Dr. Aminul Islam

Published:
2021-09-12 09:55:14 BdST

খুব ছোটবেলার শিক্ষাভবনে ৫০ বছর পরে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হল


 

অধ্যাপক ডা শুভাগত চৌধুরী
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যাচার্য
___________________________

একবার ছোট বেলা যে স্থান ছিল পাঠ গ্রহন শালা সেই স্থানে বহু দিন পর এড ভেঞ্চার করা হবে ঝুকিপূর্ণ।

আমি বোলপুর শান্তিনিকেতনে পাঠ ভবনে পড়েছি আমি খুব ছোট । ১৯৫২। আমি এরপর গেলাম আবার সেখানে প্রায় অর্ধ শতক পর ।
আমি আর আমার স্ত্রী টিকিট কেটে ট্রেনে চাপলাম । নামলাম বোলপুর স্টেশনে । আমি আর আমার স্ত্রী বোলপুর আসার আগে আগে গেটের কাছে দাঁড়ালাম । ভারতে ট্রেন এত কম সময় থামে যে বে খেয়াল হলে মিস করবেন ট্রেন বা সঙ্গি থাকলে একজন পড়ে থাকবেন । ভারতীয়রা এতে অভ্যস্ত তাই তাদের অসুবিধা হয়না।
কিছু দিন আগে রাত ৪ টায় গয়া স্টেশনে ওঠার সময় আমার যে দুর্ঘটনা হয় সেজন্য এবার আমরা খুব সতর্ক । থাক্ সে কথা বলব পরে।
নামলাম বোলপুর । কাউকে চিনিনা । কাউকে খবর দিয়ে আসিনি ।

নেমে গেলাম বোলপুর স্টেশনে । স্টেশন মাস্টার কে বললাম আমাদের একটা রেস্ট রুম দিন আমরা বিকেলে চলে যাব তাই একটু মুখ হাত ধুয়ে বেরুব।
ঠিক আছে তিনি রাজি হয়ে একটা ঘর দেখালেন । আমি প্রথমে একটি বাথরুমে ঢুকলাম । ঢোকার সাথে সাথে এক ঝাক মশা আক্রমন করল এরা কমোড কেবল নয় নানা ফাক ফোকর থেকে তারা বেরুল , আর এত নোংরা , কল্পনাতীত । মনে হল এ সব স্টেশন কেউ আসেনা , মাস্টার সাহেব কি করেন বুঝলাম না। যা হোক আমরা ঠিক করলাম এবার আমরা একটা হোটেল নেব অন্তত হাত পা ধুয়ে পরিষ্কার হয়ার জন্য ।
'স্টেশন মাস্টার বাবুকে বললাম , ঠিক আছে হোটেলে যাব , একটু বলবেন কোনটা নেব কিভাবে খুঁজব ? তিনি বললেন , রিক্সাঅলাকে বলুন । সে নিয়ে যাবে । তিনি একজনকে ডেকে বললেন এই বাবুকে নিয়ে যাও হোটেলে ।

