূরে তথাপি প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে এটম বোমা লিটল বয় এর আগুন ঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। দেড় লক্ষ মানুষ মুহুর্তে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, যে যেখানে আছে ওভাবেই।

খুঁজতে খুঁজতে সাদাকু কে তার মা খুঁজে পান অনেক দূরে ধ্বংসস্তূপের নীচে, কান্নারত, আহত। তিনি নিজেও ঝলসে গেছেন। সারাদিন মেয়েকে খুঁজেখুঁজে হাল ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। ভেবেছিলেন তার আদরের কন্যা বুঝি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কিন্তু এভাবে হঠাৎ ধ্বংস স্থুপের মাঝে ঝলসানো, আহত মেয়েকে খুঁজে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন মা, আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি অকৃত্রিম শুকরিয়া জানাতে লাগলেন। বিধাতার অসীম দয়া, তার মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

মা মেয়ে দুজনেই ধীরে ধীরে সেরে উঠলেন। পুরো হিরোশিমা শহর পুড়ে ছাই, ধ্বংস স্থুপ, অচেনা চারিদিক। যুদ্ধ শেষ হয়। হিরোশিমার ধুয়োয় ঢেকে যাওয়া কালো আকাশ ধীরে ধীরে সাদা হয়। হিরোশিমা, নাগাসাকি তথা পুরো জাপানবাসী অসীম ধৈর্য আর সাহস বুকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়, পুনরায় দেশ গড়ার।

সাদাকো সুস্থ হয়, স্কুলে ভর্তি হয়। ক্লাস ফোরে উঠে। সে খুব ভালো ছাত্রী। পড়াশোনা, খেলাধুলা সব কিছুতেই এক নম্বর। কতখনো কেউ বুঝতে পারেনি এটম বোমার আগুন হয়তো সাদাকো'র জীবন কেড়ে নিতে পারেনি, কিন্তু তার তেজষ্ক্রিয়তার কনা যে চোরকাটার মতো মিশে গেছে তার রক্তে।

যুদ্ধের পর সাদাকো'র মতো অনেক শিশু যুবক বৃদ্ধবৃদ্ধার রক্তে তেজষ্ক্রিয়তার লক্ষন ধীরে ধীরে দেখা দিতে লাগলো। এটম বোমার আক্রমনে যত লক্ষ আবালবৃদ্ধবনিতা মারা পড়লেন, তার চেয়ে ঢের বেশি মারা যেতে থাকলেন বোমার তেজস্ক্রিয়ায় ক্যান্সার সহ নানাবিধ জটিল রোগে।

যাহোক, সাদাকো'কে হাসপাতালে ভর্তি করার পর ধরা পড়লো তার ব্লাড ক্যান্সার। এটম বোমার অগ্নিঝড়ে সেদিন সে বেঁচে গেলেও বোমার তেজস্ক্রিয়তায় তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্লাড ক্যান্সার, একিউট লিউকেমিয়া। ব্লাড ট্রান্সফিউশন করা হচ্ছে। কিন্তু শরীরটা খারাপের দিকে যাচ্ছে ক্রমাগত।

রোজ তার বান্ধবীরা তাকে দেখতে আসে, ফুল বা খেলনা নিয়ে। আজ দেখতে এসছিলো সবচেয়ে কাছের বান্ধবী সিজুকা। সিজুকা কোথায় পড়েছে, সুস্থ হবার জন্যে বা কোন কাজে সফল হবার জন্যে এক হাজার কাগজের সারস পাখি বানিয়ে কায়মনোবাক্যে সৃস্টিকর্তার কাছে মানত করলে তা তিনি পূর্ন করেন।।

এ শুনে সে শুনে আর স্থীর থাকতে পারেনি। দৌড়ে এসেছে হাসপাতালে বান্ধবীর কাছে। যে ভাবেই হোক এক হাজার সারস পাখি তারা বানাবে, সারস পাখির মালা বানিয়েই সৃষ্টিকর্তার কাছে মানত করা হবে, সাদাকা যেনো তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।

মারাত্মক অসুস্থ শরীর নিয়ে সাদাকা বসে নেই। বিছানায় শুয়ে শুয়ে অসীম ধৈর্য নিয়ে সে কাগজের সারস পাখি বানাতে থাকে। তার বান্ধবীরা কাগজ যোগাড় করে আনে স্কুল থেকে। তাদের চোখেমুখে রংগীন স্বপ্ন, সুস্থ হয়ে সাদাকা আবার স্কুলে এসেছে, আবার পড়াশুনা আর খেলাধুলোয় সে সবাই কে মাতিয়ে রাখছে।

এরই মধ্যে সাদা প্রায় ৬৪৪ টি কাগজের সারস পাখি বানিয়ে ফেলেছে। সব গুলো সাজিয়ে রেখেছে তার কেবিনে। রোজ স্কুল শেষ করে তার বান্ধবীরা এসে তাকে সাহায্য করছে সারস বানাতে। এইতো আর মাত্র কয়েকটা। তারপর এক হাজার পুরন, এবং সৃস্টিকর্তার কাছে একটা মানত করা অত:পর সে মানত পুরন।

