Desk

Published:
2022-07-07 11:05:02 BdST

মগবাজারের ফ্ল্যাটে একা থাকা প্রবীণ চিকিৎসকের অর্ধগলিত লাশ: নি:সঙ্গ মর্মান্তিক মৃত্যু


 


মেডিকেল সংবাদদাতা
______________________

রাজধানীর রমনা থানা এলাকার বড় মগবাজারের একটি বাসা থেকে এক চিকিৎসকের অর্ধগলিত পোকা ধরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত চিকিৎসকের নাম ইকবাল উদ্দিন আহমেদ (৭২)।

বুধবার ৬ জুলাই ২০ ২২ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এই তথ্যজানায় ।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে বড় মগবাজার ২২৭ নম্বর গ্র্যান্ড প্লাজার সাততলার নিজ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে আনা হয়।

 

সিদ্ধেশ্বরী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মোফিজুর রহমান জানান, মৃতের স্ত্রী-মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। তাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে তার কোনো যোগাযোগ হচ্ছিল না। ৯৯৯-এ ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতে ওই বাসা থেকে ডা. ইকবাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহে পোকা ধরে গেছে।

এ বিষয়ে ইকবাল উদ্দিনের একমাত্র মেয়ের জামাই আরিফুর রহমান সিদ্দীক মিডিয়াকর্মীদের জানান, মেয়েকে নিয়ে মৃতের স্ত্রী হাবিবা বেগম সৌদি আরব থাকেন। ডা. ইকবাল উদ্দিনও সেখানে ছিলেন। এর আগে দুইবার স্ট্রোক করায় পাঁচ-ছয় বছর আগে তিনি দেশে চলে আসেন। এরপর থেকে বড় মগবাজারের ওই নিজ ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তিনি।

আরিফ জানান, সবশেষ দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রী-মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে তার। এরপর থেকে ফোনের রিং হলেও আর যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা। মঙ্গলবার বাড়ির কেয়ারটেকার সার্ভিস চার্জের জন্য ওই বাসায় গিয়ে তাকে অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে বিষয়টি স্বজনদের জানান। এরপর থানা পুলিশকে জানালে তারা দরজা ভেঙে ভেতর থেকে তার গলিত পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে। বাসার বাথরুমে উপুড় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পুলিশের ধারণা, অসুস্থার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তার। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে ওভাবে পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছে।

 

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ খবর পেয়ে তালা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে ইকবালের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ইকবাল (৭২) চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাজ করেছেন। দেশে ফিরে এই ফ্ল্যাটে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ওঠেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, মেয়ে পিএইচডি করার জন্য ১৫ দিন আগে কানাডায় যায়, সঙ্গে মাকেও নিয়ে যান তিনি। তারপর থেকে ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন ইকবাল।

লাশ উদ্ধারের সময় ইকবালের জামাতা আরিফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, কয়েকদিন ধরেই তার শ্বশুরকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না।

ইকবালের লাশটি বাথরুমে পড়ে ছিল জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, “মনে হচ্ছে অসুস্থ হয়ে বাথরুমে পড়ে মারা গেছেন তিনি।”

 

এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর
খবরগুলো পড়ে সবাই কষ্ট পাচ্ছি;

কিন্তু প্রবীণদের প্রযত্নে কে কতটা ভূমিকা রাখছি , তা আত্মবিশ্লেষণ করছি না:
অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন, মনোরোগ বিভাগ, বিএসএমএমইউ

প্রবীণ চিকিৎসক ইকবাল উদ্দিন আহমেদ (৭২) এর মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক ও ডাক্তার প্রতিদিন সম্পাদক ডা. সুলতানা আলগিন। তিনি বলেন, এমন মৃত্যু সত্যিই গভীর বেদনাদায়ক। আমি তার পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রবীণ প্রযত্ন সেভাবে বাড়ে নি। শিশু ও নারীর পাশাপাশি এখনও অবহেলিত প্রবীণরা। এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যু বাস্তবতার নিরিখেই মর্মান্তিকভাবে ঘটেছে সত্য। যেই খবরটা পড়ছি ,
সকলেই শোকার্ত হচ্ছি। কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু প্রবীণদের প্রযত্নে কে কতটা ভূমিকা রাখছি , তা আত্মবিশ্লেষণ করছি না।

এর আগে জাহাঙ্গীর নগরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অধ্যাপকও এভাবে একাকী প্রয়াত হন নিজ ফ্লাটে । নগরজীবনে এমন খবর বাড়ছেই। তার লাশও অবহেলায় পড়ে ছিল। আমরা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রবীণদের জন্য একটি সামাজিক সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার কথা বলি সবসময়। সেটা প্রচলিত পারিবারিক কাঠামোয় হতে পারে। প্রবীণদের সকল সুবিধা সম্বলিত প্রবীণ নিবাসেও হতে পারে।মোদ্দা কথা হল , প্রবীণদের একটি সুস্থ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণ স্বজনদের সম্মেলনে থাকতে পারেন। নিকটজন , বন্ধু বান্ধব , সমবয়স্ক কিংবা সমমনস্কদের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেলে প্রবীণ যেমন দীর্ঘায়ু হবেন। সুস্থ সবল মনোবলে থাকবেন। তেমনি এমন মর্মান্তিক নজিরও মানুষকে বিষন্ন করবে না।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়