Dr. Aminul Islam

Published:
2021-04-03 11:26:54 BdST

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের সুস্থ শিশু ভূমিষ্ঠ, চিকিৎসকরা বললেন সেক্রোসেমিয়া




ডেস্ক
----------------------

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের এক ছেলেশিশুকে জন্ম দিয়েছেন এক নারী। এ নিয়ে সাধারণ অজ্ঞ লোকজনের মধ্যে বিস্ময় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি মিডিয়া ও ইন্টারনেটে ব্যাপক অালোড়ন তুলেছে।
কেউ অস্বাভাবিক বিষয়, কেউ বিশেষ কোন অালামত বলে ইউটিউব ও ফেসবুক অপপ্রচার ও অন্ধ কুসংস্কার ছড়াচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বিষয়টি স্বাভাবিক ও সুন্দর বিষয় বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে কোন অস্বাভাবিক অালামত নেই।

ওই শিশু ও তার মা সুস্থ আছেন।


হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, কোনো নারী ৩৭ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে সাধারণত আড়াই কেজি ওজনের শিশু জন্ম দিয়ে থাকেন। আর ৪০ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজনের শিশু জন্ম দেন। তবে গর্ভবতী নারী ও তার স্বামী সুঠাম দেহের অধিকারী হলে কেউ কেউ আবার চার থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের শিশুর জন্ম দেন। যাকে অতিরিক্ত ওজনের (ওভার ওয়েট) শিশু বলা হয়। তবে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর ওজন পাঁচ কেজি বা এর বেশি হলে একে সেক্রোসেমিয়া বলা হয়।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা ফৌজিয়া আক্তার বলেন, সাধারণত গর্ভবতী নারী ও তাঁর স্বামী সুঠাম দেহের অধিকারী হলে কিংবা শিশুর মা–বাবার ডায়াবেটিস থাকলে বেশি ওজনের শিশুর জন্ম হওয়ার কথা। কিন্তু এই শিশুর বেলায় ঘটনাটি পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কারণ, তার মা ও বাবার শরীরের ওজন স্বাভাবিক এবং কারোরই ডায়াবেটিস নেই। তাসলিমা যে শিশুর জন্ম দিয়েছেন, সেটিকে আমরা সেক্রোসেমিয়া বা বেশি ওজনের শিশু বলে থাকি। বর্তমানে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন।’

ডা ফৌজিয়া আক্তার বলেন, গর্ভবতী অবস্থায় ওই নারী সুষম খাবার খেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি আরও তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিনটি সন্তানই তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (অস্ত্রোপচার ছাড়া) জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শিশুসন্তান জন্ম দেওয়ার

চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়।


গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেলা শহরের বেসরকারি হলিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই শিশুর জন্ম হয়। গাইনি চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার ওই অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অস্ত্রোপচার করেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল বাশার তাঁর স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে (৩৮) হলিল্যাব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। তাসলিমা এর আগে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রসবজনিত ব্যথা বাড়তে থাকলে হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ফৌজিয়া আক্তার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাসলিমার অস্ত্রোপচার¯করেন। পরে তাসলিমা একটি ছেলেশিশুর জন্ম দেন। জন্মের পর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শিশুটির ওজন মাপেন। ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটির ওজন দেখায়, ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম।
এই সাধারণ জন্মদান নিয়ে অনলাইন ও ইউটিউবে এক ধরনের অলৌকিকতার অপপ্রচার চালাচ্ছে অন্ধ কুসংস্কার গুজবগজবী চক্র।
এর অাগে এরা এ ধরনের অপপ্রচার নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ঘটনায়।

 

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়