Ameen Qudir

Published:
2020-03-11 12:58:48 BdST

N 95 মাস্ক কাদের জন্য, কিভাবে পরবেন, কাদের দরকার নেই



ডা. অসিত বর্দ্ধন , কানাডা থেকে
_______________________

যারা সরাসরি রোগীর চিকিৎসার সাথে জড়িত থাকবেন তাদের N 95 মাস্ক ছাড়া অন্য মাস্কের প্রয়োজন নেই।
N95 মাস্ক পড়ার আগে ফিট টেস্ট করতে হয়। অর্থাৎ আপনার মুখমণ্ডলের সাথে মাস্ক টি যেন এমনভাবে ফিট হয়, যে ফিলটার ছাড়া অন্যভাবে কোন বাতাস আপনার শ্বাসনালীতে পৌঁছাবে না। এটি করতে ১৫থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। এটা করবেন রেস্পিরেটরি থেরাপিস্ট বা যিনি এই টেস্ট করার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশের সব হাসপাতালে ( উপজেলা ও জেলা সহ ) অন্তত ১ জন থাকা প্রয়োজন যিনি এই টেস্ট করতে জানেন। চিকিৎসক সহ সকল কর্মকর্তা /কর্মচারীকে তার কথামত টেস্ট টি করা প্রয়োজন। ডাক্তার হিসেবে আমরা অনেক সময় এ ধরণের নির্দেশনা উপেক্ষা করি।
সরকার প্রয়োজনীয় মাস্কের সংখ্যা বা চাহিদা পত্র চেয়েছেন। আমার ধারণা এভাবে চাওয়া আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত করবে। একটি হাসপাতালে যত নার্স , ডাক্তার সহ যত কর্মকর্তা /কর্মচারী রোগীর সংস্পর্শে তাদের সবাইকে ন-৯৫ মাস্ক পড়তে হবে। যতদূর জানি এই মাস্ক ডিস্পসেবল । অর্থাৎ একবার হাসপাতালে ঢুকলে ১ টা মাস্ক, বেরিয়ে যেয়ে আবার ঢুকলে আবার নতুন মাস্ক নিতে হবে। তাহলে ডিউটিতে এবং তদারকিতে থাকা সকলের জন্য কমপক্ষে ১টা প্রতিদিন প্রয়োজন। রোস্টার ডিউটিতে যারা থাকবেন প্রতি ডিউটিতে ১ টা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রত্যেক হাসপাতালে কর্মকর্তা /কর্মচারীর তথ্য আছে। সেই সংখ্যা ধরে তাকে কমপক্ষে ১০০ দিয়ে গুন করলে মোট কত মাস্ক প্রয়োজন জানা যাবে। ১০০ বলার কারণ কিছু কর্মকর্তা /কর্মচারী দিনে কয়েকবার আসবেন। সকালে, বিকেলে ও রাতের ডিউটিতে ভিন্ন কর্মকর্তা /কর্মচারী থাকবেন। এই চিকিৎসা ১ দিনে শেষ হবে না, চলবে কতদিন কারো জানা নেই। সেজন্য অন্তত ১ মাসের সংগ্রহ থাকা উচিৎ।
ফিট টেস্ট প্রসঙ্গে কয়েকটি টিপস
ফিট টেস্টের ১৫ মিনিট আগে খাওয়া, পান, ধূমপান বা চুইং গাম খাওয়া পরিহার করুন।
কানাডিয়ান গাইডলাইন অনুযায়ী ক্লিনশেভ করার নির্দেশনা আছে। (কারণ দাড়ি থাকলে মাস্কটি কোনভাবে সিল হবে না। ) এটা বাংলাদেশে কিভাবে প্রযোজ্য হবে তা কর্তা ব্যক্তিরা নির্দেশ করতে পারেন।
প্রত্যেক হাসপাতালে কে ফিট টেস্ট করান, তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। কেউ নির্দিষ্ট না হয়ে থাকলে এখনি একজন কে নির্দিষ্ট করে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করুন।
প্রশিক্ষণ শেষ হলে নিজের ফিট টেস্ট করিয়ে রাখুন, বিপদ পর্জন্ত অপেক্ষা করলে বিপদ আর বাড়বে।
প্রত্যেক হাসপাতালে ফিট টেস্ট হওয়া কর্মকর্তার/কর্মচারির তালিকা রাখুন। যার ফিট টেস্ট করেননি বা করাতে চান না , কিন্তু হাসপাতালে কাজ করবেন, তারা শুধু নিজের বিপদ বাড়িয়ে তুলছেন।
সরকারিভাবে N95 মাস্ক শুধুমাত্র হাসপাতালগুলোতে বিক্রির নিয়ম করা উচিৎ। অন্যথায় পাবলিক কিনে ঘর ভরিয়ে ফেলবে, কিন্তু ডাক্তার /নার্সদের বিপদে ফেলবেন।

##

ডা. অসিত বর্দ্ধন 

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়