SAHA ANTAR

Published:
2020-12-02 13:10:54 BdST

ফলোআপ জরুরী কেন ? ৫টি কারণ


 

 

ডা. সুলতানা আলগিন
সহযোগী অধ্যাপক মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক ,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা।

____________________________

ফলোআপ জরুরী কেন ? প্রয়োজনীয় কারণগুলো বলছি ------------


সুচিকিৎসা হবে । রোগী ভাল হবে সুস্থ থাকবে --এটা সবারই কাম্য। যে কোন রোগেরই চিকিৎসার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ফলোআপ। ক্রনিক ডিজিজ যেমন :
ডায়াবেটিস,স্কীন,হার্ট,কিডনী,হাপানীর সমস্যা য় যারা ভোগেন তাদের নিয়মিত ফলোআপ দরকার হয়। একই কারণে মানসিকরোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিয়মিত ফলোআপ বেশী প্রয়োজনীয়।

কেন দরকার ?

১.রোগীর রোগের রেসপন্স বা উন্নতি দেখার জন্য।

২.লক্ষণের কোন পরিবর্তন হলে ওষুধেরও পরিবর্তন হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষানিরীক্ষা লাগবে কিনা -সেসব বোঝার জন্য।

৩.কিছুকিছু ওষুধ আছে যা সিম্পটোমেটিক চিকিৎসার জন্য দেয়া হয়।। সেই লক্ষণের জন্য একবারই ওষুধটি দেয়া হয়। তা বন্ধ করে দেয়ার জন্য। কিন্ত দেখা যায় রোগী তা চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন: ভিটামিন,গ্যাস্ট্রিকের,ঘুমের,ব্যথার ওষুধ ইত্যাদি ।
৪. কোন ওষুধ চালিয়ে যাবেন, কোনটা আরও চালিয়ে যাবেন ,ফলোআপ তা বুঝিয়ে দেয়া জন্য।
৫.প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি পরামর্শ /কাউন্সেলিংতো আছেই।


যা ঘটে:

১.নিজের অজান্তেই রোগীরা ড্রাগে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ঘুমের ওষুধে।
২. গ্যাস্ট্রিকের ,ব্যথার ওষুধে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে তা জেনে বা না জেনে দীর্ঘদিন খেতে থাকেন।
৩.মানসিক সমস্যার জন্য যেসব ওষুধ দীর্ঘদিন খেতে বলা হয় এন্টিডিপ্রেসেন্ট এন্টিসাইকোটিক, মুডস্ট্যাবিলাইজার তা বাদ দিয়ে যেগুলো দরকার নাই সেগুলো খেতে থাকে। যেমন ঘুমের ওষুধ ।
৪.ম্যানিক রোগী এন্টিডিপ্রেসেন্ট খেতে থাকলে তার রোগের মাত্রা আরও বেড়ে যায় । কিন্তু কে শোনে কার কথা।
৫.এন্টিসাইকোটিক এর সাইডইফেক্ট কমানোর জন্য যে ওষুধ খেতে বলা হয় তা বাদ দিয়ে রোগী হাত কাপা,কথাজড়িয়ে যাওয়া ,মুখ দিয়ে লালা ঝরা ,জিহ্বা বের হয়ে যাওয়া, চোয়াল ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া ,খেতে বা গিলতে না পারা ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে আসেন। আর অহেতুক ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।
৬.অনেকের ধারণা মানসিকরোগের ওষুধ দিয়ে রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। অথচ নিজেরা ঘুম ঠিক হয়ে গেলেও ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে থাকেন। সে খবর কে রাখে ? এই সময়ে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ওষুধটা স্থগিত করতে হবে। নইলে রোগী ঘুম ওষুধের এডিক্ট হয়ে যাবেন কিন্তু। খুব সাবধান। খুব সাবধান।


৭. কোন ডাক্তারের একটা প্রেসক্রিপশন পেলেই হল না। দেখা যায়, ডাক্তার লিখে দিয়েছেন পরিস্কার করে যে, ২/৩ সপ্তাহ , ১/২/৩/৪/৫/৬ মাস ফলোআপ এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেখাতে। কিন্তু সে সব পরোয়া না করে অনেকে প্রেসক্রিপশন ধরে ফলোআপের ডেটের পরও মাসের পর মাস ওইসব ওষুধ খাওয়াতে থাকেন। এটা করে কিন্তু রোগীর মারাত্মক ক্ষতি করছেন। সবিনয়ে বলব, ফলো আপটা মানুন। ডাক্তার ভেবে চিন্তেই ফলোআপ ডেট দিয়েছেন। ওই ডেটের পর ওষুধ ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া একদমই চালিয়ে যাবেন না।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়