Ameen Qudir

Published:
2019-03-19 22:01:35 BdST

২৯ বার গেছেন হিমালয়ে, ৩০তম যাত্রার পথে ৯৯ বছর বয়েসের স্কুল মাস্টার



ডেস্ক
______________________


এই অক্টোবরে শতবর্ষে পড়বেন। তাতে কী! রোমাঞ্চ তাঁকে এখনও তাড়া করে বেড়ায়। পাহাড়ের মাদকতাময় রোমাঞ্চ। শতবছরের কাছে দাড়িয়েও নেশা আবারও তীব্র। হিমালয় দেখবেনই।

ছেলেবেলাতেই মাথায় চাপে পাহাড়ের নেশা। তা যে শতবর্ষের দোরগোড়াতেও তাঁকে তাড়া করে বে়ড়াবে, তা নিশ্চয়ই ঠাহর করে উঠতে পারেননি ৯৯ বছরের চিথরান নাম্বুদ্রিপাদ। কেরালার এই বৃদ্ধ ইতোমধ্যেই ২৯ বার হিমালয়ে ঘুরে এসেছেন। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৩০তম ট্রেকের।

৯ বছর বয়সে এক প্রতিবেশীর কাছে বিভোর হয়ে শুনতেন হিমালয়ের গল্প। তখন থেকে ভালো লাগা। বৃদ্ধা জানালেন, '১৯৯০ সালে প্রথম সফর করি। হিমালয়ের কেদারনাথ, বদ্রিনাথ ঘুরে দেখি। তারপর থেকে প্রতি বছর যাই। কোনও বছর বাদ যায়নি।' ২০১৯ সালের অক্টোবরে একশো বছর পূর্ণ হবে তাঁর। সেই মাসেই নিজের ৩০ তম হিমালয় যাত্রা করতে চান বৃদ্ধা।

কীসের টানে যান হিমালয়ে? একাধিক জবাব মেলে। ত্রিশূরের বাসিন্দা বলেন, 'দেশের সব বড় নদীর জন্ম ওই পর্বত থেকে। এটা আমার দারুণ লাগে। হিমালয়ের যেকোনও প্রান্তে যেতে আমি রাজি। তবে নদীর জন্মস্থলে, গঙ্গোত্রীতে যেতে বেশি ভালো লাগে।' তাঁর কথায়, বিভিন্ন দেশের থেকে ভারতকে দেওয়ালের মতো রক্ষা করে পর্বরতগুলি। এটাও বেশ ভালো গালে।

আগের ট্রেকের কথা বলতে গিয়ে নস্ট্যালজিক হয়ে চিথরান বলেন, 'খাঁড়া পাহাড় দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেক করতে হত। এখন সেটা সহজ মনে হয়। বেশি হাঁটতে পারি না। তাই বাসে ও তারপর ঘোড়ার পিঠে চড়ে যেতাম। প্রতি বছর ট্রেনে দিল্লি যাই। এ বার হয়তো উড়ানে যাব।'

১৯৫২ সালে বন্ধুর সঙ্গে হিমালয়ে পাড়ি দিলেও ভাগ্য সদয় হয়নি। অসুস্থ হওয়ায় তাঁদের ফিরতে হয়েছিল। জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ নিজের গ্রামে প্রথম হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জানালেন, 'পরিবার চাইত আমি আইনজীবী হই। কিন্তু আমি শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম।' নিজের স্কুলে প্রায় এক দশক হেডমাস্টার ছিলেন তিনি। পরে তিনি স্কুলটি সরকারে দান করে দেন।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়