Ameen Qudir

Published:
2016-11-28 13:32:39 BdST

শীতে গরমাগরম ঘুরে আসুন তিন চুল্লী


 

 

আহির ফা হিয়ান বুবকা
______________________________
ভ্রমণের তিন শর্ত ।
জায়গাটা হওয়া চাই স্বর্গ। মনোরম।
খরচটা চাই কম কম।
কম সময়ে যেন ঘুরে আসা যায়।
একদম   তিন শর্তই পূরণ করছে তিনচুল্লী।
খুব দূরে নয়। কাছে।
দার্জিলিং যাওয়া বাংলাদেশীদের জন্য ডাল ভাত। যে কোন ট্যুরিস্ট স্টেতেই বরিশাল নোয়াখালি চাটগাইয়া ভাষাভাষীদের গলা হরদম শোনা যায়।
ইন্ডিয়ান ভিসা করা থাকলে খরচ তেমন কি। ১৫-১৮ হাজার টাকায় কয়েকটা দিন একদম পাখির ডানার মত ফুর ফুরে।

দার্জিলিংয়ের প্রত্যন্ত প্রান্তে ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট গ্রাম তিনচুল্লী । নামের মানে, তিনটে চুলা বা চুল্লি! গ্রামটা এখন ইকো-আরবান ভিলেজ।

১৭টি পরিবার নিয়ে ফ্লোরিকালচার, ফরেস্ট নার্সারি । সাসটেনেব্‌ল ভিলেজ ট্যুরিজম গড়ে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তিনচুল্লিতে ।

শীত শুরুর মরসুমেই যদি ঘুরে আসতে পারেন তিস্তার পাশের এই গ্রামে, আবহাওয়া আর চোখজুড়নো ফুলের বাহার— দুই-ই পাবেন।

 

তিনচুল্লির বিশেষত্ব , এখন থেকে পুরো হিমালয়ান রেঞ্জের একটা ১৮০ ডিগ্রি ভিউ । কাঞ্চনজঙ্ঘার চোখ ঝলসানো সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা কমই আছে। গুম্বাদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে যেমন দেখা যায় তিস্তার অপূর্ব রূপ। ছবি-শিকারিদের জন্য স্বর্গরাজ্য তিনচুল্লি।
বিশেষ করে যদি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের ছবি তুলতে চান। নভেম্বর-ডিসেম্বরে গেলে আকাশ পরিষ্কার পাবেন। শীতের বাহারি ফুলের ছবি তুলতে চাইলে লেন্স তৈরি রাখতে হবে কিন্তু। পাখির ছবি তুলতে ভালবাসলেও এখানে যেতে হবে আপনাকে। বার্ড ওয়াচিং সেন্টারে ঢুকে পড়ুন সোজা।

তিনচুল্লি গেলে সেখানকার মনাস্ট্রি ঘুরে আসাটাও অবশ্য কর্তব্য। ঘুরে আসতে পারেন তিস্তার দারপিন দারা ভ্যালিও। হাইকিংয়ের অভ্যেস থাকলে এখানে গিয়ে ঝালিয়ে নিতে পারেন সেটা। রক ক্লাইম্বাররা প্রায়ই যান তিনচুল্লিতে।


কোথায় থাকবেন:
এখানে হোম স্টে’র বন্দোবস্তদারুণ। কাছেই তাকদা বাজারে পেয়ে যাবেন অজস্র নাম না জানা অর্কিড আর ক্যাকটাস। যাদের মধ্যে রয়েছে বহু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির অর্কিডওঅজস্র হোম স্টে রয়েছে তিনচুল্লিতে । আগে থেকে বুকিং করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দ্য ভিলেজ গেস্টহাউজ, গুরুং গেস্টহাউজ, দ্য হেরিটেজ গেস্টহাউস ইত্যাদি এখানে থাকার অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা। অগ্রিম বুকিং রাখুন হোটেলের ওয়েবসাইট থেকে।

 

কীভাবে যাবেন: যাওয়ার সেরা সময় সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল। ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে পুরানা রাস্তায় যেতে পারেন। আবার বুড়িমারী হয়ে শিলিগুড়ি। কার্শিয়াংয়ের তাকদায় ওল্ড ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ায় তিনচুল্লি গ্রাম। শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। দার্জিলিং কিংবা কালিম্পং থেকে পৌঁছে যেতে পারেন । কালিম্পং থেকে ৪৩ কিলোমিটার আর দার্জিলিং থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরত্বে এই গ্রাম। শিলিগুড়ি অথবা নিউ জলপাইগুড়ি, যে কোনও জায়গায় নেমে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে নিন। বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার জার্নি।
____________________________


সম্পাদনা : আহির ফা হিয়ান বুবকা
নির্বাহী সম্পাদক ও ফটো সম্পাদক
ডাক্তার প্রতিদিন।

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়