Ameen Qudir

Published:
2017-03-07 07:43:23 BdST

‘কেউ ঘৃণা করুক বা না করুক এরাই মীরজাফর'


 

 

 

ডা. বাহারুল আলম
____________________________


কেবল পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করে নি, যুগে যুগে মানুষ তার নাম ঘৃণাভরে উচ্চারণ করছে/করবে যখনই বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘটবে। এ মীরজাফরেরা নির্মূল হয় না বিধায় ৭৫’ এর ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। পার্থক্য কেবল পলাশী ও ধানমন্ডি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন থামাতে যে বা যারা এ পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে তারা চিকিৎসকদের অধিকার আন্দোলনে ‘মীরজাফর’ হয়ে থাকবে। কেউ ঘৃণা করুক বা না করুক এরাই- মীরজাফর।

রুদ্রের ভাষায় বলি, - চিকিৎসকদের আন্দোলন আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন , মীরজাফররা। এ আন্দোলন স্তিমিত করতে সেই কুশীলবরা ষড়যন্ত্রের জাল বোনার পরামর্শে বসেছিল পর্দার অন্তরালে । কলঙ্কিত কাশিমবাজার কুঠিতে দীর্ঘদিন পরামর্শ করে জন্ম দিয়েছে ‘চিকিৎসা/স্বাস্থ্য সেবা আইন ২০১৬’ ।

কাশিমবাজার কুঠি যেমন মীরজাফরের জন্ম দিয়ে এবং পলাশীর যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ভূমিকা রেখে কৃতিত্বের সাথে মীরজাফর উপাধি ধারণ করে, সেই মীরজাফর কুশীলবরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে একই ভূমিকা রেখেছে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।

আগামীতে ‘স্বাস্থ্য/চিকিৎসা সেবা আইন ২০১৬’–র বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের আন্দোলনেও এরা একই ভূমিকা রাখবে। এদের প্রতিহত না করে চিকিৎসকরা আন্দোলনে গেলেই পলাশী, ধানমন্ডি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের মত ঘটনা আবারো ঘটবে। এরা দৃশ্যমান, শনাক্তকৃত । কেবল চিকিৎসকরা এদের পকেটের তাঁবেদার বিধায় নিজ স্বার্থে তারা এদের প্রতিহত করছে না।

আগামী আন্দোলনে চিকিৎসকরা নিজ স্বার্থ বিবর্জিত , শ্রেণীচ্যুত ও চিহ্নিত এ মীরজাফরদের প্রতিহত করতে না পারলে আবারো পরাজয় অনিবার্য।

সকল পরাজয় পরাজয় নয়, এ পরাজয় আগামী বিজয়ের উপলব্ধিকে শানিত করবে নবীন প্রবণ সকল চিকিৎসককে - বিশ্বাসঘাতকরা এটি জানে না।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে বিশ্বাসঘাতকদের বিজয়ের চেয়েও বড় পরাজয়- নবীন প্রবীণ সকল চিকিৎসকদের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচিত।

______________________________

ডা. বাহারুল আলম । দেশের প্রবল লোকপ্রিয় পেশাজীবী নেতা। বিএমএ নেতা। 

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়