Ameen Qudir

Published:
2017-01-20 04:40:21 BdST

এখন তো ভগ্নিপতির মতো কথা বলা যাবে না: আবদুল হামিদ


 

 

 

ডা. সুনীল বরণ সাহা_________________________

দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যাওয়ার সৌভাগ্য মানে অনন্য ও স্মরনীয় অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আসা।
তিনি বলেন সরস ও প্রাণস্পর্শী কথা; যা কেবল তার পক্ষেই বলা সম্ভব।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সবার মন কেড়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বললেন_

“আমার এখন আবার সমস্যা। আমি তো এখন রাষ্ট্রপতি। সুতরাং ভগ্নিপতির মতো এখন বলা যাবে না।”

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর জন্ম শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।


স্পিকারের দায়িত্ব পালনের সময় থেকে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় আবদুল হামিদ বলেন, “কোন কথার কোন অর্থ কে যে কীভাবে করে... আমি লেখার (লিখিত বক্তব্য) মধ্যে থাকতে নিরাপদ বোধ করি। লেখার ভেতর থাকা সত্ত্বেও আমার কথা কতভাবে যে টুইস্ট হয়, নিউজ হয়!”

হাস্যোজ্জ্বল মুখে আবদুল হামিদ বলেন, “এমন একটা ব্যাপার যাই করুক না কেন আমার কোনো সুযোগ নাই প্রতিবাদ করার। বেকায়দা একটা পজিশনে আছি। আমি এটা বলতে পারি না, আপনি যেভাবে বলছেন, আমি সেইভাবে বলি নাই। এটারও সুযোগ নেই।”

“আমি আবার লেখায় ফিরে যাই,” বলে আবার নিজের লিখিত বক্তব্যের ফিরে যান আবদুল হামিদ।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকারে মনসুর আলী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময়কার কথা্ও আসে আবদুল হামিদের কথায়।

“আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যেতাম। উনার (মনসুর আলী) সিগার খাওয়ার অভ্যাস ছিলো। সিগার খাইতেন। আমারও তখন অভ্যাস ছিল, সিগারেট খাইতাম। উনি যখন সিগারের প্যাকেটটা রাইখা অন্য কোথাও গ্যাছে আমি চার-পাঁচটা সরায়া ফেলতাম।”

রাষ্ট্রপতির একথায় পুরো মিলনায়তনে হাসির রোল পড়ে।

রাষ্ট্রপতি বলতে থাকেন, “উনি ট্যার পাইতেন না। গুনে রাখতেন না। সিগার বাংলাদেশে পাওয়া যাইতো না, বিদেশ থেকে আসতো। এটা খাইতে একটু টেস্ট... অনেক ইতিহাস...।”

আবদুল হামিদ বলেন, “আমার একটা সুবিধা ছিল, শুধু এমএনএ না, এমপিদের মধ্যেও আমি সবার ছোট ছিলাম। এজন্য সবাই, জাতীয় নেতা যারা আছে, সবাই স্নেহ করতেন এবং এই স্নেহের পুরোটাই আমি ব্যবহার করেছি।”

এসময় আবারও হাসির রোল পড়ে পুরো মিলনায়তন জুড়ে।

মঞ্চে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে জেল জীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আবদুল হামিদ।

“মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী, আমরা একসঙ্গে জেলে ছিলাম। সে ইতিহাস। ময়মনসিংহ জেল থেকে আমারে ট্রান্সফার করে দিল কুষ্টিয়া জেলে। হঠাৎ শুনলাম তোফায়েল সাহেব কুষ্টিয়া জেলে আসবেন। ভাবলাম দেখাটা হবে। কিন্তু উনাকে আনবার আগেই আমাকে ট্রান্সফার করে দিল রাজশাহী জেলে। দেখাটা হল না। আবার রাজশাহী থেকে তদবির করে ঢাকায় আসলাম। জেল থেকে ট্রান্সফার হওয়া, সেখানেও তদবির লাগে। তখন লাগত, এখন লাগে কি না, জানি না।”

___________________________

লেখক লোকসেবী চিকিৎসক।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়