DR. AZAD HASAN

Published:
2020-07-13 08:25:44 BdST

সৌদৗ আরবে করোনায় আরও ৩ জন চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু


 

ডেস্ক
_______________

সৌদৗ আরবে করোনায় আরও কয়েকজন চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তার প্রতিদিনের পক্ষ থেকে তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানাই।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ডা. আজাদ হাসান। তিনি জানান ,
১২ জুলাই ২০২০ আরো একজন প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসক ডা. এ কে এম মাকসুদুল হাসান ইন্তেকাল করেছেন। "ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"

তিনি সৌদি আরবস্থ "আরার সেন্ট্রাল হাসপাতালে" অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ কর্মরত ছিলেন।
উনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ২০ তম ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন।
উনি ময়মনসিংহ জেলার স্থায়ী অধিবাসী ছিলেন।
মৃত্যু কালে স্ত্রী এবং ৩ কণ্যা রেখে গিয়েছেন।
আমরা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং দোয়া করি আল্লাহ যেনো ওনাকে জান্নাতবাসী করেন । এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে দোয়া করি আল্লাহ যেনো ওনাদেরকে এই শোক কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করেন। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে উনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
গত কয়েকদিন যাবৎ ওনার অবস্থার ক্রমাবনতি হচ্ছিলো, গতকাল ওনাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেয়া হয়।
১২ জুলাই উনি মৃত্যু বরণ করেন।


_____________

অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত ডা. ইশতিয়াক হুসেইন (ডিউক)-এর স্ত্রী ডা. ফারহানা হক (তানিয়া) ৩০ জুন স্থানীয় সময় বেলা দুপুর ১২ঃ০০ টায় রিয়াদে ইন্তেকাল করেছেন। "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন"।
এ পর্যন্ত সৌদি আরবে কর্মরত ছয় জন চিকিৎসক কোভিড-১৯ দ্বারা সংক্রামিত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন। এবং ডা. ফারহানা হক তানিয়া চট্টগ্রামে অবস্থিত ইউএসটিসি-র অষ্টম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।

উনি গত ২৩ শে মে কোভিডের লক্ষণ সহ রিয়াদ সেন্ট্রাল হাসপাতালে (শুম্যাসি) আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। পাঁচ জুনে হতে ওনাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং সেপ্টিক শক-এ আক্রান্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত শক হতে পুনরুদ্ধার করতে পারেন নাই। ডা. ফারহানা হক তানিয়া প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশী মহিলা চিকিৎসক যিনি কোভিড-১৯-এ সংক্রামিত হয়ে সৌদি আরবে মৃত্যু বরণ করলেন।

তিনি রিয়াদের বাথায় একটি প্রাইভেট পলিক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। ওনার অকাল মৃত্যুতে সৌদি প্রবাসী চিকিৎসক মহলে এবং বাংলাদেশী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সবাই মরহুমার রুহের মাগফেরাত এর জন্য দোয়া করবেন। দোয়া করি আল্লাহ যেনো ওনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।উনি রিয়াদের বাথায় অবস্থিত "শিফা আল্ জাজিরা পলিক্লিনিক" -এ কর্মরত ছিলেন।

আমরা শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক এবং সমবেদনা জানাচ্ছি এবং দোয়া করি আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন যেন ওনাদেরকে এই অপূরণীয় শোক কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করেন

গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সৌদি আরবে করোনা সংক্রামিত হয়ে পঞ্চম প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসক হিসেবে
ডা. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (রনক) ১৯ জুন ২০২০ সালের রাত ৯ টা ০০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। "ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন"।
ডা. মোহাম্মদ সাফিউল্লাহ (রনক) সিলেট মেডিকেল কলেজের ২৪ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি রিয়াদের কিং সালমান হাসপাতালে মেডিসিনে কনসালটেন্ট হিসাবে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে কর্মরত ছিলেন। তিনি করোনার ভাইরাস সংক্রমমিত হয়ে প্রথম প্রিন্স সালমান হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি হন। অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাকে রিয়াদ সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তারপরে পুনরায় প্রিন্স সালমান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওনাকে রিয়াদস্থ আবদুর রহমান হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরবর্তীতে শ্বাস-প্রশ্বাস এর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটর এ রাখা হয়েছিল। তাকে সম্ভাব্য সমস্ত চিকিত্সা দেয়া সত্ত্বেও তাঁর অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি ঘটে। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর অবস্থা খুব সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি ছিলেন প্রকৃত ভদ্রলোক। তিনি সর্বদা দয়ালু এবং সর্বদা ভাল আচরণ করতেন। তিনি প্রথমে সৌদি আরবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন । পরে তিনি এমআরসিপি (ইউকে), এফআরসিপি ডিগ্রী অর্জন করেন এবং কনসালটেন্ট হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেন। এবং সমস্ত বাংলাদেশী ডাক্তার এবং দেশবাসীকে সম্মানিত করেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতে তাকে সর্বোচ্চ স্থান দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।
দয়া করে আপনারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করবেন। আমীন।

_________________INFORMATION ________________

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়