সে নিয়ে এল এক হোটেলে । একটু নির্জন এলাকা । আমাদের ভয় করতে লাগ ল । নেমে দেখে হোটেলে আমরা ছাড়া আর কেউ নেই । আর ম্যানেজার । কোন কাস্টমার নেই।
যাক দোতালায় একটা ঘর দিলেন । আমরা হাত পা ধুলাম এরপর একটু জল খাবার খাব বললাম ।
যা হোক আমদের ব্রেড আর ডিমের অমলেট করে দিলেন একজন লোক ।আমরা বেরুব স্থির করলাম ।
বাইরে দেখি সেই রিক্সা অলা । আমরা তাকে আসতে বলিনি । তবু দাড়িয়ে । এমন এলাকা কাছে আর কোন পরিবহন নাই। বলল আমার দরকার লাগলে ফোন দেবেন আর কাউকে ডাকবেন না, তাহলে সমস্যা হবে । ভয় পেয়ে গেলাম । বুঝলাম স্টেশন মাস্টার , রিক্সা অলা হোটেল সবার একটি দালালি চেন আছে।
যাহোক বেরিয়ে এলাম ক্যাম্পাসে । আমার সেই পুরান ক্যাম্পাস নাই । অন্য রকম । সিংহ সদন । উত্তরায়ন । সব দেখলাম ছাতিম তলা । গেলাম পাঠ ভবনে । একটি টিন ছাওয়া কুটিরে । দেখা করলাম এর হেড মিস্ট্রেস এর সাথে । তিনি আপ্যায়ন করলেন ,বললাম আমি ছাত্র ছিলাম ১৯৫২ সালে । স্মিত হাসলেন । খুব কথা বলতে উৎসুক মনে হলনা । তবে আমাদের দুজনকে দু কাপ অর্ধেক ভরা র টি দিলেন । সঙ্গে বিস্কিট বা অন্য কিছু নাই। অবাক হলাম । আমার দেখা শান্তিনিকেতন কেমন যেন স্বপ্ন হয়ে দূরে মিলিয়ে গেল আমার এখন দেখা শান্তিকনিকেতনের সঙ্গে মিলাতে পারিনি। যা হোক ক্যাম্পাস দেখে বেরুলাম একটু বাইরে আমার সেই খোয়াই নদি নাই। নাই গোয়াল পাড়া । সাঁওতাল পাড়াতে আছে কিছু সাওতাল তবে সেই আনন্দ তাদের মধ্যে নাই । বিকেলে টিকেট নেই কাল যেতে হবে তাই একটু শহর দেখলাম অনেকের বেশ সুন্দর সুন্দর বাড়ি ।
সরকারী রেস্ট হাউস আছে আরও হোটেল আছে অনেক ভাল অথচ আমাদে এক নির্বান্ধব পুরিতে এনে তুলেছে । স্টেশন মাস্টার কি ইচ্ছা করে আমাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেন নি ?
উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখলাম তিনি নেই । এদিকে আমার ক্যামেরা হারিয়ে গেল । মনে হল, রিকসা অলা ওটা গায়েব করেছে। কিন্তু সে সন্দেহজনক । আমাদের ভয় দেখিয়েছে সে ছাড়া অন্য কাউকে ডাকলে সে দেখে নেবে।
আমি আর দেখব কি যেতে পারলে বাচি । সেখানকার বাজারে স্ত্রীর জন্য একটা শাড়ি আর ব্লাউজ কেনা হল। আমি আমার জন্য আর ছোট ভাইয়ের জন্য আর ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনলাম। বেশ সুন্দর। আমি এখনো পরি । সবাই পরলে বেশ প্রশংসা করেন।
রাতে আমরা কিছু আহার করলাম । আর এর পর ঘরে ফিরে ভয় ভয় করতে লাগলো । আমরা একমাত্র হোটেল বাস করছি । আর কেউ নাই । আর নিচে হোটেলের দু তিন জন লোক । আমরা ম্যানেজারকে টাকা পয়সা মিটিয়ে দিয়ে তৈরি হয়ে রইলাম যাবার জন্য আর এড়াতে চাইলাম সেই রিক্সা অলাকে । সে রকম আমরা সকালে বেরিয়ে পড়লাম , যে ডেস্কে ছিল তাকে রসিদ দেখিয়ে বললাম আমাদের পেমেনট করা হয়েছে, তাই আমরা যাই । রিক্সাঅলা দেখলাম বাইরে নাই । বেটা বুঝতে পারেনি আমরা বেরিয়ে পড়েছি । কিছু দূর হেটে একটা রিকশা পেলাম আর ষ্টেশনে এসে টিকিট কাটলাম । তাও বেলা ৪ টার আগে ট্রেন নাই। কি করি দুজলে প্রথমে একটি রেস্তোরায় প্রাতরাশ করলাম লুচি আলুর দম , মিষ্টি আর দই।
এর পর একটু ঘুরলাম । বাজারে কেনার তেমন কিছু নাই । একটা রিক্সা নিয়ে ঘুরলাম । দুপুরের আহার সমাধা হল । আর এদিকে সময় এসে গেল / স্টেশনে এসেছি । এদিকে রিক্সাঅলা ফোন করেছে কয়েকবার , আমি উত্তর দেইনি । আর পরের বার ধরিনি । আমাদের খুজে পায়নি ।
আমার অবাক লাগলো হরিদ্বারে রাত দুটোতে স্টেশনে নেমে ঘুটঘুটে অন্ধকার এক রিক্সাঅলা আমাদের এনে তুলল এক চমৎকার হোটেলে , তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমরা যাত্রীদের মাল পত্র চুরি করনা বল্ল না বাবু এ করে আমরা বাচি আর এ কাজ করলে আমাদের খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে আর শান্তিনিকেতনে রিক্সাওলা এক দুষ্ট লোক , অবাক।
যাহোক ট্রেন এসে গেল বোলপুর , প্ল্যাটফর্ম কোনটা জেনে দাড়ালাম আর এবার দ্রুত উঠলাম দুজনে। হাফ ছেড়ে বাচলাম । আর তাই এমন এডভেঞ্চার আমি আরও করেছি কিন্তু আমার সব চেয়ে প্রিয় স্থানে যে অভিজ্ঞতা হল তা আর ভুলতে পারলাম না।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়