ডা শাহাদাত হোসেন

Published:
2022-06-14 07:45:36 BdST

মৃত্যু : চিকিৎসকের মর্মস্পর্শী লেখা


ডা. তারিক অনি,রেজিস্ট্রার, সার্জারী সানশাইন কোস্ট ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, অস্ট্রেলিয়া


ডা. তারিক অনি

——————

আজকের লিখা টা সামান্য অগোছালো। মুত্যুকথন গুছিয়ে লিখা যায়না। মৃত্যু ব্যাপারটাই এলোমেলো এলোমেলো ভাবনার জটগুলো গল্প করে লিখে ফেলার প্রচেষ্টা।
আইসিইউ তে নাইট করছি। ভোন্টিলেটরে থাকা আমার এক সেপটিক রোগী হঠাৎ কার্ডিয়াক এরেস্ট এ গেল, অর্থাৎ হঠাৎ করে রোগীর শ্বাস প্রশ্বাস নেই, পালস ব্লাড প্রেশার নেই। নার্স ক্রাশ বাটন চাপলো, তখনও সিপিআর শুরু করেনি।
আমি দৌড়ে এসে ই দেখলাম নার্সরা ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে। এক মিনিটের মধ্যে রোগী ঘিরে ৪ জন জুনিয়র ডাক্তার, ১০ জন নার্স, ২ জন ওয়ার্ডম্যান উপস্থিত- সবাই ঝাপিয়ে পড়েছে। কেউ পালস দেখছে, কেউ প্রেশার দেখতে চাইছে, কেউ বুকে স্টেথো ধরতে চাইছে, কেউ ব্লাড নিতে উদ্যত, কেউ ট্রলি টানছে, কেউ ঔষধ আনতে দৌড়াচ্ছে, কেউ এমনি ই ছোটাছুটি করছে। একটা জিনিস কমন- সবাই রোগীকে বাচানোর জন্য মরিয়া।
আমি সিনিয়র রেজিস্ট্রার টমাস এর দিকে চাইলাম।
- তারিক, রোগী টা তোমার, তুমি টীম লীড কর। ইটস ইওর শো ম্যান।
- তুমি শিওর ? তুমি সিনিয়র থাকতে আমি লীড করবো!?
- অফ কোর্স। অল ইওরস ম্যান। আই এম জাস্ট এন এক্সট্রা ব্রেইন সাপোর্টিং ইউ।
- ওকে! লেটস রক এন্ড রোল।
আমি রুমে ঢুকে প্রথমেই চিৎকার বললাম, “সবাই স্টপ। শুধু সিপিআর ছাড়া আর যে যাই করছো এবসোলুটলি স্টপ। ৫ জন সিনিয়র নার্স, ১ জন ডাক্তার আর আমার সিনিয়র টমাস ছাড়া বাকি সবাই প্লিজ রুমের বাইরে যাও স্ট্যান্ড বাই! এক্ষুনি ! লেটস গেট অরগানাইজড”
সবাই একটু ইতস্তত করে হলেও ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দ্রুত বিশৃঙ্খল সিচুয়েশন ঠান্ডা হল। এখন আমাদের ৫ জনের সামনে একটা নিথর দেহ পড়ে আছে। কোন শ্বাস প্রশ্বাস নেই, কোন পালস ব্লাড প্রেশার নেই। সিনিয়ার রেজিস্ট্রার আস্তে ফিসফিস করে আমাকে বললো, “ওয়েল, হোয়াটস নেক্সট, মেট? “
আমি বললাম, “নাও, আই স্টার্ট মাই শো।”
আমি চিৎকার করে বললাম, “এন্ড লেটস স্টার্ট সিপিআর। আই ওয়ান্ট সাম রিবস ব্রেকিং নয়েজ! ক্লক স্টার্ট নাও! ”
এরপর ৩০ মিনিট জীবন-মরণ যুদ্ধ চললো, ৩ জন নার্স পালা করে পাগলের মত সিপিআর চালিয়ে গেল, রোগী ৯ টা ইলেকট্রিক শক পেল, একগাদা ড্রাগ পেল। যতরকম কারণ চিন্তা করা যায় করেও কিছু বের করা গেল না। হৃৎপিন্ড চালু হল না।
সাধারণত ৩০ মিনিট ডাউন টাইম হয়ে গেলে ডাক্তাররা পিছু হটতে থাকে, কারণ এরপর বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ। ওদিকে সিপিআর চলছেই, প্রাণান্ত চেষ্টা চলছেই। যোদ্ধারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, একই সাথে তাদের প্রতি দুই মিনিটের সিপিআর সাইকেল এর সাথে সাথে তাদের মনোবল ও কমছে।
