Ameen Qudir

Published:
2019-06-24 10:30:42 BdST

'আমি এখনও হাসপাতালেও যাইনি : আমার মৃত্যুর খবর জানিয়ে দিল , মানুষ কত ভালবাসে আমাকে'


 

 

 

ডা. সুনন্দ সাহা রায়________

ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় বা ভিক্টর ব্যানার্জি আমার বড় প্রিয় অভিনেতা। প্যাসেজ টু ইন্ডিয়ায় অভিনয় করে গোড়াতেই কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বৃটিশ চলচ্চিত্রকে। তারপর তো তিনি জীবন্ত ইতিহাস। কিংবদন্তি।
তার মৃত্যুর খবর শুনে হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। তারপরও মন বলছিল , না , তিনি কেন মরবেন। কদিন আগেও কথা হল। দেখা হল। অসুস্থতার লেশ ছিল না। তাই চটজলদি ফোন দিলাম মৃতের নম্বরেই। ধরলেন, মৃতই। সহাস্যে বললেন, কে! সুনন্দ! ডাক্তার ? আরে আরে আমি তো এখনও হাসপাতালেই যাই নি ; তো মরব কেমন করে!

শুনে যেন ধড়ে এল প্রাণ। আমার।
গুজব বাড়িয়ে দেয় জনপ্রিয়তা। মানলেন দাদাও। বললেন, মৃত্যু আমার আয়ু ও জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিল মনে হচ্ছে। হাসছেন।
যাই হোক, জীবিত কাউকে এভাবে মেরে ফেলে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়। আমার কথা শুনে আবারও হাসলেন। বললেন, তা ঠিক। তবে মলিন মনের মানুষেরা এভাবে অন্যের ক্ষতি করতে গিয়ে উপকারই করে যে। এবার তো তাই দেখলে!

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই সিনেমা জগতে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া৷ অথচ নিজের মৃত্যু সংবাদ শুনে রসিকতা করলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মজার ছলে তিনি বললেন, “ভুয়ো মৃত্যু সংবাদ আমাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলল। যদিও এটা একটা খারাপ জোক ।”

রবিবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করে অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর। কোথা থেকে এই খবরে উৎপত্তি তা জানা যায়নি। তবে অনেকেই অভিনেতার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। যদিও কিছুক্ষণ পরেই জানা যায় তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন৷ খবরটি যে ভুয়ো তা একটি ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করে জানান ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ে কেয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পণ্ডিত। তিনি কমেন্টে লিখেছিলেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর। আমার বাবা ভালো আছেন। সুস্থ আছেন।” জানা গিয়েছে ওইসময় অসমের মোরান ব্লাইন্ড স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন ভিক্টর।

এদিন ফেসবুকে যিশু সেনগুপ্ত’র নামে থাকা একটি পেজে ভিক্টরের মৃত্যুর খবর শেয়ার হয়। যদিও সেটা অভিনেতার ভেরিফায়েড পেজ নয়। কিন্তু অনেকেই সেই খবর বিশ্বাস করতে শুরু করেন। এরপর উইকিপিডিয়াতেও তাঁর মৃত্যুর দিন ২৩ জুন লেখা হয়। ফলে খবর আরও বেশি করে ছড়াতে শুরু করে, যদিও পরে উইকিপিডিয়ায় সেই তারিখ মুছে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ৭২ বছর বয়স ভিক্টরের। সেন্ট জেভিয়ার্সের সাহিত্যের এই ছাত্র পরবর্তীকালে পড়াশোনা করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিনেমা জগতে এসে তাবড় সব পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, শ্যাম বেনেগাল, জেমস আইভোরির মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সতরঞ্জ কে খিলাড়ি, একান্ত আপন, ঘরে বাইরে, সরকার রাজ, শ্বেতপাথরের থালা, গুন্ডে’র মতো সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেছেন এই বাঙালি মহাতারকা৷

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়