Ameen Qudir

Published:
2018-03-27 06:19:08 BdST

' আমি এখনো শিক্ষকতা জিনিসটা শেখার চেষ্টা করি: ছাত্রদের কাছ থেকেও অনেক শেখার আছে'


 


প্রফেসর খন্দকার এ কে আজাদ
_________________________________

আমি চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেই ১৯৮৩ সালে। তখন কিন্ত সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের এত ভালো সম্পর্ক ছিল না। এখনকার শিক্ষক রা তো অনেক ফ্রেণ্ডলি।তখন শিক্ষকদের অনেক ভয় পেতাম তাই ইন্টার্ন অবস্থায় RS যারা ছিলেন তাদের থেকেই বেশী শিখতাম।RS দের সাথে সারাদিন লেগে থাকতাম। ক্যারিয়ার প্ল্যান করার সবচেয়ে সুন্দর সময়টা এই ইন্টার্নই। পেশার প্রতি ভালোবাসার শুরুটা হয় এই সময়ে। তাই ক্যারিয়ার প্ল্যানিং টা এই সময়েই শুরু করে দিতে হবে।সেই সময়ে সার্জারির প্রতি ভালোলাগা থেকেই সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। ইন্টার্ন শেষ করে ঢাকায় চলে যাই ১৯৮৪ সালে।ওখানে চৌধুরী হূমায়ুন কবির স্যারের সাথে থেকে কাজ শুরু করি। তারপরে একসময় উপজেলায় পোস্টিং হয়ে গেল। এখানে একটা মজার ব্যাপার হল। ছাত্রজীবনে আমি থাকতাম ২২\এ রুমে। আমার রুমমেট ছিলেন তখনকার ছাত্র সংসদের ভিপি সাখাওয়াত ভাই। উপজেলায় পোস্টিং পাওয়ার পর দেখি সেখানেও সাখাওয়াত ভাই। উনি সেই সময় আমার অনেক উপকার করেছিলেন। আসলে জীবনের এই সময়টায় সিনিয়র দের সাহায্য টা খুব জরুরী। তার কারণেই আমার এফ সি পি এস এর প্রস্তুতির সময়টা সহজ হয়ে গিয়েছিল।

আমার বাড়ি ফরিদপুর জেলার রাজবাড়িতে। আমার স্কুল ছিল উপজেলার হাইস্কুলে। আমার দাদা এবং দাদার পরে আমার বাবা সেই স্কুলেরই হেডমাস্টার ছিলেন। ছোটবেলা থেকে শিক্ষকতা দেখে বড় হয়েছি বলেই হয়ত সবসময় একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার চেয়ে ভালো শিক্ষক হওয়ার প্রতি আগ্রহই বেশী ছিল।তাই আমি এখনো শিক্ষকতা জিনিস টা শেখার চেষ্টা করি YOU TUBE দেখে। কিভাবে ক্লাস নিতে হয় সেটা কেউ আমাকে শেখায় নি, তবে আমি মনে করি ছাত্রদের কাছ থেকে শিক্ষকতার অনেক কিছুই শেখার আছে। আমি তাই প্রতিনিয়ত শিখছি। আমি শেখার চেষ্টা করি কিভাবে ক্লাস নিতে হয়, কিভাবে ভাবের আদান প্রদান করতে হয়, বডি ল্যাংগুয়েজ টা কেমন হওয়া উচিত। এগুলো ছাত্রদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ । আমি বিশ্বাস করি আমরা যদি জানি কিভাবে কথা বলতে হয় তাহলে শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের এবং ডাক্তারদের সাথে রোগীদের দূরত্ব অনেক কমে যাবে। কমিউনিকেশনের জায়গায় ডাক্তারদের কাজ করতে হবে। কারণ এখন আমরা কিন্তু শুধু বাংলাদেশী না, আমরা এখন বিশ্বের নাগরিক। আমাদের ডাক্তারদের যোগ্যতা বিশ্বের কোন প্রান্তের ডাক্তারদের চেয়ে কম না, শুধু প্রকাশের অভাব।