সিনিয়র রেজিস্ট্রার টমাস আমার পাশে থেকে আমার কাঁধে চাপ দিল, “ তারিক, অলরেডী থার্টি মিনিটস, নাইন শক অলরেডী… ইউ শ্যুড স্টার্ট থিংকিং টু স্টপ ….”
ততক্ষণে আমার জিদ চেপে গেছে। আমি দাঁতে দাঁত চেপে আস্তে আস্তে বললাম, “নোপ। হি জাস্ট ডোন্ট ফাকিং ডাই ইন মাই হ্যান্ড। আই উইল স্কুইজ হিম ইউথ এভরি ব্লাডি ড্রাগস আন্ডার দ্য সান বাট হি ডোন্ট ফাকিং ডাই। লেট মি ফাইট ফর এনাদার থার্টি মিনিট।”
আমার মত আমার টীমের সবার মধ্যেও হয়তো জেদ চেপে গেছে। মোট ৫০ মিনিট ডাউন টাইমের পর হৃৎপিন্ড চালু হল, রোগীর পালস পাওয়া গেল, ক্ষীণ ব্লাড প্রেশার পাওয়া গেল। রোগী ততক্ষণে ১৫ টা ইলেকট্রিক শক পেয়েছে। রুমের সবাই একসাথে উল্লাস করে উঠলো। সবার মধ্যে এখন নতুন ব্যস্ততা, রোগী রিটার্ণ করার পর আরও দ্বিগুণ পরিমাণ কাজ বাকি তাকে স্টেবল করা - সবাই দ্বিগুণ উদ্যমে সেদিকে কাজ শুরু করলো, কারও ক্লান্তি নেই।
এতক্ষণ পর আমার পাশে সারাক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে থাকা সিনিয়র রেজিস্ট্রার টমাস নীরবতা ভেঙ্গে হেসে ফিস ফিস করে আমাকে বললো, “তারিক, ইউ আর এ ক্রেজি মাদার ফাকার ! বাট ওয়েল ডান! ”
আমি দ্রুত রুমের টীমের সবাইকে ব্রীফ করলাম, আমার চিৎকার এবং রূঢ় আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলাম। নীচু স্বরে সিনিয়র কে বললাম, “টমাস, আমি বেশিক্ষণ সারভাইভ করতে পারবো না, হি উইল ক্রাশ এগেইন। তুমি কি প্লিজ কনসালটেন্টকে জানাবে? আমি ফ্যামিলি কে জানাচ্ছি যেন তারা শেষ দেখা টা দেখতে পারে।”
কনসালটেন্ট ফোনে সব শুনে জানালো, এরপর আবার এরেস্ট হলে যেন আর সিপিআর ট্রাই করা না হয়। আমি রোগীর মেয়েকে ফোন করে ব্রীফ করে বললাম, “আমি তোমার বাবা কে বেশিক্ষণ বাচিয়ে রাখতে পারবো না, তুমি কি দ্রুত একটা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে তাকে দেখতে আসবে ? দয়া করে নিজে ড্রাইভ করবে না, প্রয়োজনে আমি তোমার ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা করছি”
টমাস খুব সুন্দর করে সকাল সাতটায় রোগীর ফ্যামিলিকে ব্রীফ করলো, এত সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে আমি দশবার প্রাকটিস করলেও পারতামা! রোগীর মেয়ে আর বৃদ্ধা ওয়াইফ কে রোগীর রুমে পর্দা টেনে দিয়ে ফ্যালিমি টাইম দেওয়া হল- শেষ সময় টুকুর জন্য। ততক্ষণে আমি হ্যান্ডওভার দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি।
হ্যান্ডওভার শেষ করে কনসালটেন্ট রাতের পুরো টীমের খুব প্রশংসা করলো, সবাইকে ধন্যবাদ দিল। আমি আবারও টীমের নার্সদের সবাইকে ধন্যবাদ দিলাম আমার উপর ভরসা রাখার জন্য। কনসালটেন্ট বললো, “তারিক তুমি চাইলে চলে যেতে পারো, তোমার ডিউটি শেষ, কিন্তু তুমি চাইলে ফ্যামিলি কে সিদ্ধান্ত জানাতে পারো।” আমি রাজি হলাম।
আমি রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি দেখি একজন নার্স কাঁদছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- কাঁদছো কেন?
