RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-02-01 19:18:19 BdST
১০ বছরের মেয়ের বন্ধ-ই হত না মুখ! বিরল অসুখে হাঁ করেই 'যন্ত্রণাময়' ৯১২ দিন
সুদেষ্ণা পাল
______________________
এক নয়, দুই নয়, ৯১২ দিন.... আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে সারাক্ষণ মুখ হাঁ করে মুখ খুলে রাখতে বাধ্য হয়েছিল ১০ বছরের ছোট্ট মেয়েটা। এক মুহূর্তের জন্যও মুখ বন্ধ করতে পারত না সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কলকাতার বাসিন্দা১০ বছরের মেয়ের বন্ধ-ই হত না মুখ! বিরল অসুখে হাঁ করেই 'যন্ত্রণাময়' ৯১২ দিন। যার ফলে তার চোয়াল ও মুখের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। যে জন্যই সে মুখ বন্ধ করতে পারছে না।
এই ৯১২ দিন, দীর্ঘ সময় মুখ খোলা হাঁ অবস্থায় তার একদিকে যেমন ছিল শারীরিক কষ্ট, চরম অস্বস্তি, যন্ত্রণা। তেমনই তাঁকে নানারকম সামাজিক কটূক্তির মুখেও পড়তে হয়। বাড়ির লোক সঠিক চিকিৎসার খোঁজে মরিয়া হয়ে রাজ্যের ভিতরে ও বাইরে একাধিক হাসপাতালে ঘোরেন। কিন্তু ওই কিশোরীর যন্ত্রণার সুরাহা হয়নি। শেষে আশার আলো দেখাল রাজ্য সরকার পরিচালিত আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল।
আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা সফলভাবে এই বিরল রোগের চিকিৎসা করেন। টানা আড়াই বছর যন্ত্রণাভোগের পর অবশেষে ওই কিশোরী এখন মুখ বন্ধ করতে পারছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই কিশোরী “অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (এডিইএম)-এ আক্রান্ত ছিল। এটি একটি বিরল অটোইমিউন স্নায়ুরোগ। যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে আক্রমণ করে।”
পাশাপাশি চিকিৎসকরা আরও জানান, দীর্ঘদিন মুখ বন্ধ করতে না পারার ফলে একাধিক জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। মুখগহ্বর শুকিয়ে যাওয়া, চোয়ালের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং দাঁতের অস্বাভাবিক রকম ঊর্ধ্বমুখী বৃদ্ধি। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপ্রা-ইরাপশন’ বলা হয়। এতদিন ধরে মুখ খোলা থাকার কারণে দাঁতগুলোও স্বাভাবিক অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে গিয়েছিল। যার ফলে সংক্রমণ ও স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও বেড়ে গিয়েছি।
এই জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাসপাতালে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। শেষে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা মেয়েটির মুখ বন্ধ করার জন্য পিছনের দাঁতগুলি বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাতে ওই কিশোরীর চোয়াল বন্ধ হয় এবং ভবিষ্যতের পরবর্তী জটিলতাও রোধ হয়। এরপরই ওই কিশোরী এখন স্বাভাবিকভাবে তার মুখ বন্ধ করতে পারছে। তবে পাশাপাশি এডিইএম-এর চিকিৎসাও একসঙ্গে চলছে।
আপনার মতামত দিন:
