Ameen Qudir

Published:
2019-09-24 11:50:18 BdST

বাংলাদেশের মনোরোগ চিকিৎসার জীবন্ত কিংবদন্তি অধ্যাপক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম


ডা. সুলতানা এলগিন
___________________________________

 

বাংলাদেশের মনোরোগ চিকিৎসার জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। উপমহাদেশ খ্যাত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের সেরা ডাক্তার তিনি। তিনি অধ্যাপক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম । আজ তাঁর ৮৫তম জন্মদিন। ডাক্তার প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই ফুলেল শুভেচ্ছা।
বাংলাদেশের মনোরোগ চিকিৎসা তার হাত ধরেই আজকের পর্যায়ে এসেছে। তিনি পথিকৃৎ আমাদের সকল অর্জনের । পাবনা মানসিক হাসপাতাল, এনআই এমএইচসহ বাংলাদেশের মানসিক রোগের সেবালয়গুলো তার হাত ধরেই আজকের সফল পর্যায়ে এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে লাখো রোগীর সেবার পাশাপাশি মানসিক রোগ চিকিৎসার প্রতিষ্ঠানগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন সুদক্ষ হাতে। তিনি আমাদের জন্য রেখেছেন শিক্ষা: কিভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট:বিএপি: এর পক্ষ থেকে স্যরকে অভিনন্দন। তিনি দীর্ঘজীবি হোন। তাকে সবসময় অভিভাবক হিসেবে আমরা পেতে চাই।


বাংলাদেশের শীর্ষ কথাসাহিত্যিক ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট -এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল এক লেখায় স্যারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট; সাবেক পরিচালক, পাবনা মানসিক হাসপাতাল-এর অধ্যাপক হেদায়েতুল ইসলাম স্যারের ৮৫ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
এই প্রিয় শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়ে আমরা গর্বিত । তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি ।

স্যারের নিজের কলম থেকে কিছু কথা
_____________________________
বাংলাদেশের মনোরোগ চিকিৎসার জীবন্ত কিংবদন্তি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম । তিনি এক অনন্য স্মৃতিকথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন,
"১৯৫৩ সালে আমরা যখন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হই তখন ১২০ জন ছেলে-মেয়ের মাঝে ৮০ জন মেধা ভিত্তিতে নির্বাচিত হই। ১০ জন বেলুচিস্তান থেকে ভর্তি হয় (ওখানে মেডিকেল কলেজ না থাকার কারণে ) ও ২০ জন নমিনেশনে ভর্তি হয়। আমরা ঢাকা কলেজ থেকেই ৩৪ জন ভর্তি হই। এর বাইরে মেধার কারনে তখনকার দিনে নামি-দামি সরকারি কলেজগুলো থেকে মেধাবী ছেলে-মেয়েরা ভর্তি হয়।
আমার নিজের বেলায় ভর্তি পরীক্ষার সময় সাত দিন জ্বরে ভুগছিলাম। তবুও ১৮ সদস্যের নির্বাচনী বোর্ডের সমীক্ষায় খুবই ভালো করেছিলাম। একজন সদস্য বলে ফেললেন তোমাকে এতো দুর্বল দেখাচ্ছে কেন? জবাবে আমি জানালাম গত সাত দিন আমি দুধ, বার্লি ইত্যাদি তরল খাবারের উপরে নির্ভরশীল ছিলাম। ওই সদস্য বললেন স্বাভাবিক খাবার না খেয়েই তুমি যখন এতো ভালো করছ স্বাভাবিক খাবার খেলে না জানি কতো ভালো করতে। ওই নির্বাচনী পরিক্ষায় আমি ১৬তম স্থান অধিকার করি। যদিও আমাদের ব্যাচে সমস্ত দেশের বোর্ডস্টান্ড করা বেশ কয়েকজন ছিল। পরবর্তী সময়ে একটি পর্যালোচনা করে দেখেছিলাম আমাদের ব্যাচের ৫৬জন ছেলে-মেয়েই পোস্ট-গ্রাজুয়েশন করতে সক্ষম হয়েছিল। আমি অবশ্য খুবই ভাগ্যবান ছিলাম ১৯৬২ সালে সরকারী বৃত্তি পেয়ে মানসিক রোগ বিভাগে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলাম ও কৃতিত্বের সাথে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম।
১৯৬৪ সালে সরকারী এক সিদ্ধান্ত অনুসারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের টিচারের স্বল্পতা থাকার কারনে এক ব্যাচেই ৬৪ জনকেই সরকারী বৃত্তি দিয়ে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিলো। এর মাঝে আমাদের ব্যাচের ছেলে-মেয়েদের সংখ্যা বেশি ছিল এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র টিচারও ছিলেন।
এক সময় আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছিলাম আমাদের ব্যাচের ছয়জনই দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও দুই জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মহা-ব্যবস্থাপক হয়েছিলেন।
এই ছবির মাঝে ৫ জনই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এদের মাঝে আমরা দুজন আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে বেচে আছি। একজন কানাডা ও আমি নিজ দেশে। যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তাঁদের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া করছি। দেশে-বিদেশে যারা বেচে আছেন তাঁরা যেন আগামীদিনগুলো সুস্থ, সুন্দর জীবন কাটাতে পারে এই দোয়া করছি।"
______________________________

ডা. সুলতানা এলগিন
জেষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ ও ওসিডি কনসালটেন্ট
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়