পঁচিশ অক্টোবর সকালে সাদাকো প্রচণ্ড রকমের ওসুস্থ হয়ে পড়ে। তার হাতে সারস বানানোর কাগজ, কিন্ত সে আর বানাতে পারছেনা। মা বসে আছেন পাশে তিনিও দ্রুত সারস পাখি বানাচ্ছেন। জলদি এক হাজার সারস বানিয়ে ফেলতে হবে। আর সময় নেই। সাদাকার শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। তার চোখ স্থীর হয়ে আসছে।

খবর পেয়ে স্কুলের বান্ধবীরাও সারস বানানো শুরু করছে। দ্রুত খুব দ্রুত...। আর মাত্র কয়েকটা হলেই এক হাজার।

এদিকে সাদাকো আর কথা বলছে না। শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছেনা...। সে অস্পষ্ট স্বরে কি যেনো বলতে চাইলো তাঁর মাকে। মা ঠোটের কাছে কান পেতে শুনতে চাইলেন।

"মাগো, তোমরা একহাজার সারস পাখি বানাও আমার জন্যে, "আমি খোদার কাছে মানত করছি আর যেনো কোনদিন পারমানবিক যুদ্ধ না হয়, এ পৃথিবীতে যেনো হয় শান্তিময় .....এ আমার একটাই মানত "।

সাদাকা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। তার বান্ধবীরা দলে দলে ছুটে আসে স্কুল থেকে। সবার হাতে কাগজের লাল নীল সারস। কিন্তু সাদাকা নেই। সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর কাগজের সারস পাখি হাতে মানত করে গেছে, "আর যেনো এটম বোমার আঘাতে না হয়। আর যেনো পৃথিবীতে যুদ্ধ না বাঁধে"।

এক হাজার সারস সহ সাদাকা কে সমাহিত করা হয় হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল সামনেই। স্কুলের সকল বন্ধুবান্ধবীরা মিলে পয়সা যোগাড় করে তার স্মরণে তৈরী করেছে ছোট সমাধি।

পরবর্তিতে সেখানেই তৈরি করা হয়েছে তার প্রতিকৃতি, হাতে অসংখ্য সারস পাখি। পাথরে খোদাই করে লেখা রয়ে,
"এ আমাদের কান্না, এ আমাদের প্রার্থনা, পৃথিবী হোক শান্তিময়"।

সমগ্র জাপানের শিশুদের কাছে সাদাকো অসীম সাহসী তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে আক্রান্ত ব্লাড ক্যান্সারের আর পারমানবিক যুদ্ধ বন্ধের জন্যে লড়ে যাওয়া এক কিংবদন্তীরর নাম। মৃত্যুর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থেকেও কাগজের হাজার সারস বানিয়ে যে মানত করেছিলো , "আর পারমানবিক যুদ্ধ নয়, আর শিশু মৃত্যু নয়, পৃথিবী হোক সবার জন্যে শান্তিময়"।

১৯৪৫ সালে এটম বোমা হামলার পর বারাক ওবামাই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি জাপান সফরে যান, সেখানে গিয়ে সজল নয়নে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন সাদাকোকে সমাহিত করা প্রতিকৃতির সামনে। ওবামার হাতে তুলে দেওয়া হয় কয়েকটি কাগজের সারস।

সেই কাগজের সারস পাখি যা জাপানিজ দের কাছে শান্তির প্রতীক, সৌভাগ্যের বিবেচিত তা রয়েছে ৯/১১ এ ধ্বসে পড়ে টুই টাওয়ারের পাদদেশে সেদিন যারা মারা গিয়েছিলো তাদের স্মরণে, রয়েছে পার্ল হারবারে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান যিনিই প্রথম পারমানবিক যুদ্ধের সুচনা করেছেন তার লাইব্রেরী "ট্রুম্যান লাইব্রেরী এন্ড মিউজিয়ামে"। ট্রুম্যান এর দৌহিত্র ক্লিফটন ট্রুম্যান ড্যানিয়েল এর ব্যবস্থা করেছেন।

আমি আর ডা. যুবায়ের ভাই যখন হিরোশিমার সাদাকার সমাহিত স্থানে "চিলড্রেন পিস মনুমেন্ট" এর সামনে দাঁড়িয়ে তখন দেখলাম স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থী এসে প্রার্থনা করছে। তাদের সাথে রয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। প্রতিদিন কোন না স্কুলের শিক্ষার্থীরা আসছে সেখানে। হাতে হাজার কাগজের সারস পাখি। তারা হাত তুলে শপথ করছে....।
"এ আমাদের কান্না,
এ আমার প্রার্থনা,
এ শান্তির জন্যে।
আর নয় পারমানবিক যুদ্ধ,
আর নয় হানাহানি
পৃথিবী হোক শান্তিময়"।

আমরা তাদের সাথে ছবি তুললাম, কায়মনোবাক্যে তাদের শপথ পাঠ গান ভিডিও করলাম, আমরা দুজনেও তাদের সাথে সাথে নীরবে একটি শান্তিময় পৃথিবীর শপথ নিলাম।
_______________________________

 

ডা. মোহাম্মদ সাঈদ এনাম
সাইকিয়াট্রিস্ট

মেম্বার,আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন
মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন।

 

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়