Ameen Qudir

Published:
2019-01-23 12:47:43 BdST

বাতিকবোরকা পরে স্ত্রীর ‘পরকীয়া’ ধরতে গিয়ে নিজেই ধরা : এটা অপরাধ নাকি সন্দেহ বাতিক!


 



ডেস্ক
_________________________

বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ট্রলিংএর তুফান বইছে।বোরকা পরে স্ত্রীর ‘পরকীয়া’ ধরতে গিয়েছিল বেচারা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শেষে নিজেই ধরা খেল। এরকম সন্দেহ প্রবৃত্তি সমাজে বেশ চলছে। এসব হাস্যকর কান্ড নিয়ে ফিল্ম নাটক হয়েছে কম নয়। প্রশ্ন হল, এটা অপরাধ নাকি সন্দেহ বাতিক!
সামাজিক এই সাইলেন্ট ইস্যু নিয়ে কেবল হাসাহাসিই হয়। ট্রলিং হয়। সমস্যার গভীরে আমরা যাই না। তাই এবার আমরা মুখোমুখি হই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউর সহযোগী অধ্যাপক 

ডা. সুলতানা আলগিনের।
তার বক্তব্য জানার আগে ঘটনাটা জেনেই নিই।

সাত বছর প্রেমের পর ২০১৭ সালের মে মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মাহমুদুল হাসান ও জুলেখা খাতুন। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীর কিছু আচরণে সন্দেহ হয় তার। তিনি সন্দেহ করছেন স্ত্রী জুলেখা হয়তো কারও সঙ্গে ‘পরকীয়া’ করছেন। তাই স্ত্রীর গতিবিধি নজর রাখছিলেন স্বামী মাহমুদুল হাসান। এরই ধারাবাহিকতায় স্ত্রীর পরকীয়া ধরতে বোরকা পরে তার কলেজ চলে যান তিনি।

কিন্তু ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্ত্রীর ‘পরকীয়া’ প্রেমের সম্পর্ক বোরকা পরে ধরতে গিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে কট এন্ড বোল্ড হন মাহমুদুল হাসান।

আটককৃত মাহমুদুল হাসান (২৭) শেরপুর সদর উপজেলার হাওড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি জামালপুর আইবিএ কলেজে অফিস করণিক পদে চাকরি করেন ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ্ কামাল হোসেন জানান, সোমবার স্ত্রীর আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মাস্টার্স মৌখিক পরীক্ষা থাকায় একসঙ্গে ট্রেনে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরে আসেন এই দম্পতি। রেলস্টেশন থেকে রিকশায় করে স্ত্রীকে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন সরকারি কলেজ গেটে নামিয়ে দেন। এরপর স্ত্রী পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকলেও সেখানে কী করছেন, কার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছেন এসব সন্দেহ হওয়ায় শহরের একটি দোকান থেকে বোরকা কিনে ছদ্মবেশে আবার কলেজে প্রবেশ করেন স্বামী মাহমুদুল। কিন্তু ভুল করে বসেন তিনি। বোরকা পরে পুরুষের বাথরুম থেকে নারী বের হওয়ায় সন্দেহ হয় কলেজের কয়েকজন ছাত্রের। পরে ছাত্ররা তাকে আটক করে বিষয়টি জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে। সোজা পুলিশে খবর দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে এসে আবিস্কার করে বোরকা পরিহিত নারী নয়, পুরুষ।

এটা অপরাধ নাকি সন্দেহ বাতিক! মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা আলগিন যা বলছেন

১.
এটা অপরাধ নাকি সন্দেহ বাতিক! এ ধরণের প্রশ্ন সচরাচর কেউ করে না। ট্রলিং হাসাহাসি , পুলিশি সাময়িক ব্যবস্থার পর ঘটনা কৌতুকের আড়ালেই ধামাচাপা পড়ে।
এই ধরণের ব্যাক্তি সন্দেহ বাতিকের রোগী হলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা আর হয় না। সমাজে হাসির পাত্র হয়েই নানা অপ্রীতির শিকার হয়ে এই ধরণের লোকজন জীবন চালিয়ে যায়।

২.
এ ক্ষেত্রের ব্যাক্তিরা চিকিৎসার অধীন হলে সমস্যা মুক্তি সম্ভব। সমাজেও তাকে হাস্যকর হতে হয় না। কেননা, বাতিক, রোগ তো হতেই পারে। তার সমাধান ট্রলিং নয়। সমাধান সুচিকিৎসা।

৩.
আমরা আইনি যুক্তির খাতিরে ধরে নেব, লোকটা অপরাধই করেছে। সে ক্ষেত্রে তা পুলিশ ও আইনের কাজ , তাকে শাস্তি দেয়া। কিন্তু শাস্তি কি তাকে পূর্ণ সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে!

৪. সচরাচর এরকম ফিল্মী ঘটনা কোন বাস্তব লোক ঘটায় অদ্ভুত মনস্তত্বের কারণে। সে কুসংস্কারগ্রস্থ হতে পারে।
পারিপার্শ্বিক নানা রটনা, পশ্চাদপদদের আকথা কুকথায় তার মনে বদ্ধমূল ধারণা হতে পারে, নারী পড়তে গেলে উচ্চশিক্ষা পেলে পরকীয়া সহ বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করে। এজন্য উচ্চশিক্ষা নিরোধের জন্য অনেক পরামর্শও দেন অনেকে।
সেটাও এক ধরণের মানসিক সমস্যা। আমরা বিষয়গুলোর খতিয়ে দেখি না বলেই দিন দিন তা বাড়ছে।
৫.
পরকীয়া হয়। কিন্তু তা পরীক্ষার হলে বা কলেজে হয় না। লোকটার ওই কলেজকেন্দ্রিক বা শিক্ষাকেন্দ্রিক সন্দেহ চিন্তার নিরসন দরকার। আইন হয়তো প্রচলিত কোন লঘু শাস্তি দেবে। অবশ্যই দিক। কিন্তু লোকটা যদি গুরুতর মানসিক সন্দেহ বাতিকগ্রস্থ হয়ে থাকে, তার নিরাময় কে করবে। অবশ্যই তাকে কোন মানসিক নিরীক্ষার অধীন আনা উচিত। যদি সে নীরিক্ষায় মনোরোগ বা বাতিক ধরা পড়ে, তবে তাকে শাস্তি দেয়া যৌক্তিক হবে কিনা, সে নির্ধারণ আইনপতিরাই করবেন।

 

ডা. সুলতানা আলগিন । মানসিক সম্পর্ক বিদ। 
সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ। কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


মন জানে এর জনপ্রিয়