Ameen Qudir

Published:
2017-12-29 08:18:33 BdST

ওসিডি ডায়েরি ১৫" কোন কিছু কেউ ছুঁলে মনে হয় আমার শরীরে নাপাক পার্টিকেল ছড়িয়ে পড়েছে "


 

 

 


ডা. সুলতানা অালগিন

কনসালটেন্ট
ওসিডি ক্লিনিক ও
সহযোগী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
__________________________

 


বাবা তার সতের বছরের ছেলেটিকে সাথে করে চেম্বারে এসেছে । ছেলেটির আলুথালু বেশ । খোঁচাখোঁচা দাড়ি। চুলে চিরুনি চলে নাই। মুখে বিরক্তিভাব। চোখ মাটিতে । কারও সাথে কথা বলতে বড়ই অনীহা।
বাবাই বলা শুরু করলেন । তার ছেলে ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ প্রকৃতির। কারও সাথে তেমন মিশতো না। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে খেলতো। পড়াশুনায় ভালো ছিল । এখন বই ছুয়েও দেখে না।


ওর দিকে তাকালাম । জানতে চাইলাম।
অনেক সময় নিয়ে সে বলা শুরু করল। বলল, আমার কোন কিছু কেউ ছুলে মনে হয় আমার শরীরে নাপাক পার্টিকেল এসে পড়েছে । নির্দ্দিষ্ট কোন নাম সেটা হতে পারে আত্মীয় বা বন্ধুর নাম, শুনলেই আমার মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। মনে হয় এই নাম থেকে এমন কিছু আসবে (পার্টিকেল) যা আমার জেনেটিক পরিবর্তন ঘটাবে।আরও জানায় যে প্রত্যেকটা উচ্চারণের নির্দ্দিষ্ট কম্পাঙ্ক আছে । সেই কম্পাঙ্ক বা ওয়েভ তার ক্ষতি করতে পারে।
তার কম কথা বলার কারণ তার মনে হয় সে যা বলে ভুল বলে বা উল্টা বলে। তাই পারতপক্ষে কারও সাথে কথা বলে না। কোন “না ”বোধক শব্দ বা বাক্য সে ব্যবহার করে না। মনে হয় এতে পরিবারের কারও ক্ষতি হবে।

তার বাবা পাশ থেকে জানায় তার ছেলে পরীক্ষার সময় বারবার রোল নম্বর সেটকোড চেক করতে গিয়ে ৫-১০ নম্বরের প্রশ্ন ছেড়ে এসেছে। অথচ উত্তর তার জানা। ওর বই এর পাতা যদি কেউ থুথু দিয়ে উল্টায় সেই বই কোনদিন আর পড়বেনা । তাকে নতুন বই কিনে দিতে হয় । তার বাবা আরও জানায় ছেলেটি শরীর থেকে পার্টিকেল সরানোর জন্য থুথু দিয়ে হাত মুখ ধোয় । গোসলের পানিতেও থুতু মেশায়।

 

ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম এসব কি তুমি কর?
মাথা নীচু করে উপরে নীচে ঝাকিয়ে সায় দেয় যে সে করে।
জানতে চাইলাম তুমি কি এসব সত্যিই বুঝে কর?

সে বলল আমি সবই বুঝি কিন্তু আমি আমার মনকে বুঝাতে পারি না। বুঝাতে না পেরে ঘরের অনেক দামী আসবাবপত্র ফেলে দিতে আমি বাবা মাকে বাধ্য করেছি। আমার যে কোন জিনিসে কেউ হাত দিলে তা যত দামীই হোক না কেন তা আমি স্পর্শ করি না। প্রয়োজনে বাবাকে কিনতে বাধ্য করেছি ।


ছেলেটি আরও জানায় তার আত্মবিশ্বাস এখন শূণ্যের কোঠায়। ঘর থেকে বের হয় না। সারাক্ষণ অন্যের ত্রুটি খুজতে থাকে। কোন বন্ধরু নাম ছায়া পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না। কারও উপর আস্থা নাই। সবাই তাকে বেয়াদপ মনে করে। সব দোষ ঐ পার্টিকেলের। পার্টিকেল ছড়িয়ে পড়লে সব নাপাক মনে হয়। তখন জিনিসপত্র ধুতে হয় বা ফেলে দিতে হয়।

কাতর কন্ঠে বলে ম্যাডাম আমি কি করব । আমি পড়তে চাই । নিজের ক্যরিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই। আমি কি পারবো না?

