Ameen Qudir

Published:
2019-10-15 11:12:25 BdST

অভিজিতের বিশ্বজয়ে গর্বিত বিশ্ববাঙালি


 

ডেস্ক
_____________________
অভিজিতের বিশ্বজয়ে গর্বিত বিশ্ববাঙালি । সবাই অভিভূত। বাঙালিই পারে। গৌরবের অংশী হয়ে বলছেন, অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেনের পর দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে কিছুটা অল্প বয়সেই অভিষেক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন । বাঙালির এই অর্জনে আমরা যেমন গর্ব বোধ করছি তেমনি প্রতিটি বাঙালির জন্য এটি একটি সুসংবাদ ।

কানাডা প্রবাসী কল্যাণ চিন্তক সুব্রত নন্দী লিখেছেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বাঙালি অভিজিত ব্যানার্জি এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর সঙ্গে এই পুরস্কারের অন্যান্য অংশীদাররা হলেন তাঁর স্ত্রী ফ্রেঞ্চ- আমেরিকান ইস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। অভিজিত ব্যানার্জি ও তাঁর স্ত্রী ডাফলো দুজনেই ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির রিসার্চ ফেলো। ডাফলো আমেরিকান ইকোনমিকস' এর সম্পাদক গবেষক। অভিষেক ব্যানার্জির বয়স মাত্র আটান্ন বছর যিনি কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ ও জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এইচ ডি করেন। অভিষেক ও তাঁর দুই সহকর্মীর গবেষণার বিষয় ছিল দারিদ্র্যতা দূরীকরণে সক্ষমতা অর্জনে একটি মডেল উদ্ভাবন । সুইডিশ একাডেমি অব নোবেল এর মুখপাত্ররা বলেছেন যে গত দুই দশকে অভিষেক গং এর অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করে ভারতের চড়ম দরিদ্র পাঁচ মিলিয়ন শিশু সরাসরি উপকৃত হয়েছে।
ইন্ডিয়ান টাইমসের নিয়মিত কলামিস্ট অভিষেক ব্যানার্জি বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনায় আসেন চারটি বই লিখে যা পৃথিবীর সতরটি ভাষায় অনুদিত হয়ে অর্থনীতির ছাত্রদের শিক্ষা সূচিতে কাজে লাগছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ম্যাসাচুসেটসে গ্লোবাল রিসার্চ অন ইকোনমিক্সের উপর "আব্দুল লতিফ জামিল প্রভার্টি একশন ল্যাব( J-PAL) "প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন ভাল রান্না বিশারদ এবং হিন্দুস্তানী ক্লাসিকালের চড়ম ভক্ত । তাঁর বাবা দীপক ব্যানার্জি কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন মা নির্মলা ব্যানার্জিও ছিলেন অর্থনীতির অধ্যাপক ।
অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেনের পর দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে কিছুটা অল্প বয়সেই অভিষেক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন । বাঙালির এই অর্জনে আমি যেমন গর্ব বোধ করছি তেমনি প্রতিটি বাঙালির জন্য এটি একটি সুসংবাদ ।

 

কবি সুবোধ সরকার অনলাইন খোলা কলমে লিখেছেন, অমর্ত্য সেনের পর আর এক বিস্ময় প্রতিভা। সারা বিশ্বের কাছে আর এক চমক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় । দ্বিতীয় বাঙালি যিনি অর্থনীতি বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন । মাত্র ৫৭ বছর বয়েসে। আজ কিছুক্ষণ আগে স্টকহোম থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুজো যেতে না যেতে এর চেয়ে বড় খবর বাঙালির ঘরে আর কী-ই বা হতে পারত। আমি ইকনমিক্সের লোক নই। চাল ডাল আলু পেঁয়াজের হিসাব বুঝতেই কালঘাম ছুটে যায়, তবু অভিজিতবাবুর অনেকগুলো লেখা আমি পড়েছি আনন্দবাজারের পোস্ট এডিট পেজে। সহজ করে কঠিন জিনিস বোঝাতে পারেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটাই মিল তিনি এত বছর ধরে যে বিষয়ে কাজ করছেন তার নাম -- দারিদ্র । আমি চল্লিশ বছর কবিতা লিখে এলাম, বিষয়-- খিদে। অমিল একটাই তিনি হলেন জিনিয়াস। আর আমি হলাম খিদে নিয়ে ফিউরিয়াস।

