Ameen Qudir

Published:
2017-03-15 09:17:39 BdST

মেয়েটি কবিতা লিখে জানিয়েছিল আত্মহত্যার কথা


 

 

ডা. সুজন সোহরাব
________________________

অল্প বয়েসী মেয়েটি তার কবিতায় জানিয়েছিলেন,"
আমি তবুও বেঁচে থাকি-
কেবলমাত্র ঈশ্বর আত্মহত্যাকে বৈধ করেনি বলে।
আমার এমন শব্দহীন জীবন্মৃত নিস্তরঙ্গ ঢেউয়ের মত মৃত্যুর প্রতীক্ষায় বেঁচে থাকার কথা জানলে, ঈশ্বর আত্মহত্যাকে বৈধ করে দিত।"


অামাদের দুর্ভাগ্য , এমন কোন সুরক্ষাচক্র আমরা চালু করতে পারি নি যে, এই মহৎ প্রতিভাবানদের আমরা রক্ষা করতে পারি।
প্রখ্যাত কবি ও চিকিৎসক
সরদার ফারুক জানিয়েছেন, ·

এই লেখাটি তাসমিয়া শান্তা নামে একটি অল্পবয়সী মেয়ের। খবর পেলাম মেয়েটি কিছুক্ষণ আগে আত্মহত্যা করেছে। কী বিপুল অপচয়!

 

 

|| প্রত্যাবর্তন ||
-----------------------

একদিন-
তপ্তদুপুরে, কোন এক নির্জন পথের বাঁকে
জীবন থেমে যাবে।
বহুদিন ধরে লাগাতার হেটে চলা ধুলোমাটির পথে-
আমার পদচিহ্নের উচ্ছেদ হবে।
এই শহরের আলপথ ধরে,
বাবার সাথে গুটিগুটি পায়ে হেটে যাওয়ার গল্প
থেমে যাবে।
ঐ বারান্দায় দাঁড়িয়ে,
একজোড়া নতুন জুতোর জন্য মায়ের সাথে তুমুল
ঝগড়ার কথা ভুলে যাবো।
ভুলে যাবো-
ঐ গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে,
একদল বখাটের সাথে ভাগাভাগি করে এক প্লেট
ফুসকা খাওয়ার গল্প।
.
শীতের সকালে,
উষ্ণতার লোভে আঁকড়ে ধরা প্রেমিকের গালে,
ফাল্গুনে এসে টুক করে চুমু খাওয়ার গল্প ভুলে
যাবো।
চৈত্রের কাঠফাটা রোদে তুমুল ঝগড়া শেষে,
বৈশাখের ঝড়ো হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়া প্রেমের
কথাও ভুলে যাবো।
আরো ভুলে যাবো
আমার অনুসন্ধিৎসু মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা সমূহ!
.
স্বপ্ন ময়ূরের ডানায় চেপে দূর মেঘমালার দেশে
হারিয়ে যাবে আমার সমস্ত কারুকার্যময় দীর্ঘশ্বাস।
এবং আমার প্রেমের বারান্দায় মাকড়শা'র দল জাল
বুনবে- শৈল্পিক দক্ষতায়।
.
দু'হাতে ইচ্ছামৃত্যুরর তাজাফুল নিয়ে,
প্রতিশ্রুতিরর স্ট্যাম্প পেপারে আমার একটা জীবন
লিখে দিব-মৃত্যুর নামে।
তারপর মৃত্যুর অবিশ্বাস্য ভালোবাসায়
আমি ভুলে যাব সমস্ত জাগতিক অভিলাষ।
.
আমি চলে যাবো-
পাহাড়ের ঘন সবুজে লেপ্টে থাকা গোধূলির
রক্তিম আভা ছুঁয়ে,
সুমুদ্রের জলে সূর্যাস্তের মনোমোহন,
চিত্তাকর্ষক দৃশ্য উপেক্ষা করে, দূরে..বহুদূরে!
পৃথিবী ফিকে হতে হতে তলিয়ে যাবে- গাঢ়
অন্ধকারে!
ক্রমাগত আলোর বারিধারায় আমার ঝলসে যাওয়া
চোখ জোড়া মাথা নিচু করে ঈশ্বরের প্রতি
কৃতজ্ঞতা জানাবে, একটুখানি স্বস্তির জন্য।
.
অবশেষে এক নিপুণ প্রক্রিয়ায় সমাপ্ত হবে আমার
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া!
এবং আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনবদ্য মধুর কম্পনে,
গাঢ় অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া পৃথিবী ফের জাগ্রত
হবে।
.
তারপর-
আমার বিনাশপ্রাপ্ত শব ভস্ম পৃথিবীকে বিদায় জানাতে
গিয়ে,
সুমুদ্র পিঠে সুতীব্র উল্লাসে একজোড়া
শঙ্খচিলের উড়াউড়ি দেখে আবার প্রবেশ করবে
পৃথিবীমুখে।
পরিবর্তিত রুপ নিয়ে!
একটা সতেজ বৃক্ষ,
অথবা শহুরে আলপথ
কিংবা একজোড়া শঙ্খচিল হয়ে।