আমি কিন্তু আমার মেডিকেল জীবনে একবার সাপ্লি পেয়েছিলাম, সেটা ছিল গাইনীতে। সেদিন আমি খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভেঙ্গে পড়িনি। সেই আমিই কিন্তু সার্জারি তে এফ সি পি এস কমপ্লিট করে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সার্জারি ডিপার্টমেন্ট এর হেড হয়েছি। জীবনে সফলতা এবং ব্যারথতার নিজস্ব স্থান আছে, এবং দুটিই গুরুত্ব পূর্ণ। একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার জন্য ঈশ্বর প্রদত্ত মেধার দরকার নেই, দরকার সাব্জেক্টের জন্য অধ্যাবসায়, দায়িত্বের প্রতি একাগ্রতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা।এখনকার ট্রেইনি দের মাঝে একটা ধারণা আছে আমি কয়টা কলিসিস্টেক্টমি বা এপেন্ডীসেক্টমী করতে পারলাম সেটা বুঝি খুব গুরুত্ব পূর্ণ। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে ব্যাপারটা কিন্তু এমন না। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাপার তুমি প্রিন্সিপাল টা ধরতে পেরেছ কিনা। অপারেশন টা তুমি করবে কি করবে না, করলে এখন করবে নাকি পরে করবে? এখন করলে কেনো করবে। আর অপারেশন একটা আর্ট , সময়ের সাথে তোমাকে নিজস্ব আর্ট তৈরি করে নিতে হবে। আমি যেই রাস্তা ধরে হেটে গিয়েছি চেষ্টা করেছি আমার এই মূলনীতি আমার ছাত্রদের কাছে ছড়িয়ে দিতে, চেয়েছি আমার উত্তরসুরী তৈরি হোক যারা আমার চেয়ে বহু ভালো সার্জন হবে এবং অনেক ভালো মানুষ হবে।

ডাক্তার হিসেবে সুখী হতে হলে মনে রাখতে হবে আমরা ডাক্তার, বিজন্যাসম্যান না। তাই জীবন নিয়ে, সফলতা নিয়ে খামাখা চিন্তা করা যাবে না। চাওয়া পাওয়া থাকবে সাথে Satisfaction থাকতে হবে।সফলতা আসবেই।
আমি আমার জীবনে প্রচুর সার্জারি করেছি, কিন্তু কখনোই খুব বড় বিপদে পড়িনি। আমি বিশ্বাস করি একজন রোগীর কাছে যদি সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারদের স্থান হয়, তবে একজন ডাক্তারের কাছেও সৃষ্টিকর্তার পরেই রোগীর স্থান।তাই আমি কখনোই রোগীর কাছে কোন কিছুই গোপন করি না, তা যত কষ্টের হোক না কেন, যত কঠিন ই হোক না কেন। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করি এখনো যে সার্জারি রোগীর ভাগ্য। সৃষ্টিকর্তা রোগির জন্য যা লিখে রেখেছেন আমি তাই করি। অনেক সময় খুব সুন্দর অপারেশন চলতে থাকে। সবকিছু in control, in control, in control থেকে হুট করে beyond control, beyond control । যেটা আমাদের বোঝার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা দেননি। যা অনুমান করা যায় না, যা ব্যাখ্যা করা যায় না। সেই সময়ে আমি মনে প্রাণে প্রার্থনা করি আমার হাতে সৃষ্টিকর্তার হাত পরুক , আমার নিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তার নিশ্বাস করুক , প্রতিটা সেকেন্ডে ঈশ্বরের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটুক।
_______________________

প্রফেসর খন্দকার এ কে আজাদ
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি বিভাগ
২০ তম এম বি বি এস
__________________
লেখার ইংরাজি ভার্সন

"I began my internship at Chittagong Medical College in 1983. Back then, the relationship between the professors and the students was not as friendly or open as it is today. Nowadays, the teachers are quite friendly, but at that time, we used to be afraid of our teachers. That's why, we used to learn most of the things from the RS. They could be approached easily and we used to tail them throughout the day."

