ডাক্তার প্রতিদিন

Published:
2020-06-26 12:04:45 BdST

একজন ডাক্তারের জীবন




অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী
বাংলাদেশের চিকিৎসা লেখালেখির জনক
___________________________

একজন ডাক্তারের জীবন:
যখন একজন ভাইরাল জ্বরের রোগী দেখেন তখন তিনি অবশ্য ভাইরাসের মুখোমুখি হন
যখন সন্তান প্রসব করান তখন গর্ভবতী মায়ের অজান্তে হলেও তার ছিটকে পড়া প্রস্রাব বা মল তার উপর এসে পড়ে
রাতে অন্তত দশটা ডে লি ভা রি কল ধরতে হয় ।
ডা ইয়া বে টি ক গাংগ্রিন যখন তিনি ড্রেস করেন তখন সেই বিকট গন্ধ সইতে হয় ।,বমি ভাব , সারাদিন কিছু খাওয়া যায়না।
নিজের শিশু সন্তান অসুস্থ থাকলেও তাকে অন্যের কাছে দিয়ে অসুস্থ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে ছুটে আসতে হয় ।
এরপর সকালে ঠিক সময় ডি উ টি তে আসতে হয় ।
একজন নিউরো সার্জন কে হয়ত এক টানা ১২ ঘণ্টা অপারে শন করতে হয় , তখন তার সময় জ্ঞান থাকেনা ,তাকে নিজের নাওয়া খাওয়া ভুলে যেতে হয়।
একজন কার ডি ও ল জি সট কে ল্যাবে ভয়ঙ্কর বিকিরণের মুখো মুখি হতে হয় ।
ল্যাবে যে ডাক্তার রা আর টেকনো লো জ স্ট কাজ করেন তাদেরকে রোগীর নমুনার অনেক ভয়ানক জীবাণু সংক্রমণের মুখো মুখী হতে হয় ।
সামাজিক জীবন বলতে কিছুই নাই , পরিবারের কাছে এজন্য অপরাধি থাকতে হয় । অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে , পারিবারিক অনুষ্ঠানে সামিল হওয়া যায়না, এজন্য কথা শুনতে হয় ।
এরপরও অনেক সময় নিগৃহীত হতে হয় প্রহৃত হতে হয় অকারনে
একজন মেধাবী তরুন ডাক্তারকে কারন দর্শানোই হয় কিন্তু তার মর্ম বেদনা গ্রা হ্য করা হয়না , তাদের হৃদয়ের কথা কেউ শোনে না ।
আয় যা হয় তরুন ডাক্তারদের তা উল্লেখ করার মত নয় । জেনে আশ্চর্য হতে পারেন ,একজন তরুন ডাক্তার হাড় ভাঙা খাটুনি র পর ঢাকার কোন কোন ক্লিনিক মাসে তাদের দেন ১০০০০/-১২০০০/ ! একজন মেধাবি ছেলের জীবনে এই প্রাপ্তি । যে অভিভাবক অনেক চেষ্টায় অনেক অর্থ ব্যয় করে তার মেধাবী ছেলে মেয়েকে অনেক সময় তাদের মতের বিরুদ্ধে ডাক্তারি পড়িয়েছেন তারা তাদের মেধাবি ছেলের এই পরিনতি দেখে স্তব্ধ হয়ে যান , মুখ ফুটে বল লে ত লজ্জা !
এত পরিশ্রমের , এত কষ্টের পর মিলে গঞ্জনা
আশ্চর্য যারা জীবন বাঁচায় তাদের প্রতি কেন এত হিংসা , এত দ্বেষ ?
যত দোষ নন্দ ঘোষ ,চিকিৎসার সব কিছুর জন্য দায় কেবল ডাক্তারের । আপনি কি জানেন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ্সা‌ধারন সুস্থ মানুষের তুলনায় ডাক্তার দের গড় আয়ু তাদের এই চাপের কারনে ১০ বছর কম ।
বেশির ভাগ ডাক্তার যা আয় করে তা বলার মত নয় কিছু ডাক্তার হয়ত ভাল আয় করে শ্রম দিয়ে দক্ষতা দিয়ে তাই দিয়ে সব ডাক্তার দের আয় সেভাবে বিচার করে পাব লিক ।
ডাক্তারদের অনেক সইতে হয় কান্না বুকে চেপে রাখতে হয় রোগীর সামনে নিজের আবেগ চেপে রাখতে হয়। প্রহৃত হলে তা গ্রহন করতে হয় , প্রতিদান দেওয়া যায় না কারন ডাক্তারের কাছে ধর্ম বর্ণ শত্রু মিত্র নাই চিকিৎসা কেউ নিতে এলে । মানুষের উপকার করাই জীবনের ব্রত ।
মানুষের জীবন যারা বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত তারা সমাজের কাছে ক্রমান্বয়ে নেতিবাচক সাড়া পেলে এই পেশায় আসা কমে যাবে , মেধাবীরা আসতে চাইবেনা । তখন সাধারন চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছুটতে হবে এতে লাভবান হবে ধনীরা , আর গরীবরা চিকিৎসার অভাবে দারুন দুর্গতি তে পড়বে । এক সময় বিদেশীরা দেশে বাণিজ্য করতে চাইবে । এতেও ধনীদের লাভ , গরিবদের চিকিৎসা করবে হাতুড়েরা । আর জরুরি চিকিৎসা হলে দু দলই পড়বে বিপদে , এত দ্রুত বিদেশেও যাওয়া যাবেনা । অনেক অর্থ থাকলেও অবস্থা এমন জটিল হতে পারে যে বিদেশের ডাক্তার এবং এয়ার এম্বুলান্স ও নিতে চাইবেনা তখন দেশের আই সি ইউ তে লাইফ সাপোর্টে এদেশের ডাক্তারের চিকিৎসাই নিতে হবে ।সারা জীবন যারা দেশের ডাক্তারের বদনাম করেছেন তাদের এমন অসুবিধা হতেও পারে । সব পরম করুণাময়ের ইচ্ছা । ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা করে কিন্তু জীবন দেওয়া নেওয়ার মালিক ঈশ্বর । কার নিয়তিতে কি আছে কেউ বলতে পারেনা ।
ডাক্তারের চাহিদা বিশ্বজনীন তাই মেধাবি ছেলে মেয়ে দেশে প্রাপ্য সম্মান না পেলে অন্য পেশায় যাবে তা না হলে বিদেশে ডাক্তারি শিখবে আর করবে , সেখানে অর্থ আর মর্যাদা দুটোই বেশি , এতে নিজ দেশের ক্ষতি হবে । মানুষের দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে সে এগো বেই , বসে পড় বেনা , ভেঙেও পড় বেনা ।
ডাক্তার কে মর্যাদা দিন ।

_______INFORMATION__________________

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়