Ameen Qudir

Published:
2018-05-22 03:28:14 BdST

" গরুর সঙ্গে তার সঙ্গম: সে ভাবতেই পারে না নারীর সাথে কিভাবে যৌনসম্পর্ক করবে "


 

লেখকের ছবি।

 

ডা. সুলতানা আলগিন
________________________________

পাজামাপাঞ্জাবী পরিহিত বয়স ৩৫-৩৬ হবে এমন একজন লোক চেম্বারে বসা। বেশ কাচুমাচু ভাব । মাটির দিকে চোখ রেখে কথা বলছে । বেশ নিরীহ ভাব। পেশায় কৃষিজীবি। তাদের জমিজমা আছে । ২টি বিদেশী জাতের গরু আছে। ২ভাই আর বাবা মিলে চাষাবাদ করে । আর তার দায়িত্ব পড়েছে গরুর দুধ বাজারে বিক্রি করার। সে সকাল সকাল হাটে যায় । মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীরাও কিনে নেয়।
চেম্বারে আসার কারণ জিজ্ঞেস করায় জানায় পরিবার থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে।
বললাম ভালইতো । বিয়ের বয়স হয়েছে । বিয়েতো করতেই হবে।
উত্তরে লোকটি জানাল সে অসুস্থ । বিয়ে করতে সে পারবে না।
কেন কি হয়েছে ?
সে বলল তার রক্তে বিষ মিশে গেছে । শিরায় শিরায় বিষ ছড়িয়ে পড়ছে । আমার হাতপা অবশ হয়ে যাচ্ছে । মাথা ভার থাকে । ওজন কমে যাচ্ছে। ঘুম খাওয়াদাওয়া কমে গেছে। মন ভাল নাই।
লোকটিকে বললাম কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল ? আপনি কি কোন নেশা করেন? বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন ?
উত্তরে জানায় সে কখনও নেশাটেশা করে নাই। মাঝেমধ্যে সিগারেট খেয়েছে।
আমি বললাম তাহলে বিষ শরীরে ঢুকল কি করে ?
উত্তরে সে বেশ কাচুমাচু হয়ে জানায় তার গরুর সাথে কিশোর বয়স থেকে যৌন সম্পর্ক রয়েছে। হস্তমৈথুনের পাশাপাশি গরুর সাথেও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতো।সে বলল এখন যখন বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে তাতে আমার মন সায় দেয় না। আমি ভাবতেই পারি না একজন মানুষের সাথে কিভাবে যৌনসম্পর্ক করব? তাছাড়া বিয়ের পর যে সন্তান হবে সেটা দেখতে কেমন হবে ? মানুষে মত না গরুর মত ? গরুর শরীর থেকে রস /নির্যাস আমার শরীরে ঢুকে গেছে । তা এখন বিষাক্ত হয়ে সারা শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন এই বিষ বের না হওয়া পর্যন্ত আমি বিয়ে করতে পারব না। প্র¯্রাব করতে গেলে সাদা রংএর পদার্থ বের হয় । গরুর চনার গন্ধ। আমি সহ্য করতে পারি না।
আমি এখন কি করব ?

যে অঘটন সমাজের অন্তরালে ঘটে :
যৌন বিকৃতি আমাদের সমাজে কম না। বিভিন্ন রকমের বিকৃতি দেখা যায়। পশুর সাথে,শিশুদের সাথে ,জিসিষপত্র,কাপড়চোপড় সবই বিকৃতির অংশ। মাঝেমধ্যে পেপারে ফেসবুকে ছবি দেখা যায় মানুষের চেহারার গরু ছাগল ঘোড়া । বলা হয় আল্লাহর গজব নাজিল হয়েছে। চারহাতপা ,লেজ আর গায়ে রোম সবকিছু এমন কি চেহারা মানুষের বানরের অথবা কোন পশুর। । আসলে যৌনবিকৃতিকে ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা এখানে কাজ করে। কিন্তু যারা জানার তারাতো ঠিকই জানে । নিজেরা ক্ষণিকের জন্য ভয় পেলেও কামের কাছে পরাজিত ।

হরেক রকমের যৌনবিকৃতি:
অনেক অলিগলিতে চিপায় মেয়েদের হোস্টেলের পিছনে দেখা যায় কিছু লোক তাদের পুরুষাঙ্গ দেখিয়ে বেশদাত কেলিয়ে দাড়িয়ে আছে। ওর নিজের লজ্জার কোন বালাই নাই। বরং যারা দেখছে তারাই বিব্রত হচ্ছে । আর এই বিব্রতবোধই তাদের মধ্যে যৌন আনন্দ দেয়।
কেউ মেয়েদের অর্ন্তবাস দেখে বা বাসে রাস্তায় মানুষের ভীড়ে পুরুষাঙ্গ মেয়েদের শরীরে ঘষা দিয়ে বা চেপে ধরে যৌন তৃপ্তি পায়। অন্যের যৌনমিলন লুকিয়ে দেখেও তার নিজের
যৌন আনন্দ খুজে নেয় ।

যা করণীয়:
সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে। যৌনশিক্ষা স্কুল জীবনেই পাঠ্যসূচীতে রাখতে হবে। পিতামাতা শিক্ষক সবার সাথে খোলাখুলি আলোচনার পরিবেশ তৈরী করতে সচেষ্ট হতে হবে। অনেকেই বলতে পারেন যে এতে সন্তানরা বিপথে যেতে পারে। তাতো না জেনেই যাচ্ছে ।
আমরা কি আটকাতে পারছি ?
জেনে যদি কেউ যায় নিজ দায়ে যাবে। পরিবার স্কুল সমাজ দায়ী থাকবে না।
২১.৫.১৮
__________________________

ডা. সুলতানা আলগিন । মানসিক সম্পর্ক বিদ।
সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ। কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


মন জানে এর জনপ্রিয়