ডাক্তার প্রতিদিন

Published:
2021-03-05 12:27:08 BdST

সাততলা থেকে লাফ দিলেন ব্যাঙ্কের নারী জিএম, সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা ও কিছু প্রশ্নের জবাব


লেখক এর ছবি 


ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
------------------------------------

কৃষি ব্যাংকের সাততলা থেকে লাফিয়ে আহত নারী কর্মকর্তা। মিডিয়া র খবর।
রাজধানীর মতিঝিলে কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন নারী মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বৃহস্পতিবার ওই ভবনের সাততলা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে লাফ দিয়েছিলেন। দাবি করা হয়েছে, তিনি সিজোফ্রেনিয়ার রোগী।

তবে তিনি সাততলা থেকে নিচে পড়েননি, সেটাই পরম ভাগ্য। বিস্ময়কর ভাবে তিনি বেঁচে গেছেন। অামি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। একজন মনোরোগ চিকিৎসক ও মনোরোগ চিকিৎসা শাস্ত্রের ছাত্র হিসেবে তাঁর দীর্ঘ সুস্থ জীবনের পথ ও পাথেয়র কথা বলতে চাই ।

এ যাত্রা তিনি লাফ দিয়ে সৌভাগ্য গুনে ছয়তলার কার্নিশে পড়েন। তাঁকে শেরেবাংলা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর মতিঝিল কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাততলায় আচমকা এই ঘটনা।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া প্রথম আলোকে বলেন,

তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। তিনি কিছুদিন ধরে অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। তাঁকে ছুটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তাকে মানসিক অত্যাচার করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘এমডি কীভাবে জিএমকে মানসিক অত্যাচার করবেন। এটি হাস্যকর।


এখানে দুটো ব্যাপার বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।

তিনি যদি সিজোফ্রেনিয়া র রোগী হন, তাহলে সঠিক ভাবে চিকিৎসা পেয়েছেন কি।

রোগী দেখার অভিজ্ঞতা থেকে জানাই, সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগান্তির শিকার রোগীরা নানারকম সামাজিক, চাকুরী গত অন্যায়, বিব্রতকর বাস্তবতার মুখে পড়েন।

নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নিতে পারলে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন  ষোল আনা।

অনেক পদস্থ কর্মকর্তা আছেন, যারা নিয়মিত মানসিক রোগ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। দিব্যি চাকরি করে চলছেন। সংসার করছেন।

অসুবিধা হয়, যখন তারা নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নেন না।
তাঁর চারপাশের কিছু অতিচিকিৎক অতি জ্ঞানী তাকে কান কথায় ঝালাপালা করেন, তিনি সুস্থ হবেন না। তিনি কেন পাগল হয়ে চাকরি করে চলছেন।
তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা য় তারা অজ্ঞানতা বশত বাঁধা হয়ে দাঁড়ান।

তখন এসব রোগী অনাকাঙ্ক্ষিত কোন জীবনবোধ রহিত ট্রাফিক কাজের দিকে নিজের অসচেতন ইচ্ছায় ধাবিত হন।

এই জিএমের প্রকৃত জীবন কাহিনি জানা নেই।

কিন্তু তিনি যদি সত্যি সত্যিই সিজোফ্রেনিয়ার রোগী হয়ে থাকেন, তবে অামার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিচে জানালাম।


১. তাঁকে নিয়মিত ফলোআপ সহ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
কোন গত্যন্তর নেই।
২.
নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নিয়ে তিনি অার দশ জন ব্যাংক জিএমের মত স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।
তার কাজকর্ম, পদোন্নতি কোন কিছু বাধা গ্রস্ত হবে না।
৩.
তাকে পদে পদে অপদস্ত হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না।
মানসিক রোগ কোন চিকিৎসা-অসম্ভব রোগ নয়।
অার ১০টা রোগের মত রোগ।
৪.
ব্যাঙ্ক বা চাকুরী প্রতিষ্ঠানের উচিত হবে, তাঁর চিকিৎসার নিয়মিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাঁর সেবা দেশ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে দরকার।

৫. রোগীর স্বজন দের বলি, রোগী কে অবশ্যই ওষুধ নিয়মিত খাওয়াতে হবে। বাদ দেবেন না।  বাদ দেওয়া একদম যাবে না।

ওষুধ না খাওয়াতে পারলে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে পারেন।  

মনে রাখতে হবে,  তিনি রাতারাতি ভালো হবেন না। কিন্তু নিয়মিত ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।  তিনি নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসায় অাজীবন ভালো থাকবেন। 

তার জন্য অচলায়তন না হয়ে আসুন  আমরা তার জন্য সচলায়তন হয়ে উঠি।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়