পাশেই বাবার অশ্রুসজল চোখ আমাকে কঠোর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।

দুজনকেই বলি এই ওসিডি রোগটি অন্যান্য শারীরিক রোগের মতই একটি রোগ । চিকিৎসা চলবে । ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে । একবেলা ভাত না খেলেও একবেলা ওষুধ বাদ দেয়া যাবে না। সিরোটোনিন সমৃদ্ধ খাবার খাবে । সাথে ফ্যামিলি কাউন্সেলিং আর বিহেভিার থেরাপী চলবে। হতাশ হলে চলবে না । এর আগে যেহেতু তোমার কোন রকম চিকিৎসা হয় নাই আশা করি দ্রুত রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

_________________________

 

কিছু দরকারি পরামর্শ
________________


বি:দ্র: সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্যের একটা ছোট তালিকা দেয়া হলো। এসব খাবার আমাদের দেশে সবখানেই পাওয়া যায়। তবে কারও যদি কোন খাবারে নিষেধ থাকে তবে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্যান্য আইটেম আপনার প্রতি বেলার খাবারে রাখতে পারেন। ওষুধের পাশাপাশি এসব সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্য আপনার শরীরে সিরোটনিনের চাহিদা মিটাবে ।
আমিষ জাতীয় খাদ্য:মাংস,কলিজা,ডিম ,দুধ ও দুধ জাতীয় দ্রব্য, সামুদ্রিক মাছ
ফলমূল :পাকা কলা,আনারস, খেজুর, বাদাম, আম,আঙ্গুর,এ্যাভোকেডো
শাকসব্জি: পালং শাক,পুইশাক,বেগুন, শিম জাতীয় বীজ,ফুলকপি, ব্রকলি, টমেটো, মাশরুম

________________________

 

প্রিয় সুজন ,
আপনি কি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) বা শুচিবাই রোগে
ভুগছেন ?

 

একটু সময় দিতেই হবে আপনাকে আপনার ও সকলের স্বার্থে। প্রশ্নগুলো পড়ুন অনুগ্রহ করে।

 

১।আপনি কি অতিরিক্ত ধোয়া-মোছা করেন অথবা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন?
২।আপনি কি কোন কিছু অতিরিক্ত চেক/ যাচাই-বাছাই করেন?
৩। আপনার মাথায় কি কোন অপ্রীতিকর/ অনাকাঙ্খিত চিন্তা আসে ? যা কিনা আপনি চাইলেও মাথা থেকে সহজে বের করতে পারেন না ?
৪।আপনার কি দৈনন্দিন কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়?
৫। আপনার মধ্যে কি আসবাবপত্র, বই খাতা, কাপড়-চোপড় অথবা যে কোন জিনিস নির্দিষ্ট ছকে গুছিয়ে রাখার প্রবণতা আছে ?

 

 

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর যে কোন একটির উত্তরও যদি হ্যাঁ বোধক হয় তবে মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ।ভুক্তভোগীদের ওসিডি ক্লিনিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় প্রতি মঙ্গলবার , সকাল ১০টা থেকে ১টায় অাসার অনুরোধ রইল।
এ জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার আউটডোরের মাত্র ৩০ টাকার টিকেট নিতে হবে।

 

লেখার সৌজন্য

ওসিডি ক্লিনিক । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। প্রতি মঙ্গলবার ।

আপনার মতামত দিন:


মন জানে এর জনপ্রিয়