Ameen Qudir

Published:
2019-09-20 10:41:05 BdST

ইউরোপ আমেরিকার ক্যাসিনো নিয়ে বাংলাদেশী চিকিৎসকদের নানা অভিজ্ঞতা



ডেস্ক
_____________________

ঢাকায় ক্যাসিনো জব্দের পর বিষয়টি পেশাজীবি মহলে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। চলছে রসময় আলোচনাও। চিকিৎসক লেখকরাও লিখেছেন নানা লেখা। অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য।

প্রবাসী প্রখ্যাত চিকিৎসক লেখক অধ্যাপক সেজান মাহমুদ লিখেছেন রসময় এক লেখা।
তার ভাষায়, জুয়া নিয়ে একটু দার্শনিক হই:
এক। জীবনটাই জুয়া খেলা। থিয়া নামের একটি গ্রহ যদি পৃথিবীর চেয়ে একটু বড় হতো তবে প্রতি মিনিটে যেভাবে গ্রহ নক্ষত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সেভাবে পৃথিবীও ধ্বংস হয়ে যেতো যখন সংঘর্ষ হয়েছিল। কিম্বা যে উল্কাপিন্ডের আঘাতে ডায়নোসর বিলুপ্ত হয়েছে তা কিছু মিলিয়ন বছর পরে হলেই মানুষও ধ্বংস হয়ে যেতো। তাছাড়া এই যে চারপাশে এতো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, রোগ, বালাই আমাদের বেঁচে থাকাটাই জুয়া খেলায় জেতার মতো।


দুই। মানুষ এতো ভন্ড কেন? গোপনে জুয়া, মদ, আরো কতোকিছু সব রকমের চলবে। প্রকাশ হলেই ধর্ম গেলো, জাত গেল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে চলতে পারলে তো সবই ভাল, না পারলে সিগারেটও মন্দ (যদিও সিগারেটের কোন ভাল নেই, শুধু উদাহরণ দিলাম)। তারচে বড় কথা হলো সারা দুনিয়ার মদ, জুয়া আর... খদ্দের কারা? একটু তলিয়ে দেখুন; সেইসব দেশের লোকজন যাদের এগুলো নিষিদ্ধ।
তিন। শুধু আমার স্টেট ফ্লরিডা ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত লটারি এবং ক্যাসিনোর আয় দিয়ে এডুকেশন বিভাগে খরচ করেছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার (১০০০ মিলিয়ন = এক বিলিয়ন)। সুতরাং আল্টিমেট কাজটাই আসল!!
সুতরাং আমার মতো করুন। নিয়মিত না হলেও পরিমিত কাজ করুন। ছবিতে আমার তিরিশ ডলারের জুয়ায় বাজি থেকে ১২ হাজার আয় (রিয়েল ডলার কিন্তু) লাস ভেগাসে! ট্যাক্স দিয়েছি পাঁচ হাজার। ব্যস, আনন্দের খরচ উঠে গেল। আর হারলে সর্বসাকুল্যে দুশো যেতো। কিন্তু সাবধান, মানসিক শক্তিতে দূর্বল হলে খেললে সর্বশান্ত হবেন। সুতরাং ক্যাসিনো নিয়ে এতো বাড়াবাড়ির কী আছে?
দার্শনিক কথা শেষ হলো, নটে গাছটি মুড়োলো!!
___________________

সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সাঈদ এনাম লিখেছেন,
ক্যাসিনোঃ
ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন এর বার্ষিক কনফারেন্স এ স্পিকার হিসাবে অংশ করতে পোলান্ড যেয়ে যে হোটেলটিতে উঠি তার নাম ছিলো 'হোটেল গ্রোমোডা ওয়ারযা'। এর বুকিং আমি ঘরে বসে বসেই মোবাইলে নেই।
প্রথম দিনে আমাদের পরিচিতি, প্রেসেন্টেশন, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত আটটা বেজে যায়। একটা ট্যক্সি ক্যাব নিয়ে হোটেলে যেই ঢুকবো, চোখে পড়লো লাল নীল আলোর ঝলকানিতে লেখা 'CASINO' ক্যাসিনো।
হোটেলে 'শাওয়ার আর ডিনার' শেষে মনে মনে সুপ্ত আশা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলো একবার ক্যাসিনো তে ঢু মারার। 'ক্যাসিনো' কি এতে কি হয় এগুলো সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। ভাবলাম রিসেপশন থেকে কাউকে নিয়ে একবার ঢু মেরে আসা যায়। সব কিছুতে এট লিস্ট একটা অভিজ্ঞতার ও দরকার আছে জীবনে।
লাইটার'টা হাতে নিয়ে বের হলাম, ক্যাসিনো জয়ে। কি মনে করে আর গেলাম না রিসেপশনে। বিদেশবিভুঁইয়ে কি কোন বিপদে পড়ি, পরে 'মান ইজ্জৎ' "জান-প্রান' সব 'ছারখার' হয়ে যায়।
যে কয়েকদিন ছিলাম হোটেলে, যেতে আসতে 'ক্যাসিনো' লেখাটার উপর চোখ জোড়া আটকে থাকতো। ফেরার দিন এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে শেষবার 'ক্যাসিনো' লেখাটার উপর চোখ রেখে, মনে মনে গাইলাম,
এতো কাছে তবু এতো দূর..., বিরহের বাজে সুর...'

 

আপনার মতামত দিন:


ভ্রমণ এর জনপ্রিয়