Dr. Aminul Islam

Published:
2020-07-28 10:25:21 BdST

স্যানিটাইজার ট্রাজেডি: বিএসএমএমইউ-র চিকিৎসক রাজীব ভট্টাচার্য আর নেই


ডেস্ক
________________

স্যানিটাইজারের আগুনে দগ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়:বিএসএমএমইউ-র নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব ভট্টাচার্য মারা গেছেন। ২৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি
ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর হাতিরপুলে নিজ বাসায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন রাজীব ভট্টাচার্য (৩৭) ও অনুসূয়া ভট্টাচার্য (৩২) নামে এক তরুণ চিকিৎসক দম্পতি। এ ঘটনায় তখনই চিকিৎসক রাজীবের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোর চারটার দিকে এই দম্পতিকে হাসপাতালে আনা হয়। আগুনে ডা. রাজীব ভট্টাচার্যের শরীরের ৮৭ ভাগ এবং তাঁর স্ত্রী ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্যের ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

স্বজনরা জানান, রাজিবের বাড়ি কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার ইস্টগ্রামে। একমাত্র মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্যকে (৫) নিয়ে হাতিরপুল ইস্টার্ন প্লাজার পেছনের একটি বাড়ির ৩য় তলায় ভাড়া থাকেন। তার বাবার নাম লক্ষ্মণ ভট্টাচার্য। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাজিব সবার ছোট। আর অনূসূয়ার বাড়ি সিলেট।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্যানিটাইজারের থেকেই আগুনের সূত্রপাত। রাজীব এক বোতল থেকে আরেক বোতলে স্যানিটাইজার ঢালতে গেলে তা খানিকটা নিচে পড়ে যায়। এতে সিগারেট বা মশার কয়েলের আগুন থেকে তাঁর শরীরে আগুন ধরে যায়। ডা. অনুসূয়া তাঁকে বাঁচাতে গেলে তিনিও দগ্ধ হন। তাঁদের সাত বছরের এক মেয়ে আছে। তবে সে এ ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকায় এ ঘটনার থেকে রক্ষা পেয়েছে।

, ডা. রাজীব ভট্টাচার্যর স্ত্রী ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ডা. আসাদ জামান জানান,
আর কটা দিন গেলেই হয়তো হয়ে যেতে পারতেন নিউরোসার্জন। বিএস এম এম ইউ এর নিউরোসার্জারী বিভাগের রেসিডেন্ট রাজীব দা আর নেই।

হাজার হাজার চিকিৎসক কে কাদিয়ে পরোপারে পা রাখলেন, যাওয়ার আগে ৯০% বার্ন নিয়ে মৃত্যুর সাথে শেষ পাঞ্জাটুকু লড়ে গেছেন।

অনসূয়া আপু আমার চাকুরী জীবনের প্রথম কলিগ ছিলেন, একইসাথে জয়েন করেছিলাম হারুণ আই ফাউন্ডেশনে। সজ্জন সদালাপী মিষ্টভাষী এই মানুষটিকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো কোনো শব্দ আর আমার শব্দ ভান্ডারে নাই।

রাজীবদা যাওয়ার আগে বন্ধুকে বলে গিয়েছিলেন তার মেয়েকে যেন চিকিৎসক বানানো না হয়, কতটা কষ্ট দিয়েছে এ পেশা তাকে বোঝা যাচ্ছে ... :( এটা শুনে আরোও খারাপ লাগছে।

দিন দিন জাগতিক সকল বিষয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি যেন ।

ডা. মৃণাল সাহা
লিখেছেন,
বি এলার্ট ফ্রম হ্যান্ড ওয়াশ ।

কিভাবে কি হয়ে যায়। এত বার্ণ, ভাবতেই কষ্ট লাগছে। রাজীব সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসুক এটাই কাম্য।

হ্যান্ড ওয়াশ গুলো বাচ্চারা খেয়ে বিষক্রিয়া করে। এটা প্রচন্ড দাহ্য আর এত দ্রুত পোড়ায় যে আগুন দেখাও যায় না। রান্না ঘরে হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা যাবে না। বাচ্চাদের থেকে দূরে রাখাই ভালো। আর মশার কয়েল, ইলেকট্রিসিটির লিকেজ, এগুলো থেকেও সাবধান। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশ ( এলকোহল বা যে কোন) দিয়ে হাত ধুয়ে সাথে সাথে আগুনের কাছা যাওয়া ও নিরাপদ নয়। একটা ম্যাচের কাঠি ও অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর হ্যাক্সিসল, হ্যান্ডরাব, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, এলকোহল, খাওয়া বাচ্চা আমরা তো মাঝে মাঝেই পাই।

ডাঃ রাজীব ভট্টাচার্য্য, সিওমেক ৪১ তম, মারাত্মক বার্ণ নিয়ে হাসপাতালের আই সি ইউ তে।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়