SAHA ANTAR

Published:
2020-11-19 11:59:35 BdST

উচ্চশিক্ষিত মেধাবী এই মানসিক রোগী ভায়োলেন্ট হয়ে নিজের বাবা-মাকে হত্যা করেছে


 

 

ডা. সুলতানা এলগিন


সহযোগী অধ্যাপক
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা
_______________________

মানসিক রোগী ভায়োলেন্ট হয়ে গেলে মারাত্মক ভয়ঙ্কর মুশকিল। ছবিতে যে মানুষটাকে দেখছেন, তিনি আপাত নীরিহ সাদা সিধে মানুষই ছিলেন। উচ্চ শিক্ষিত । অতি মেধাবী। কিন্তু অবসাদ, হতাশায় ভুগছিলেন। তারপর একদিন ভায়োলেন্ট হয়ে গেলেন।
বাবা মাকে খুন করে ৩ দিন একঘরে ছেলে বসে ছিলেন লাশ নিয়ে।
ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পেরেছে, বাবা-মাকে খুনের পর ওই যুবক নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনা নিশ্চয়ই ভয়ঙ্কর। একজন উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী হঠাৎ এই কান্ড ঘটিয়েছেন। এই সব ভায়োলেন্ট হয়ে যাওয়া বলে কয়ে পুরো সমাজে সবাইকে জানিয়ে, থানা পুলিশকে জানিয়ে হয় না। পরিবারের মধ্যে নানা কারণে ভায়োলেন্ট হন মানসিক রোগীরা । আমাদের চারপাশেই নানা মনোরোগজনিত কারণে এরকম ভায়োলেন্ট রোগীর তীব্র মনোযন্ত্রণা হতে পারে। আমরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এদেরকে ওষুধ দিয়েই সামলাই। সেজন্য চিকিৎসা বিজ্ঞান নির্দিষ্ট জ্ঞান আমাদের দিয়েছেন। অনেক কষ্ট করে বছরের পর বছর বিএসএমএমইউ, এইমস, নিমহ্যান্সের লাইব্রেরীতে পড়ে পড়ে আমাদের এই উচ্চতর চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে। তারপর বছরের পর বছর প্রাকটিস করে এদের সামলানোর কাজ ও অভিজ্ঞতা , দক্ষতা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা অর্জন করেছেন।
তার সুফল রাষ্ট্র , সমাজ , পরিবার , দেশ সবাই পাচ্ছে।
ছবির এই যুবক অত্যন্ত মেধাবী হয়েও তারই বাবা মাকে হঠাৎ হত্যাই করে ফেলেছে।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা এরকম আশঙ্কাজনক ভায়োলেন্ট রোগীকে সময়মত চিকিৎসা দিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার বাবা মা , সন্তান , ভাইবোন স্ত্রী পরিবার পরিজনকে জানেপ্রাণে রক্ষা করে চলেছেন। সাইকয়াট্রিস্টদেরকে হেলাফেলা করবেন না প্লিজ। এসব ভায়োলেন্ট রোগী সামলানো কি ভয়ঙ্কর কষ্ট সেটা ভুক্তভোগী পরিবার আর তার সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই জানেন। সাইকিয়াট্রিস্টও জীবণের ঝুঁকি নিয়ে এই জীবন হরণ আশঙ্কার ভায়োলেন্ট রোগীকে সামলান। তাদের হাতে অনেক সময় সাইকিয়াট্রিস্ট ও সহযোগী ডাক্তারও হামলার শিকার হন। তারপরও ইনজেকশন দিয়ে ভায়োলেন্টদের শান্ত করে পুরো একটা পরিবারকে সাইকিয়াট্রিস্টরা জীবনে বাঁচান। আবারও বলছি, জীবনে রক্ষা করেন সবাইকে। যদি সাইকিয়াট্রিস্টরা নিজের জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করতেন , তাহলে এই পরিবারটির মত হাজারো শোকাবহ নজির তৈরী হত প্রতিবছর।

 


এবার পুরো খবরটা পড়ে নিন। মানসিক রোগীর খবরগুলো পড়া দরকার। মানসিক রোগী ভায়োলেন্ট হয়ে গেলে মুশকিল। ১৮ নভেম্বর ২০২০ পত্রিকায় ছবিসহ আসা খবর।
গন্ধ ছড়িয়েছে আবাসনে। দরজা ভেঙে ঢুকতেই দেখা গেল সোফায় পড়ে রয়েছে পচা গলা মায়ের নিথর দেহ। পাশের ঘরে পড়ে রয়েছে বাবার মৃতদেহ। আর অন্য একটি ঘরে বসে রয়েছে ছেলে যার গায়ে হাতে রয়েছে রক্তের দাগ!

এমনই বীভৎস ও মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার শিবপুরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবা মায়ের দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিস। ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করেছে ছেলে। তবে ছেলের হাতে ও জামায় রয়েছে রক্তের দাগ। বিজ্ঞ পুলিশ তদন্ত করে জেনেছে, এই উচ্চশিক্ষিত লোকটি মানসিক রোগী ছিল। সময়মত তার চিকিৎসা হয় নি। নেয়া হয়নি সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে। অবসাদে হতাশায় ভুগে সে একসময় ভায়োলেন্ট হয়ে যায়। তখনও তাকে সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে নিলে চিকিৎসা দিয়ে , ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে শান্ত মেয়াদী চিকিৎসা দিয়ে মেধাবী ছেলেটিকে সম্পূর্ণ করতে পারত। এই মেধাবীর সেবা পেত সমাজ ও রাষ্ট্র।
ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পেরেছে, বাবা-মাকে খুনের পর ওই যুবক নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। নিহতদের নাম প্রদ্যুৎ বোস ও গোপা বোস। ছেলের নাম শুভজিৎ বোস।

মা বাবার দেহ পচে গিয়েছে, তাই মনে করা হচ্ছে, প্রায় তিন চার দিন আগে বাবা মাকে খুন করেছে ছেলে। পুলিস জানিয়েছে, শুভজিৎ মানসিক ভাবে সুস্থ নন। তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এবং শুভজিৎকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা করে জানা গিয়েছে, বাবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। লকডাউনের কারণে পরিবারে অভাব অনটন শুরু হয়েছিল। সেখান থেকেই অবসাদ , ভায়েলেন্ট হওয়া এবং খুন করে ছেলে শুভজিৎ।

নজির দিয়ে বললাম। এবার আমাদের সকলেরই নিজ নিজ দায় নিয়ে ভাববার পালা।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়