"Internship is the best time for career planning, because this is the time when you start realising what you like and dislike. I realized I loved surgery and so took my decision to be a surgeon. After completing my internship, I moved to Dhaka where I started working under Dr. Chowdhury Humayun Kabir Sir. From there, I got posted to the Upazilla. Interestingly, about my posting, when I was a student, I used to stay in Room 22/A of the boy's hostel, and my roommate was the then VP of the CMC Student's Union, Sakhawat bhai. Coincidentally, after receiving my posting, I met him there again. During that time, he helped me a lot. To be honest, in such times of your life, the help of your seniors is very important. Because of that, my preparation for my F.C.P.S became easier."

"I grew up in Rajbari of greater Faridpur district, and went to school at the Faridpur District High School. My grandfather was the headmaster of the school, and so was my father after him. Maybe because I had always seen them as headmasters and teachers from a young age is why I was always more eager to be a good teacher to my students than a doctor. Even now, I try to become a better teacher than I am with the help of YouTube. Nobody ever taught me how to take a class or lecture, but I believe that there is a lot to learn about this from my very own students, and I am doing so every moment. I try to learn how to take better classes, how to share my ideas with the students, how my body language should be. These are all vital for students. I believe that if we can perfect the way we talk, we can eliminate the distance between teachers and students, and between doctors and patients. As doctors, we must improve on our communication, because now we are no longer only Bangladeshi; we are global citizens. The ability and aptitude of our doctors can rival those of doctors in any corner of the world. Our only lacking is our inability to fully express ourselves.

"In my medical life, I did once get a Supply - that was in my final Prof in Gynae. That day, I became really upset. But my confidence did not break. That me came back to Chittagong Medical College after completing my F.C.P.S as the Head of the Department of Surgery. Both success and failure have equally vital roles in our lives, and both are equally necessary. You do not need to have any special God-given talent to be a good doctor. What you need is persistence in your subject, concentration towards your responsibilities and love for humanity."

"Trainees nowadays have a misconception that the number of appendicectomy or cholecystectomies they have performed is the most crucial. But in my view, the case is totally different. The most crucial thing is to grasp the principle of surgery. Should you operate or not? If you should, should you operate now or later? If now, why now? And the operation itself is an art. With time, you have to create your own technique, your own art. The path which I have taken, I have always tried to incorporate those values in my students. I hope I can leave behind a successor who will be a better surgeon than I and a much better human being."

"To be happy as a doctor, you must remember that you are in fact a doctor; not a businessman. That's why there isn't much point in worrying about success. After all the give and takes, there should be satisfaction. Success is inevitable."

"I have performed many surgeries in my life, but I never had to face any serious danger. I think that for any patient, the doctor holds the next spot after the Creator, and similarly, for any doctor, his patient will hold the next spot after the Creator. That is why I never conceal anything from my patients, no matter how difficult it may be. I believe in luck, and that the outcome of any surgery is none other than God's will. Whatever the Creator has predestined for the patient, I am nothing but the tool who so execute that destiny. A lot of times, operations go quite smoothly with everything in control, in control, in control to all of a sudden, everything beyond control. This is when I understand that God has not given us the ability to comprehend his methods. We cannot predict this, we cannot explain this. That is when I pray that my hands move with the Creator's hands, that my breaths fall with the Creator's breaths; and in every second, God's will be executed."

Professor Dr Khondker A.K Azad
Former Head of the Department of Surgery
CMC - 20th MBBS
_____________________________

প্রফেসর খন্দকার এ কে আজাদ স্যার মার্চ মাসের চতুর্থ সপ্তাহে অবসরে গেছেন। তার জন্য ডাক্তার প্রতিদিন টিমের পক্ষ থেকে নিরন্তর শ্রদ্ধা ।
লেখাটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সজ্জন লোকসেবী চিকিৎসক ডা. মেসবাহ উদ্দিন আহমদের সৌজন্যে পাওয়া।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়