- খুব সুন্দর একটা দৃশ্য দেখে কাঁদছি। তোমাকে থ্যাংকস, এই দৃশ্য টার জন্য!
- কেন কি হয়েছে ?
- রুমে যাও গেলেই দেখবে।
আমি সত্যি ই খুব সুন্দর একটা দৃশ্য দেখলাম। আমি পর্দার ফাঁক দিয়েই দেখলাম রোগীর মাথার পাশে প্রায় ৭০ বছর বয়ষ্ক বৃদ্ধা স্ত্রী বসে আছে। কী পরম যত্নে যে বৃদ্ধের চুল আঁচড়ে দিচ্ছে, যেন বৃদ্ধ ঘুমিয়ে আছে একটু পরেই জেগে উঠবে। বৃদ্ধের বুকের উপর একটা হাতে বোনা নীল চাদর- সম্ভবত বৃদ্ধার নিজ হাতে তৈরি। একটু পর পর বৃদ্ধের কপালে হাতে চুমু খাচ্ছে বৃদ্ধা। পাশেই তাদের মেয়ে চেয়ারে বসে একমনে প্রার্থনা করছে, হাতে বাইবেল। রুমে একটা পবিত্র শান্ত আবহাওয়া।
হাসপাতালের দক্ষিণ দিকে আইসিইউ এর এই পাশ টা খুব সুন্দর। দোতালার জানালা দিয়ে পাশে মারুচি নদীর লাগোয়া লেক আর তারপর সবুজ বিস্তৃত মাঠ আর গাছপালা পার হয়ে সানশাইন কোস্টের গম্ভীর নিরব পাহাড় দেখা যায়। ঝলমলে রোদ্দুর উঠে গেছে এই সকাল ৮ টায়। ঝকঝকে নীল আকাশে শাদা তুলোর মত ছিটেফোটা মেঘ। বিশাল পাইন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে যে আকাশ দেখা যাচ্ছে সেটা গাঢ় নীল। প্রায় গাছেই পাখি। মাঠে এক ঝাঁক কবুতর। লেকের পাড়ে একটু খেয়াল করলেই পানকৌড়ি বা শাদা বক দেখা যায়। মৃত্যুর জন্য সবমিলিয়ে চমৎকার একটি সকাল।
আমি বৃদ্ধের রুমে ঢুকলাম। বৃদ্ধা তাদের ৪০ বছরের সংসার জীবনের কত যে গল্প হাসি কান্নাতে বললো। আমার ধৈর্য বরাবরই কম, রোগ এর বাইরে রোগীর পরিবার পরিজন সংক্রান্ত হিস্ট্রি নিতে আমার একেবারেই ভালো লাগে না। কিন্তু আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বৃদ্ধাকে আসলে আমি না করতে পারছি না, তার কথা ও খারাপ লাগছে না। সে এমনভাবে আমার হাত ধরে কথা বলছে, আমি মায়া লাগছে দেখে হাত ছাড়িয়েও নিতে পারছি না, অথচ ডাক্তার হিসেবে প্রফেশনালি এই কোভিড সময়ে আমার কারও সাথে হাত ধরার ই কথা না।
আধা ঘন্টা পর আমি বৃদ্ধাকে থামিয়ে তার হাত ধরেই নীচু স্বরে বললাম,
- আমি সেই ডাক্তার যে রাতে যুদ্ধ করে তোমার হাজবেন্ড কে বাঁচিয়েছি, দুর্ভাগ্যবশত আমি ই সেই ডাক্তার যে এখন ডেভিডের লাইফ সাপোর্ট খুলে নিতে এসেছি, যদি তুমি অনুমতি দাও। আমি সত্যি সরি।
- ডক্টর, ও কি কষ্ট পাচ্ছে ?
- না। ডেভিড ইজ কমফোর্টেবল। আমি তাকে গভীর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি।
- তুমি যদি লাইফ সাপোর্ট খুলে নাও, তাহলে কি সে সাথে সাথেই মরে যাবে?
- না। কিছুটা সময় লাগবে, তবে আমার মতে সেটা কয়েক মিনিট।
- লাইফ সাপোর্ট অফ করার সময় কি আমরা রুমে থাকতে পারি? আমি থাকতে চাই। আমাকে বলতে হবে না কখন অফ করলে ..
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- ডক্টর তুমি শুধু দেখো ডেভিড যেন কোন ব্যাথা না পায়।
- আমি কথা দিচ্ছি।
নার্স আমার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো- ভেন্টিলেটর অফ করবে কিনা। আমি বললাম, “নট ইয়েট।লিভ ইট টু মি”
