Ameen Qudir

Published:
2017-07-30 05:57:22 BdST

সুবীরদার কাছে থেকে কারও সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য বের করতে পারলাম না




 

 

 

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল
_______________________________

 

বারো বছর আগে শিল্পী সুবীর নন্দীর সাথে পরিচয় হয়েছিল। আমি তখন সদ্য পাশ করা ডাক্তার, থাকি কুমিল্লা শহরে। ঢাকায় মাঝে মধ্যে আসি।
পরিচয় পর্বটি ছিল মজার। ফোনে ঠিক হলো শাহবাগের মৌলি রেস্টুরেন্টে বসে আমরা কথা বলব। আমি যথা সময়ে যথাস্থানে উপস্থিত। উনিও আসছেন। আমি রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। একটা সাদা করলা গাড়ি থেকে উনি নামলেন, ফরসা টকটকে একজন অভিজাত চেহারার মানুষ।
পরিচয়ের কয়েক মিনিটের মাথায় উনি বললেন "রেস্টুরেন্টে না, আমার বাসায় চলেন"। আমি মৃদু আপত্তি করে রাজি হয়ে গেলাম।
তাঁর গ্রীন রোডের বাসায় নিয়ে গেলেন। বৌদির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমাকে ড্রইং রুমে বসিয়ে বিশ মিনিট সময় নিয়ে মেয়েকে কোচিং থেকে নিয়ে এলেন। তারপর চেইঞ্জ করে একদম ঘরের পোশাকে গল্প করতে বসলেন। ততক্ষণে দুপুরের খাবারের আয়োজন হলো। এত সহজে একজন নতুন মানুষকে আপন করে নিতে দেখে আমি কেবল অবাকই হলাম।
আমি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে এসেছিলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের একটি অনুষ্ঠানে উনাকে নেব বলে। সম্মানীর পুরো টাকাই দিয়ে দেব, এটাই প্ল্যান।

 


উনি নিলেন না। বললেন" নিয়ে যান, যদি অনু্ষ্ঠানে যাই তো সেদিনই দিয়েন। এডভান্স করতে হবেনা। যদি অনুষ্ঠানটি করতে না পারেন তাহলে টাকা ফেরত নিতে আবার ঢাকায় আসতে হবে। "

 

আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়েছিলাম।
সেদিন সন্ধায় জানতে পারি আমাদের অনুষ্ঠানটি হতে দেবেনা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কারণ আমরা সরকার দলের সমর্থক নই, আর যারা আমাদের অতিথি তারাও বিরোধী পক্ষের বুদ্ধিজীবি/ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
আমি সাথে সাথেই সুবীরদাকে ফোন দিলাম। দাদা হেসে বললেন, আমি আপনাদের অতিথির নাম শুনেই বুঝেছিলাম অনুষ্ঠানটা করতে পারবেননা।
এই লেখার উদ্দেশ্য ভিন্ন।
আমি সেদিন দুই ঘন্টা ছিলাম সুবীর নন্দীর বাসায়। এই দুই ঘন্টা তিনি অনেক গল্প করলেন। সেদিন আমার একটা নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।
আমার দেখা সুবীর নন্দীই একজন সেলিব্রেটি শিল্পী যিনি পরোক্ষেও তাঁর কোন সহকর্মী শিল্পীকে অশ্রদ্ধা করে কথা বলেন নি।

 

তখন আমার বয়স অল্প। সিনিয়র শিল্পীরা সহশিল্পীদের নিয়ে অশোভন মন্তব্য করতো দেখে একধরণের কৌতুক অনুভব করতাম। তাই ইচ্ছে করে খোঁচাতাম,মজা নিতাম। সুবীর দাকেও খোঁচা দিয়েছি। সে সময় যাদের নিয়ে সব শিল্পীরা কটু মন্তব্য করত তাদের নাম নিয়েছি।

 

" দাদা, আসিফের গান কেমন লাগে? "
ওহ দারুন ভয়েস।
একটু বেসুরো না?
ওটা তেমন না। দেখবেন যেটুকু আছে গাইতে গাইতে ঠিক হয়ে যাবে।
আমি একটু হতাশ হলাম। লোকটাকে উস্কানো যাচ্ছেনা।

 

দাদা মমতাজ কে কেমন লাগে?
এক্সিলেন্ট পারফরমার। কি পাওয়ার ওর গলায়!
ভাল্গার গান করে।
সেটা হয়ত করে। কি করবে বলেন? ওর ব্যাকগ্রাউন্ড টা দেখেন। কত কষ্ট করতে হয়েছে! ভাল গীতিকার ও পায়নি। কি করবে সে?

 

শাকিলা জাফর?
ও তো আমার বোন। আই ফিল প্রাউড অব হার।
আমাকে শেষ পর্যন্ত হতাশ করে দিলেন সুবীর দা। আমি কোন ভাবেই নেতিবাচক মন্তব্য বের করতে পারলাম না।


সুবীর দার শরীরটা ইদানিং ভালনা। কদিন ধরে ভাবছি দেখতে যাব। যাওয়া হচ্ছেনা। একজন ভাল মানুষ ও শিল্পীর পায়ের কাছে কিছুক্ষণ বসলে মনটা ভাল হয়ে যাবে। যাওয়া হচ্ছেনা।


________________________________

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল ; রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়