SAHA ANTAR

Published:
2020-11-29 19:11:09 BdST

এমআরসিপি পার্ট ২ : ১০০০ মার্কের মধ্যে ৯০৬ নাম্বার পেলেন ডাঃ মাহমুদুল হক জেসি



ডেস্ক
___________________


এমআরসিপি পার্ট-২ পরীক্ষায় ১০০০ মার্কের মধ্যে ৯০৬ নাম্বার পাওয়া ডাঃ মাহমুদুল হক জেসি।

ডা.মাহমুদ রায়হান জানান,
MRCP পরীক্ষায় এবার পাস মার্ক ছিল ৪৫৪, সেখানে ৯০৬ কেবল অবিশ্বাস্য নয়, অতিমানবিক ও...
সারা দুনিয়াতে আমাদের একটি ছেলে প্রথম।
এবার না - নিকট অতীতে সারা পৃথিবীতে ৯০০ ক্রস করাটা দুর্লভ।
 
জেসি কে আমার প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল এই ছেলের মাথায় সমস্যা আছে। প্রিপারেশন মনমতো হয়নি, তাই সেকেন্ড প্রফে বসবে না। সে বসে ও নি। পরেরবার যখন বসল সেটি ছিল ইতিহাস।
আমার থেকে ৩ বছরের ছোট ছেলেটির পোস্টিং এখন শরীয়তপুরে। আমি জানি, কিছুদিন পরে এই ছেলেটি সিস্টেমের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাবে, অথবা ইংল্যান্ড ই তাকে ডেকে নিয়ে যাবে। আমরা হারাবো আরেকটি অমিত প্রতিভা।
এদেশে  প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হলে তাকে নিয়ে মাতামাতি হয়, কিন্তু আমরা কদিন পরেই ভুলে যাবো আমাদের একটি ছেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সারা পৃথিবীতে প্রথম হয়েছিল।
গত দুয়েক বছরে MRCP আর PLAB পরীক্ষায় আমার জুনিয়রদের সাফল্য আমাকে এখন আর আনন্দিত করে না, ভীত করে।
সব মেধাগুলো বিদেশে চলে যাচ্ছে, আমাদের সিস্টেমে আমরা তাদের ধরে রাখতে পারছি না....
আমার নিজের যদি কিছু হয়, বুড়ো বয়সে আমি এই দেশে কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো?

 

তার সহপাঠ ডা. মেজবাহ্ চৌধুরী জানান,
এমআরসিপি পার্ট-২ পরীক্ষায় ১০০০ মার্কের মধ্যে ৯০৬ নাম্বার পাওয়া ডাঃ মাহমুদুল হক জেসিকে অভিনন্দন। কাকতালীয়ভাবে আমরা ডিএমসিতে একই ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। এর বাইরে তার এই সাফল্যে আমার কোন ধরনের অবদান নাই। মাঝে মধ্যে ইনবক্সে চ্যাট হয় আমাদের; এর বাইরে আমাদের তেমন কোন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও নাই।
তার এই সাফল্য অনেকের কাছে অবাক করা বিষয় হলেও আমরা যারা তাকে চিনি বা জানি তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কারণ এরকম কলিজা কাপানো ফলাফল সে এই প্রথম করছে ব্যাপারটা এমন না। ডিএমসির বিভিন্ন বিষয়ের অধ্যাপকরা মাহমুদুল হকের ছাত্রাবস্থা থেকেই ভূয়সী প্রসংশা করে আসছে। কনভেনশনাল পরীক্ষা পাসের দিকে খেয়াল না করে শুধু নিজের জ্ঞানের ক্ষুধা মেটানোর জন্যই সে তার জীবনের শতকরা ৬০ ভাগ সময় ব্যয় করেছে।
তাকে শুধু ট্যালেন্টেড বললে তার পরিশ্রমী এবং হার না মানা মানসিকতাকে অপমান করা হবে। গত ১২ বছর ধরে প্রত্যেকটা দিন (হাতে গোনা সব মিলিয়ে ৮-১০ দিন বাদ যেতে পারে) সে গড়ে ৮ ঘন্টা করে পড়াশুনা করে আসছে। সুতরাং তার এই ফলাফল মোটেই আকস্মিক নয়; এটা তার কঠোর অধ্যবসায়ের ফলাফল। এই মানের পড়াশুনা করে সে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে পৃথিবীর যেকোন দেশে মেডিসিন বিষয়ের যেকোন পরীক্ষায় সে টপ করার যোগ্যতা রাখে।
আমি তার জীবনের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করি।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়