Ameen Qudir

Published:
2018-12-04 11:50:28 BdST

রেলগাড়িতে চড়ে কক্সবাজারে যাবেন যেভাবে : ২০২২ সালে সেই ড্রিম-ট্রেন


 


ডেস্ক
_________________

একবার ভাবুন তো ! কি অসাধারণ হবে সেই ট্রেনযাত্রা। রেলগাড়িতে শুয়ে শুয়ে কিংবা জানালায় চোখ রেখে সবুজ পাহাড় দেখতে দেখতে পৌছে যাবেন সাগর সৈকতে। ট্রেন গিয়ে থেমে যাবে সমুদ্রের কিনারে।
না, কল্পনা নয়। আর মাত্র তিন বছর পরেই ২০২২ সালে এই ড্রিম ট্রেন চালু হচ্ছে। তখন ঢাকা থেকে উঠে সোজা সাগর স্নানে যাত্রা। রেল কর্মকর্তারা জানান, বিশাখাপত্তম ও মুম্বইতে যেমন গ্লাস মোড়ানো অত্যাধুনিক ট্রেন চালু আছে, এখানেও তেমন ট্যুরট্রেন চলবে। ট্রেন কাঁচে মোড়ানো থাকায় মনে হবে থ্রি ডি ট্রেনে চড়েছেন। 
চারপাশে সবুজের পাহাড়। কখনও দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে চলছে ট্রেন। এসব মনোরম দৃশ্য দেখা যাবে ট্রেনে বসেই। রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে অত্যাধুনিক। নতুন কিছু মানেই আধুনিক।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেল প্রকল্পের ভিডিও গ্রাফিকসে এমন চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের ওপর ভিত্তি করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু, ঈদগাহ ও উখিয়ার রেল স্টেশনের নকশা করা হয়েছে ওই ভিডিওচিত্রে।

বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাঙালীর এই ট্রেন ও রেললাইন বাস্তবায়ন হচ্ছে ২০২২ সালে । ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ ১৫ ভাগ শেষও হয়েছে। আর কক্সবাজার অংশে শেষ হয়েছে ১৭ ভাগ।


চলতি বছরের জুলাইয়ে চীনের বৃহত্তম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও দেশিয় তমা কন্সট্রাকশন কোম্পানি যৌথভাবে কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পের কাজ ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা আছে।


প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান মিডিয়াকে বলেন, চলতি বছরের মার্চের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কাজ শুরু হয়। তবে জুলাই থেকে পুরোদমে কাজ চলছে। চট্টগ্রাম থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রকল্পের ১৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ঘুনধুম পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ এখন হচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

রেলওয়ে তথ্যদাতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল। এ প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপন করার কথা ছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এখন হচ্ছে না। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি আর ঘুনধুম পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা।

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়