Ameen Qudir

Published:
2018-10-12 11:49:45 BdST

শুক্রবারের বিশেষ কলাম প্রাণ গোপাল স্যারের প্রাণবন্ত লেকচার:ক্লাশ শেষে পাঞ্জাবি এবং শাড়ী উপহার পেয়ে সবাই অভিভূত


 


ডা. কামরুল হাসান সোহেল

______________________________

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমী (এনএপিডি) তে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার- এর ৯৮ তম বিশেষ বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণরত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আয়োজিত ৷৷৷৷৷ " Doctor- Patient Relationship" টপিকসের উপর গত ০৯/১০/১৮ ইং, মংগলবার, সন্ধ্যা ৭ টায় এনএপিডির প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মিলনায়তনে বিশেষ লেকচার ক্লাশ নেন বি এস এম এম ইউ-এর সাবেক ভিসি,দেশ বরেণ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত স্যার।

 

স্যারের প্রাণবন্ত লেকচার সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত উপভোগ করে। স্যার বলেন, ডাক্তারদের সবসময় দুই পাশেই তীক্ষ্ণ, ধারালো তলোয়ারের মত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।ডাক্তার যত কিছুই করুক, যত সেবাই দিক তবু রোগীদের সন্তুষ্ট করতে পারবেনা। স্যার নিজের জীবনের দুইটি কাহিনী বলে আমাদের দেশের রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনের মন-মানসিকতা কেমন তা বুঝিয়েছেন।

স্যার তখন চট্টগ্রামে প্র‍্যাক্টিস করেন রাত দশটা বাজে,চেম্বারে ৭ টা তালা লাগিয় চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন তখনই তিন/চার বছরের এক বাচ্চাকে নিয়ে তার বাবা,মা স্যারের চেম্বারে হাজির। স্যার তাদের বললেন, চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছি আজ আর রোগী দেখা সম্ভব না।তখন রোগীর বাবা,মা অনেক অনুনয় করে স্যারকে তাদের বাচ্চাকে দেখে দিতে বলেন। স্যার তার এসিস্টেন্টকে দিয়ে ৭ টা তালা খুলে আবার চেম্বার খুলেন এবং বাচ্চাটিকে দেখে দেন। বাচ্চাকে দেখে দিয়ে স্যার ভিজিট নিয়ে নিজের বাসার দিকে হাটা দেন। কিছুক্ষণ পরে ঐ রাস্তা দিয়ে বাচ্চার বাবা,মা রিকশায় করে ফিরছিলো। তারা বলছিলো এত বড় ডাক্তার তা ও ১৫০ টাকার লোভ সামলাতে পারলো না? স্যার এই কথাটা শুনে ফেলেন এবং খুবই মর্মাহত হন। স্যার ঐ লোকটার পকেটে ১৫০ টাকা গুজে দিয়ে লোকটিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই হাটা দেন নিজ বাড়ীর দিকে।

 

এর কিছুদিন পরে একই রকম পরিস্থিতিতে স্যার এক রোগীকে না দেখে ফেরত পাঠিয়ে দেন আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে।তখন রোগীর লোকজন বলে ডাক্তার সাহেবের অনেক টাকাপয়সা হইসে তো তাই মানুষকে আর মানুষ মনে করেন না!! এই হল আমাদের দেশের রোগী আর তাদের আত্নীয়-স্বজনের মন-মানসিকতা।

Doctor- Patient Relationship সম্পর্কে স্যার বলেছেন,
* রোগীর সাথে হাসি দিয়ে কথা বলতে হবে,
* রোগীর সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে,
* রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে,
* রোগীকে গুরুত্ব দিতে হবে,
* রোগী ও তার রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে,
* রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে,চিকিৎসা পদ্ধতি ও চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে সব বিস্তারিত বুঝিয়ে বলতে হবে, কাউন্সেলিং করতে হবে।
* রোগীর চিকিৎসা ব্যয় যথাসম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
* রোগীর বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে।

 

রোগীর ও তার ডাক্তারের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে, আস্থা রাখতে হবে, তাকে সম্মান করতে হবে, তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক হবে সৌহার্দ্যপূর্ণ।

স্যার ক্লাশ শেষে সবার মাঝে উপহার বিতরণ করেন। ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের শাড়ী উপহার দেন। স্যারের লেকচার শুনে সবাই যেমন মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছে তেমনি স্যারের উপহার পেয়ে সবাই অভিভূত হয়েছে। স্যারের মত একজন জ্ঞানী,গুণী ব্যক্তির সাহচর্য পেয়ে, স্যারের আশীর্বাদ পেয়ে সবাই ধন্য হয়েছে।

______________________________--

 

ডা. কামরুল হাসান সোহেল


আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ , কুমিল্লা জেলা।
কার্যকরী সদস্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
আজীবন সদস্য,বিএমএ কুমিল্লা।
সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বিএমএ কুমিল্লা

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়