আমি মনিটরের দিকে আরেকবার তাকালাম। রোগীর নরএড্রেনালিন চলছে ৭০ এ, এড্রেনালিন চলছে ২৩ এ, ভ্যাসোপ্রেসিন চলছে ০.০৪ এ। এই ভয়ংকররকম উচ্চ ডোজের ঔষধেও রোগীর ব্লাড প্রেশার কিছুতেই ৫০/৩০ এর উপর তুলে রাখতে পারছে না। ব্লাড গ্যাস এর নম্বরগুলো ভয়ংকর অস্বাভাবিক। ভেন্টিলেটর ১০০% অক্সিজেন সর্বোচ্চ প্রেশারে চেপেও রোগীর রক্তে অক্সিজেন এর মাত্রা কম।
আমি মনে মনে বললাম, “সরি ডেভিড। আমি জানি তোমার এভাবে কষ্ট হচ্ছে। ইউ ফট ওয়েল টুনাইট, বাট লেটস কল ইট এ ডে।”
সাধারণত নার্স রাই ভেন্টিলেটর অফ করে, মনিটরিং অফ করে। ডাক্তারদের এই কাজ টা করতে হয়না। কিন্তু আমার মনে হল, আমার রোগীটাকে রাত চারটায় আমি যমদূতের সাথে যুদ্ধ করে কিছু সময় কোনরকম বেশি বাচিয়ে রেখেছি, তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার অধিকার টাও সবচেয়ে বেশি আমার ই।
আমি ভেনেটিলেটর অফ করলাম। ডেভিড এর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। একে একে ড্রাগসগুলো অফ করলাম। হৃতপিন্ডের গতি কমতে শুরু করল, মনিটরে দুই মিনিটের মধ্যেই ইসিজি ফ্ল্যাট লাইন হয়ে গেল। আর কোন স্পন্দন নেই। আমি আমার রোগীর চোখ টা বুজে দিলাম, এক ফোটা জল ঘোলা চোখের এক কোনে আটকে রইল। এই ঘোলা চোখের দৃষ্টির সাথে আমি পরিচিত। ডাক্তার হিসেবে আমাকে এপর্যন্ত হাজারের উপর মৃত্যু দেখতে হয়েছে, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর চোখের একটা শূণ্য চাহনি থাকে, ডেভিডের ও তাই ছিল। আমি নোট লিখে সাইন করলাম, আই ডিক্লেয়ার টাইম অব ডেথ ৮-৪০ এ,এম। বৃদ্ধা তখন ও ডেভিডের হাত ধরে ডেভিডের মুখের দিকে একরাশ মায়া তাকিয়ে আছে। আমি নি:শব্দে বের হয়ে এলাম।
রুমের বাইরে বের হয়ে দেখি সেই নার্স টা তখন ও কাঁদছে। তাকে সান্তনা দিচ্ছে কয়েকজন। কিন্তু সবার চেহারাই থমথমে। সবারই যুদ্ধে হেরে যাওয়া পরাজিত সৈনিকের চাহনি। আমি সবাইকে আরেকবার থ্যাংকস গুড বাই জানিয়ে শুকনো হাসি দিয়ে ব্যাগ কাঁধে ফেলে ধীর পায়ে হাঁটা ধরলাম। মিরান্ডা নামের এক নার্স জিজ্ঞেস করলো,
- তারিক, তুমি সারারাত ফাইট করলে তারপর সকালে হেরে গেলে, তোমার কি খারাপ লাগছেনা?
আমি উত্তর দিলাম না, ছোট্ট হেসে মাথা নেড়ে বের দরজা ঠেলে হয়ে গেলাম।
হাসপাতালের বাইরে ঝলমলে দিনের আলোতে পা দিতেই রাতের অন্ধকার কেটে গেল, মনে হল আজকের সকাল টা সত্যি খুব সুন্দর! গাড়ির ইন্জিন স্টার্ট দিতেই রিয়ার ভিউ মিরর এ নিজের চেহারায় নজর পড়লো। নিজেকেই প্রশ্ন করলাম, “অনি, তোমার কি মন খারাপ লাগছে?” আমার ভিতর থেকেই আমার আমি ই ছোট করে কনফিডেন্টলি উত্তর দিল, “নাহ। আমার কখনোই মন খারাপ হয়না।”
ঝকঝকে সুন্দর একটি শীতের সকালে আমার গাড়ি তীব্র গতিতে নিকলিন হাইওয়ে ধরে বাসার দিকে দ্রুত ছুটে চললো।
তারিক, সানশাইন কোস্ট থেকে।
১৩.৬.২০২২

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়