হার্ভার্ড , এম আই টির প্রফেসর অভিজিৎ বিনায়ক
বন্দ্যোপাধ্যায়কে অফুরন্ত অভিনন্দন। অভিনন্দন তাঁর স্ত্রীকেও, এস্থার ডাফলো-কে, যৌথভাবে পেয়েছেন এই সম্মান। ভালই হল, এক বাড়িতেই ঢুকল ।

গতকাল সৌরভ পেলেন ক্রিকেটের রাজমুকুট। আজ অভিজিৎ পেলেন স্টকহোমের নোবেল। বাঙালি হিসেবে গর্ব করার জায়গাটা দুদিনে অনেকটা বেড়ে গেল।
যাঁরা দিল্লিতে বসে বলে দেন বাঙালি শেষ হয়ে গেছে তাদের গালে এত বড় থাপ্পড় নেমে আসবে
ভাবিনি। আজ আর একজনের কথা পড়ছে-- মেঘনাথ সাহা , মুদির ছেলে, পাঁচ পাঁচবার তাঁর নাম উঠেছিল নোবেল কমিটির টেবিলে।

মনোবিজ্ঞানী সোনালী চট্টোপাধ্যায় অনলাইন খোলা কলমে লিখেছেন, একজন বাঙালী নোবেল পেলেন এই খবরটাতে অবশ্যই গর্ব বোধ করছি, বিশেষ করে যখন জানতে পারছি তাঁর লেখাপড়া South Point স্কুলে, প্রেসিডেন্সি কলেজে - আরো ভালো লাগছে । এই রকম অনেক বাঙালি পশ্চিমবঙ্গের নামী বা অনামী স্কুলে - কলেজে পড়াশুনা করে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন । শুধু বাঙালি না বলে যদি ভারতীয় হিসেবে বলি তাহলে তো একই ব্যাপার হয় । প্রচুর ভারতীয় ভারতে জন্মে, ভারতে লেখা পড়া শিখে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশে চলে গিয়ে বিদেশেই কাজে নিযুক্ত হয়ে গেছেন । অর্থাৎ ভারতের লেখা পড়াতে যে বুদ্ধির বিকাশ ঘটছে তা গোটা বিশ্বের দরবারে গুরুত্ব পাচ্ছে । এই সব ভারতীয় এমন কিছু কাজ করছেন যাতে সেই দেশের মানুষ এবং গোটা বিশ্ব প্রভূত উপকৃত হচ্ছেন । কিন্তু ভারতবর্ষে কি উপকৃত হচ্ছে? সবাই বলবেন Migration তো হবেই ।এটা সমাজের নিয়ম । আর্যরাও migrate হয়ে এদেশে এসেছিলেন । যেখানে জীবিকার সুযোগ, কাজের সুযোগ সেখানেই তো মানুষ যাবে । যেমন প্রচুর মানুষ বিহার থেকে কলকাতায় আসেন কাজের খোঁজে, প্রচুর মানুষ আমেরিকা, লন্ডন জাপান ইত্যাদি দেশে যায় কাজের খোঁজে । এটা খানিকটা স্বাভাবিক । কিন্তু কতটা ? আজ দেশ যে পরবর্তী generation কে তৈরী করছে তার একটা বড় অংশ যদি বিদেশেই চলে যায় তবে তো দেশ তার মেধাকে হারিয়ে ফেলবে । কেন ভারত দেশের মেধাকে দেশের কাজে লাগাতে পারছে না ?

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়