Dr. Aminul Islam

Published:
2021-10-16 10:04:38 BdST

দাদুভাইয়ের চলে যাওয়া


লেখক ও রফিকুল হক দাদু ভাই

 

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ
----------------
১.চলে গেলেন রফিকুল হক দাদুভাই। আমাদের শৈশবের আনস্যাং ' হিরো '। সেই সব সোনাঝরা দিনগুলি এখনও মনে পরে! কচিকাঁচার মেলার রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, খেলাঘরের ভাইয়া বজলুর রহমান, চাঁদের হাটের রফিকুল হক দাদুভাই প্রমুখেরা রাজকুমারদের মত টগবগিয়ে ঘোড়ায় চড়ে আমাদের স্বপ্নে ধরা দিতেন।

২.পাঠ্যসূচির বাহিরে শিল্প সাহিত্যের বিশাল জগতের সাথে পরিচয় এঁদের হাতেই হয়েছিল। শুধু পঠনই নয়, বিজ্ঞানমেলা, নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গান - নাচ - গল্প দিয়ে আমাদের শৈশবকে মুখর করে রেখেছিলেন দাদুভাই। তাই অর্থবিত্তের মোহে মূষিক দৌড় নয় আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হত কে কত বেশী আর বৈচিত্রময় ছড়া উপহার দিতে পারে।

৩. সাপ্তাহিক 'কিশোর বাংলা ' ছিল দাদুভাইয়ের মানসপুত্র। সেখানে লেখা ছাপা হওয়ার আনন্দে বুঁদ হয়ে থাকতাম।শিশু সাংবাদিকতার হাতেখড়ি তাঁর হাতেই হয়েছিল।

৪. স্মার্টফোন আর ট্যাবের হাতে বন্দী হয়ে এক একজন শিশু ক্রমশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে উঠছে । খেলার মাঠগুলি চুরি হয়ে যাচ্ছে স্কাই স্ক্র‍্যাপারের করাল থাবায়। এই প্রজন্মের হিরো হয়ে উঠছে ফেসবুক আর ইউ টিউব।

৫.এখনও সময় আছে। ঘুমিয়ে থাকা শিশুদের জাগিয়ে তুলক নতুন দাদুভাইরা। সোনামনিদের কলকাকলিতে ভরে উঠুক মহানগরী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি। সৃষ্টিশীলতা, মেধাবৃত্তি আর নির্দোষ দুষ্টুমিতে খিলখিলিয়ে হেসে উঠুক হাজারও শিশু।

৬.দাদুভাই ছড়ার জগতে এক সব্যসাচীর নাম।দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। বিগত বইমেলায় তিনি আমার ' যে গল্প ত্রাসের যে গল্প দুঃসাহসের ' বইটি সংগ্রহ করেন। আমার সাথে ক্যামেরা বন্দী হন।

'নাইয়ারে, নাওয়ের বাদাম তুইলা, কোন বা দেশে যাও বইয়া! ' এই অজর শব্দমালা শুধু একজনেরই তুলিতে ফুটে উঠে। তিনি রফিকুল হক দাদুভাই। ফিনিক্স পাখি, অনন্ত নক্ষত্র বীথিতে আপনার যাত্রা শুভ হোক।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়