SAHA ANTAR

Published:
2021-05-22 08:33:59 BdST

মানসিক রোগের ওষুধ সেবনে ভীতি : অবশ্য করণীয় ৫ পরামর্শ


 


অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
_________________________________

 


মানসিক রোগের ওষুধ সেবনে ভীতি কেন?
বাংলাদেশে ট্রিটমেন্ট গ্যাপ ৯২.৩% অর্থ্যাৎ ১০০জনে প্রায় ৯২ জন মানসিক রোগী চিকিৎসার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। আর যারা চিৎিসার আওতায় এসেছেন তাদেও ১৭% রোগী ঠিক মত ওষুধ খান না। তাদের অনেকে আবার ওষুধ খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মনগড়া জটিলতা,সামাজিক পারিপার্শ্বিক সমস্যার সম্মুখীন হন।
যে সকল কারণে রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজন মানসিকরোগের ওষুধ সেবনে বা খাওয়াতে দ্বিধা করেন:
১.এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশী। তখন নিজের মনের মত ওষুধ খায়।

২.সাইকোসিস এর রোগীরা ভাবেন তাদের ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হবে আর খুঁতখুতে প্রকৃতির লোকজন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবেন।ফলে ওষুধ খাওয়াতে বা খেতে দেরী হয় বা চিকিৎসা বিঘ্নিত হয়।
৩.কেউ কেউ আছেন ডাক্তারের দেয়া ওষুধের মিলিগ্রাম নিজের ইচ্ছেমত কমিয়ে খান। যেমন দেয়া হয়েছে ১৫০মিলিগ্রাম.উনাকে বলা হয়েছে ১০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের দেড়টা খেতে। কিন্তু উনি খাচ্ছেন ২৫ মিলিগ্রাম এর দেড়টা ট্যাবলেট।কারণ ১০০ মিলিগ্রাম এর ট্যাবলেট তাদের এলাকায় পাওয়া যায় না। তাই দুইদিক রক্ষা করে রোগী ও তার লোকজন তাকে খাওয়াচ্ছেন ১৫০মিলিগ্রাম এর পরিবর্তে ৪০মিলিগ্রাম ট্যাবলেট ।
৪.ওষুধের দোকানদার সঠিক ওষুধটি না দিয়ে ঐ নামের কাছাকাছি সম্পূর্ণ অন্য ওষুধ দিয়ে দেন। আর তা রোগী নিশ্চিন্তে খেতে থাকেন। আর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

৫. ওষুধের দোকানদার অনেকসময় অপরিচিত কোম্পানীর ওষুধ দেন যাতে উপকারের কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

যা করণীয়:
১.সকল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আপনাকে বুঝতে হবে ডাক্তার রোগীর যতটা সম্ভব সুস্থতা আশা করেন। আপনার কোন নির্দ্দিষ্ট ওষুধ সহ্য না হলে আপনি শুরুতেই ডাক্তারকে জানান। তাহলে উনি আপনার জন্য উপযুক্ত ওষুধ প্রেসক্রাইব করবেন।

২.যে ডোজে ওষুধ দেয়া হবে সেটাই খাবেন। যতদিন খেতে বলা হবে ততদিনই খাবেন। নতুবা উপকার পাবেন না।

৩.কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোম্পানী পরিবর্তন করলে তাদের ঐ ওষুধ কাজ করে না। তাহলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আপনি আগের কোম্পানীর ওষুধ খান ।

৪. প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খান। কোন ওষুধ যেন বাদ না যায়। খেয়াল রাখবেন যেটা বাদ দেয়া হয়েছে সেটা খাবেন না।

৫.এখন অনলাইনের যুগ। কিছু না বুঝলে বা জানার থাকলে মেসেজ করুন বা ফোনে জিজ্ঞাসা করুন। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলেও বিভিন্ন কারণে রোগী দেখানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই ভিডিও অনলাইনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন। আর সুস্থ থাকুন।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়