DESK

Published:
2026-01-19 20:21:12 BdST

মর্গ থেকে মর্মান্তিকভবঘুরে নাকি সিরিয়াল কিলার: ছয়টি হত্যার কথা স্বীকার সম্রাটের


 

ডেস্ক
___________________________

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ থেকে গত ছয় মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাভার মডেল থানার পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আজ সোমবার সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আজ সাভার মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।


গ্রেপ্তারের পর মশিউর পুলিশের কাছে তাঁর বাড়ি সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনিতে বলেন। আরাফাতুল ইসলাম জানান, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক কলোনি এলাকায় গিয়ে তাঁর ঠিকানা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তিনি ভবঘুরের মতো চলাফেরা করেন, সেহেতু তাঁকে আমরা ভবঘুরে হিসেবেই জানি। মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো কিছু, কোনো সাইন–সিম্পটম জিজ্ঞাসাবাদে আমরা পাইনি।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছিল। পৌরসভার সহায়তায় কমিউনিটি সেন্টারটি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সম্প্রতি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গত রোববার কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়া অবস্থায় দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে মশিউরের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখা যায়। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গতকালের দুটিসহ মোট ছয়টি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গত পাঁচ মাসে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয়ই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিটি ঘটনার পর আইন অনুযায়ী পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সর্বপ্রথম গত বছরের ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারটির দ্বিতীয় তলা থেকে হাত বাঁধা ও অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (৩০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ অক্টোবর ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (৩০) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর ভবনটি থেকে আবারও অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল ভবনটি থেকে অজ্ঞাতনামা ১৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

আরও তথ্য
__________________


সাভার কলেজের কাছে অবস্থিত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে আবারো দুইজনের আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩ মাসে একই স্থান থেকে ৫টি মরদেহ উদ্ধার করায় পরিত্যক্ত এই ভবনটি সিরিয়াল কিলিংয়ের হটস্পটে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। গতকাল দুপুরে সাভার থানা রোডের সাভার সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর ভবনের দোতলায় থাকা টয়লেটের ভেতর থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ায় প্রাথমিকভাবে মরদেহ দু’টির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নিহতের মধ্যে এক নারী ও এক তরুণী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে নিহত তরুণীর নাম সোনিয়া বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সে ভবগুরে হিসেবে এই এলাকায় ঘুরে বেড়াতো। এদিকে ঘটনার পর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সম্রাট নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সম্রাট জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রস্রাবের জন্য কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ভেতরে পোড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে। এরপর লাশ শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সদস্য, র‌্যাব সদস্য ও পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন। স্থানীয়রা জানান, সাভার সরকারি কলেজ, সাভার প্রেস ক্লাব এবং সেনাক্যাম্পের মুখোমুখি স্থানে অবস্থিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে গত ৩ মাসে ৫টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আমরাও আতঙ্কে আছি।

ধারাবাহিকভাবে একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি যেন হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা স্থানীয় এক নারী বলেন, থানার কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত ভবনে একের পর এক লাশ পাওয়ায় আমরা ভয়ে আছি। ভবনটির এমন অবস্থা যে, সেখানে উঠলেও ভয় লাগে, বুক ধড়ফড় করে। ভবনটি ভেঙে ফেলা হোক না হয় এখানে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামলেই ভবনটি মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে জেলা পরিষদ ও পৌরসভার মালিকানা জটিলতায় ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিছুদিন আগে নিরাপত্তার জন্য ভবনের আশপাশে কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও এলইডি লাইট স্থাপন করা হলেও কয়েকদিন ধরে সেই লাইটগুলো জ্বলছে না। সাভার কলেজের ঠিক সামনে এমন একটি মৃত্যুকূপ থাকায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সম্রাট নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সম্রাট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

 

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়