যে কবিতায় জানিয়েছিলেন আত্মহত্যার কথা । সেটা এখানে প্রকাশ হল।

আত্মচিৎকার

- তাসমিয়া শান্তা

একটা অনাহারী দিনশেষে,
সূর্যের শেষ আলোটুকু নিভে
যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে,
আমি প্রবল আকাঙ্ক্ষায় প্রেমিকের দিকে মুখ করে শুই!
আমার শেষ আশ্রয়স্থল ভেবে।
প্রেমিক আমার দুঃখ দ্যাখেনা!
একবুক হাহাকার উপেক্ষা করে,
স্তনে মুখ গুজে গল্প বলে- অন্য নারীর।
এবং একটা সফল সঙ্গম শেষে,
আমার সমস্ত আবদার ছুঁড়ে ফেলে
পরম প্রশান্তিতে নাক ডেকে ঘুমোয়।

আমি প্রেমিকের লোমশ বুকে মুখ গুজে নিঃশব্দে বলি,
'ঈশ্বর , তুমি কি আমার প্রেমিকের মতই নিষ্ঠুর?
ঈশ্বর বরাবরের মতই নিরুত্তর!
আমি ফের হতাশ হয়ে অন্ধকার চিবাই।
আকাশ দেখি।
আর শুনি, জানালার গ্রিলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া লক্ষ-কোটি দীর্ঘশ্বাসের আত্মচিৎকার।
শীতার্ত বস্ত্রহীন অভুক্ত পাখির মত নির্মম অন্তর্দাহে আমার রাত কাটে।
অতঃপর -
ভোর হয়, সূর্য উঠে।
সকালের নরম রোদে-
পাশে শুয়ে থাকা নির্মম নিষ্ঠুরতার ঠাসা ঘুমন্ত প্রেমিককে নিষ্পাপ দেবশিশুর মত লাগে।
আমি ক্লান্ত দুঃখগুলোকে দীর্ঘশ্বাসে চেপে রেখে
তীব্র আবেগে চুমু খাই-
প্রেমিকের ঠোঁটে, গালে, কপালে।
ফিসফিসিয়ে বলি, 'ভালবাসি'!
আমার তপ্ত নিঃশ্বাসের করুণ ব্যাকুলতায় তার ঘুম ভাঙে!
কে জানত, দূরত্বের নির্জনতায় আমাকে একা ফেলে সে এক্ষুনি চলে যাবে?

আমার চোখ ভর্তি জল,
বুক ভর্তি হাহাকার,
এমন আকুল ভালবাসা,
আস্ত একটা শরীর!
এ সব ফেলে প্রেমিক গেল অন্য নারীর কাছে।
বলে গেল, 'ততক্ষণ ভাল থেকো'।

আমার অকস্মাৎ মনে পড়লো,
এক বিকেলে আমার জৌলুশহীন ঠোঁটে চুমু খেয়ে সে বলেছিল, 'ভালবাসি'
আমার চোখ থেকে মুহূর্তেই নিভে গেল পৃথিবীর সমস্ত আলো।
ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হলো গাঢ় অন্ধকার।
আমি আদিম সরলতায় অন্ধকারকে প্রশ্ন করলাম: ভালবাসা কি কেবলই একটা শব্দ?
তার নব্য প্রেমিকা কি তাকে আমার মত করে চুমু খায়?
চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে?
তারও কি আমার মত বুক ধড়ফড় করে ভালবাসায়?
সেও কি এমন আকুল করে চায়?
অসহ্য অবহেলার যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে বলে , ভালবাসি?
আমার মত এমন নির্বিবাদে সেও ভালবাসে?
তবে কি আমার চেনা হাত,
চেনা চোখ,
চেনা ঠোঁট-গাল-কপাল কি সত্যিই অন্য কারো হলো?
অন্ধকারও ঈশ্বরের মত বোবা!
আমাকে উত্তর দেয় না।

আমি অখন্ড নিস্তব্ধতাকে আকড়ে ধরে বেঁচে আছি।
এমন অজস্র অতৃপ্ত রাত্রির দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে,
এত অবহেলায় এই বোবা নগরীতে বাঁচা যায় না।
আমি তবুও বেঁচে থাকি-
কেবলমাত্র ঈশ্বর আত্মহত্যাকে বৈধ করেনি বলে।
আমার এমন শব্দহীন জীবন্মৃত নিস্তরঙ্গ ঢেউয়ের মত মৃত্যুর প্রতীক্ষায় বেঁচে থাকার কথা জানলে, ঈশ্বর আত্মহত্যাকে বৈধ করে দিত।
____________________

.
অনুগল্প : সত্যিকারের সুখী মানুষ
___________________

ছেলেটা আর মেয়েটা হাটছে পাশাপাশি। একজনের হাতের ফাঁকে আরেকজনের হাত।
মেয়েটা চুপচাপ। কথা বলছে না একদম। প্রচন্ড কষ্টে কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আছে। চাইলেও কথা বলতে পারছে না। শরীরজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু বুনো কষ্ট।
ওদিকে ছেলেটা একটু পরপর কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মেয়েটার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আনাড়ি প্রেমিকের মতন অভিমান ভাঙাতে একটু-আধটু কথা বলে যাচ্ছে। ছেলেটা মেয়েটার সামনে বোকাসোকা। কিছু বলতে পারে না। রাগ, অভিমান কোনটাই ভাঙাতে পারে না। সবার সাথে এমন না হলেও, মেয়েটার সাথে এমন।
মেয়েটা অবশ্য রাগ করেনি, অভিমানও না।
কষ্ট হচ্ছে তার, সত্যিকারের পাজরভাঙা কষ্ট!
.
মেয়েটা আর ছেলেটা এখনো পাশাপাশি হাটছে..হাটছেই।
রাস্তার পাশে একটা প্রাইভেট কার দাঁড় করানো আছে। একটা কাপল ঘুরতে আসছে ওই গাড়ি নিয়ে। মেয়েটা আনমনে তাকিয়ে ছিল ওদিকটায়।
ছেলেটা বললো, "আমাদেরও একদিন এরকম একটা গাড়ি হবে। আমরাও গাড়ি নিয়ে এভাবে একসাথে ঘুরতে আসবো।"
মেয়েটা মুচকি হাসলো। মেয়েটা আসলে ওদিকে তাকিয়ে কিছুই দেখছিলো না। গাড়িটা তার নজরেই আসেনি। মেয়েটা ভাবছিল অন্যকিছু।
মেয়েটা মনে মনে বললো, "আমাদের গাড়ি লাগবে না। আমরা দু'জন বরং টাকা জমিয়ে দু'টো সাইকেল কিনবো। তারপর এরকম এক বসন্তের সন্ধ্যায় এই আবছা আলো-আধারের মধ্যে পাশাপাশি সাইকেল চালাবো স্লো মশানে। আর ওইসব কর্পোরেট সুখী মানুষদের ভীড়ে আমরা দু'জন সত্যিকারের সুখী মানুষ হবো। "

