DR> AZAD HASAN

Published:
2021-01-05 20:07:42 BdST

উপচে পড়া অবাঞ্ছিত ভিড় মোকাবেলায় বাংলাদেশে প্রয়োজন রেফারাল সিস্টেম


 

ডা. আজাদ হাসান 

________________________


আমাদের দেশে প্রতিটি সরকারী হাসপাতালের আউট ডোরে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এই অবাঞ্ছিত ভিড় পরিহার করার জন্য এবং যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে রেফারাল সিস্টেম চালু করা আবশ্যক।

প্রশ্ন হলো, রেফারাল সিস্টেম কি?
সংক্ষেপে বলি,
সাধারণ রোগীরা সহজে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র হতে Common disease সমূহের চিকিৎসা পাবেন আর যারা সিরিয়াস রোগী তারা "সেকেন্ডারী কেয়ার হাসপাতাল" হতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। আর ইমার্জেন্সী রোগীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিত, "প্রায়রিটি বেসিসে" ইমার্জেন্সী চিকিৎসা পাবে।
এই সিস্টেম চালু হলে প্রত্যেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য প্রথম Primary Health Care Centre - এ যেতে হবে। যে সব রোগীর চিকিৎসা পিএইচসিসি-তে সম্ভব তারা পিএইচসি-তে চিকিৎসা নিবেন। যে সব রোগী অধিকতর অসুস্থ তাদেরকেও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বা অধিকতর টেক কেয়ার করতে হবে।

রেফারাল সিস্টেম হতে হবে ৩ ধরনের।
1) Immediate.
2) Urgent.
3) Elective.

এবার এ বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক।
১) ইমিডিয়েটঃ অর্থাৎ এসব রোগীকে তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা হাসপাতালে ট্রান্সফার করতে হবে। যেমনঃ এমআই বা সাসপেক্টেড এমআই, মাল্টিপল ফ্রাক্চার, আনকন্ট্রোল ব্লিডিং, আন্-কন্সাস পেসেন্ট, একিউট রেনাল ফেইলিউর, সিভিডি বা স্ট্রোক-এর রোগী কিংবা ডায়বেটিক কিটো এসিডোসিস, পিইটি, অবস্ট্রাক্টেড লেবার, এক কথায় যাদের চিকিৎসা উপজেলায় সম্ভব নয় এবং যাদের ইমিডিয়েট ইন্টারভেনশন জরুরী। তাঁরা রেফারাল সাপেক্ষে জেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যাবেন।

২) আর্জেন্টঃ এই জাতীয় রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা উপজেলা হাসপাতাল হতে দেয়া হবে এবং অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করতে হবে। যেমনঃ গ্যাস্ট্রিক আলসার, কিংবা ইনফ্লামেটরী বাওয়েল ডিজিজ, ক্রনিক হেপাটাইটিস, ক্রনিক কিডনী ডিজিজ, অার্ট্রাইটিস, সিএ লিভার, সিএ কলোন, লিউকেমিয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ সে সব রোগের ইনভেস্টিগেশন সুবিধা কিংবা ফলোআপ করার সুবিধা উপজেলায় নাই, সে সব রোগীরা জেলা হাসপাতাল হতে রেফারাল সাপেক্ষে চিকিৎসা নিবেন এবং সেখানেই ফলোআপ করবেন।

৩) ইলেকটিভঃ এগুলো সাধারণত কোল্ড কেস। যেমনঃ ক্যাটারেক্ট, রেনাল স্টোন, ডিএনএস, সাইনোসাইটিস, ডিপ্রেশন ইত্যাদি। এ জাতীয় রোগীরাও এপয়েন্টমেন্ট নেয়া সাপেক্ষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁদেরকে কখনো কখনো লম্বা সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসংগত উল্লেখ্যঃ
এটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি জেলার সদর উপজেলায়ও "সদর প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সেন্টার" তথা "সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স" প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং প্রতিটি বিভাগীয় শহরেও জনসংখ্যার ভিত্তিতে নগর উত্তর বা দক্ষিণ (উপজেলা) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করতে হবে।
তাছাড়া এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে দক্ষ লোকবল বৃদ্ধি করতে হবে এবং ইনভেস্টিগেশন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
যে সব রোগীর চিকিৎসা জেলা হাসপাতালে সম্ভব নয় তাদেরকে "টারসিয়ারি কেয়ার হাসপাতাল" যেমনঃ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার্ড করবে।
টারশিয়ারি কেয়ার হাসপাতালে কেবল ইমার্জেন্সী রোগী ছাড়া অন্যান্য রোগীদেরকে জেলা হাসপাতাল কিংবা সেকেন্ডারী কেয়ার হাসপাতাল হতে রেফারাল নিয়ে আসা সাপেক্ষে চিকিৎসা পাবেন।
যদি স্বাস্থ্য খাতকে এভাবে ঢেলে সাজানো সম্ভব হয় তা হলে সরকারি হাসপাতালে অযাচিত ভীড় এড়ানো সম্ভব হবে এবং রোগীরাও প্রত্যাশিত সেবা পাবেন বলে আমার ধারণা।
_________________________

 

ডা. আজাদ হাসান
সিওমেক
ব্যাচ ২১

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়