ডা শাহাদাত হোসেন

Published:
2022-06-12 13:35:15 BdST

"আমি মেডিকেলে ফেল করেছি এবং আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি নি, তাই আত্মহত্যা করেছি"


ছবি ও তথ্য ডাঃ আজহারুল করিম আখিব

 

ডেস্ক
________________________

"আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। আমি ব্যাক্তিগত হতাশার কারণে আত্মহত্যা করেছি। আমি মেডিকেলে ফেল করেছি, এবং লেখক হওয়ার আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি নি। তাই আত্মহত্যা করেছি। আমি কারও দ্বারা প্রভাবিত নই। :মানিক ১১-৬-২২ ৯:৫৮ পিএম "
মর্মান্তিক আত্মহত্যা আবারও। আবারও এক মেডিকেল শিক্ষার আত্মহত্যা রাজধানীতে ।
উপরের করুণ বয়ান সহ চিরকুট লিখে দিকশূণ্যপুরে চলে গেছেন এক পরিবারের আশা ভরসা, এক বাবামার পরম মানিক ধন মেডিকেল ছাত্র মানিক।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকার মনোরোগ বিভাগের
অধ্যাপক এবং ডাক্তার প্রতিদিন সম্পাদক ডা. সুলতানা আলগিন এই অনাকাঙ্খিত ঘটনায় গভীর শোক ও সহানুভূতি জানিয়ে বলেন , মানিকের ঘটনা আমাদের ভীষণভাবে আলোড়িত করছে। মানিক লেখক হতে চেয়েছিলেন। মানিক ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। অনন্য দুটি লক্ষ্য তার ছিল। এমন দুটি লক্ষ্য অর্জনে অবশ্যই তার সবরকম যোগ্যতা ছিল বলে আমার বিশ্বাস। তারপরও তাকে হারাতে হল। মেডিকেল শিক্ষার চাপ কম নয়। লেখক হওয়া আরেক বড় লোড। অনেকে এসব লোড নিতে বেশ বেগ পান। মানসিক সমস্যাতেও ভোগেন আনেকে। এসব ক্ষেত্রে নিজ মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এমন মনোসমস্যায় ভোগা শিক্ষার্থীর দিকে সস্নেহ নজর রাখাও বড় দরকার।
-----------------অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


মাসুদ করিম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে এই ঘটনা নিয়ে সরকারীভাবে বোর্ড করে এর কারন খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তাদের মা-বাবা অনেক টাকা দিয়ে ভর্তি করেন। এরপর শুরু হয় পড়াশোনা অনেক চাপ,তারপর ফেল এটা যেণ তাদের কাছে একটি যন্ত্রনা। মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফরম পূরন করা প্রতিটি পদে পদে টাকা। এটা একটা বড় বাড়ডেন। এটা যখন ছাত্রের উপরে পরে তখন তার এমন হতে পারে।
রনদা প্রসাদ রায় লিখেন,
ক্লাসের শুরুতে সব মেডিকেলেই সাইকোলজির উপরে ইন্ট্রুডাক্টরী ক্লাস দরকার।
জেসমিন চৌধুরীর বক্তব্য,
আজকাল কোন কোনপ্রফেসর রা এতো খারাপ ব্যবহার করেন ,যা বলার নয়।এসব তো আমাদের সময় ছিলনা।ঢাকা মেডিকেল এ আমাদের প্রফেসর রা ছিলেন অভিভাবক এর মতো। আমার মেয়ে ৩ বার অনার্স পেয়েছে অথচ ফাইনাল এম বিবি এস দিচ্ছে কাঁদতে কাঁদতে। যখন ক্লাস হতো রোজ ওকে counseling করতে হতো। আমার মেয়ের যদি এই অবস্থা হয়তাহলে সাধারণ ছাত্রদের কি অবস্থা? এর শেষ কোথায়?

 

__________ ছবি ও তথ্য সৌজন্য
ডাঃ আজহারুল করিম আখিব

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়