___________________


আমি খুব একটা অর্ণামেন্টস পড়ি না। নাকফুল, কানেরদুল, গলার মালা হাবিজাবি কিছুই পড়িনা।
তবে আমার দুইটা জিনিসে খুব দুর্বলতা..খুউব।
এক আংটি আর দুই পায়েল। এই দুইটা অর্ণামেন্টস কেন জানিনা, খুব পছন্দ আমার। পায়েল সবসময় না পড়লেও, আংটি পড়ি।
.
সিএনজিতে বসে আছি আমি। আমার পাশে বসে আছে অর্ক, আমার প্রেমিক। আমার হাতে অনেক পছন্দের একটা আংটি। হাত মুঠো পাকিয়ে আংটিটার দিকে তাকিয়ে আছি আমি। আংটিটা সম্ভবত রবিউল মার্কেটের কোন একটা দোকান থেকে কেনা।
অর্ক আমাকে বললো, 'আংটিটা তো সুন্দর! কবে কিনছো?'
আমি হাসতে হাসতে বললাম, অনেকদিন! সম্ভবত রোজার ঈদের আগে।
ও এটা শুনে আর কিছু বললো না। চুপ করে রইলো।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আমিই বললাম, আমাকে একটা আংটি কিনে দিবা, হুম?
ও কেমন যেন, হঠাৎ করে খুব কঠিন হয়ে গেল।
চোখ-মুখ শক্ত করে বললো, 'না, আমি কখনো তোমাকে আংটি কিনে দেবো না। কক্ষনো না। এমনকি আমাদের বিয়ের সময়ও না। তুমি আমার প্রথম আংটি ভেঙে ফেলছিলা, মনে আছে আমার'
আমার বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। কেমন যেন অদ্ভুত রকমের কষ্ট হচ্ছিল। ও আমার সাথে এমন করে কথা বললো কেন?
আমি প্রচন্ড কষ্টে আর অভিমানে, হাতের আঙুল থেকে আংটিটা খুলে চলন্ত সিএনজির মধ্যে থেকে ছুড়ে ফেললাম বাইরে। সেই সাথে বললাম, 'আমি আর কখনো আংটি পড়বো না।'
আচ্ছা, মানুষের অভিমানও কি এত কঠিন হয় কখনো, আমার মত?'
অর্ক আমার দিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মত হা করে তাকিয়ে রইলো। তারপর খুব অবাক হবার মত মুখভঙ্গি করে বললো, 'আংটিটা ফেলে দিলে তুমি?'
আমি আস্তে করে বললাম, 'হ্যাঁ'
তারপর ওর কাধে মাথা দিয়ে ঘুমের ভান করে বললাম, 'আমার খুব ঘুম পাচ্ছে'
.
বছর তিনেক আগের কথা। আমাদের প্রেমের বয়স প্রায় বছর গড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা তখন দু'জনই ছোট। সবে স্কুলের গন্ডি পার করেছি।
আমাদের তুমুল প্রেম চলছিল। প্রচন্ড আবেগ।
ওই বয়সে যা হয় আরকি...
ছেলেটা এমনিতে অগোছালো টাইপ..বোকাসোকা।
ছুটির সময়গুলোতে সারাদিন বাসার সামনে দিয়ে ঘুরঘুর করতো সাইকেল নিয়ে। একটু আধটু দেখা হতো। কখনো জানালা দিয়ে মুখ বের করে, কখনো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে। কখনো দু-একটা গোলাপ ছুঁড়ে দিত। মাঝেমাঝে আবার সাহস করে এগিয়ে যেতাম। সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দু-চারটা কথা বলতাম।
তারপর রাস্তায় পরিচিত কাউকে দেখলেই, দে ছুট...
.
এরমধ্যে আমার জন্মদিন এসে গেল।
ও আমার জন্মদিন নিয়ে খুব এক্সাইটেড। কিভাবে সেলিব্রেট করবে, কোথায় করবে, কত পাউন্ডের কেক অর্ডার করবে, কে কে থাকবে ইত্যাদি। প্রেম হওয়ার পর প্রথম জন্মদিন বলে কথা! এক্সাইটমেন্ট একটু বেশিই।
এরপরে সব প্লান ভেস্তে দিয়ে জন্মদিনের আগে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে গেলাম আমি। ওই অসুস্থ শরীর নিয়ে আম্মু আমাকে আর বের হতে দিলনা।
সে আগের মতই বাড়ির সামনে দিয়ে সাইকেল নিয়ে ঘুরতেছিল। সন্ধ্যার পর মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানালো, আমি যেন একটু রাস্তায় যাই!
আমি সাথে আরেকজনকে নিয়ে রাস্তায় গেলাম।
ও সাইকেল থামিয়ে দাঁড়াল। আমার বাম হাতটা টেনে নিয়ে একটা আংটি পড়িয়ে দিলো। তারপর কিছু বুঝে উঠার আগেই, ওর দুইহাত আমার দুই গালে রেখে টুপ করে একটা চুমু খেলো! এই চুমুর অনুভূতি ব্যাখ্যা করার মতন শব্দ নেই আমার অভিধানে।
.
আমাদের প্রেম হবার পরে ও আমাকে যা কিছু দিয়েছে, হোক সেটা গোলাপ অথবা সরিষা ফুল, আমি প্রত্যেকটা জিনিস খুব যত্ন করে রাখতাম, রাখি এখনো। এমনকি একটা গোলাপের পাঁপড়িও হারাতে দেইনি।

.

(গল্পটা অসম্পূর্ণ। শেষ করতে পারিনি।
ডিলেট করতে ইচ্ছা করলো না। তাই এটুকুই পোস্ট করলাম)
________________________

আপনার মতামত দিন:


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়