Ameen Qudir

Published:
2019-11-27 19:19:41 BdST

চট্টগ্রামে দেবী শেঠির ইমপেরিয়াল হাসপাতাল প্রায় বন্ধ:১৫ হাজার রোগী হতাশার দিন গুনছে


ডেস্ক
___________________

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত হাজার কোটি টাকার দেবী শেঠি ব্রান্ডিং ইমপেরিয়াল হাসপাতাল এখন প্রায় বন্ধ। ১৫ হাজার হার্টের রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করিয়ে কোন সুচিকিৎসা পায় নি। সর্বত্র হতাশা। মাসে ৬ কোটি টাকার অধিক লোকসান গুনছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হায়াত হোসেন জানিয়েছেন এসব তথ্য । তিনি জানান,
গত জুন মাসে সাড়েম্বরে উদবোধনের পর ইম্পেরিয়াল হসপিটাল এখনো প্রায় বন্ধ আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গত কয়েক মাসে সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার হার্টের রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। এটাও কুচক্রীদের একটি মাথা ব্যাথার কারণ। এদিকে শুনা যায় চিকিৎসা ব্যবস্থা পুর্নাংগ ভাবে চালু হতে না পারায় হসপিটালটি মাসে ৬কোটি টাকার অধিক লস দিচ্ছে এবং একসময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


"মায়ের কান্না রোগীদের বিলাপ
আর প্রশাসনের প্রলাপ" শীর্ষক লেখায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হায়াত হোসেন জানান,
ফেসবুকে দেখছি আমার এক ছাত্রী মোহসেনা ঝর্না কয়দিন ধরে কেঁদেই চলেছে কারন ওর এক বছরের শিশু সন্তানটিকে নাকি কোন এক প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলেছে। ওর কান্না দেখে আমারও কান্না আসছে কিন্তু আমরা সবাই যেন অসহায়। বছর দুয়েক আগে একই হাসপাতালে এক সাংবাদিকের বাচ্চাকে এভাবে মেরে ফেলায় বেশ তুলকালাম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। মাঝখানে নাকি আরো একটি বাচ্চাকে মেরে ফেলেছিল কিন্তু টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছে। ঝর্নার মৃত সন্তানের উদ্দেশে লেখা ওর আজকের ফেসবুক পোস্টের শেষ লাইনটি "বাবা, শেষ মুহুর্তে তোমাকে যখন ইঞ্জেকশন দিচ্ছিল নিশ্চই তোমার কষ্ট হয়েছে। বাবারে, তোমাকে যদি চিকিৎসা শেষ না করে বাসায় নিয়ে আসতাম তাহলেতো তুমি বোধ হয় এখন মায়ের বুক জুড়েই থাকতে, তাইনা?" চট্টগ্রামের প্রাইভেট হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলিকে কসাইখানা বলা হয় যেখানে এক দরজা দিয়ে রুগী ঢুকে আরেক দরজা দিয়ে লাশ হয়ে বের হয়। কিছুদিন আগেও আমার এক ছাত্র চবি ইতিহাস বিভাগের প্রতিভাবান শিক্ষক ডঃমুহাম্মদ শাহ এক রোড এক্সিডেন্টের পর হাসপাতালে অপমৃত্যুর শিকার হয়।
কয়েক মাস আগে পাহাড়তলীতে ইম্পেরিয়াল হসপিটাল নামে একটি আর্ন্তজাতিক হসপিটাল মহাসমারোহে উদ্ভোধিত হলে চট্টগ্রামের মানুষ আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল। বিশ্বনন্দিত হার্ট স্পেশালিস্ট দেবী শেটি এর সাথে যুক্ত থাকায় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। ডাঃ শেঠি নিজের ছোট ভাই সহ দুই ডজন ডাক্তার ও অসংখ্য প্রশিক্ষিত নার্স নিয়ে এসেছিলেন কিন্ত এখানে ভয়ংকর এক চক্রান্তের শিকার হয়ে দেশে ফিরে যান। বাংলাদেশে মেডিকেল এসোসিয়েশন নাকি তাদের কাজ করতে অনুমতি দেয়নি এবং তার আগে অনেকগুলি অসম্ভব শর্তপুরনের কথা বলে। শুনা যায় ঢাকা তথা বাংলাদেশের তথা-কথিত বড় বড় চিকিৎসক, বিশেষ করে হার্ট স্পেশালিস্টরা বেকার হয়ে যাবে তাই এই ষড়যন্ত্র। আর চট্টগ্রামেতো হার্টের কোন চিকিৎসা নাই বললেই চলে। এখানে নানা ভুলভাল বলার পর মাত্র ৩সপ্তাহ আগে আমি নিজেই ব্যাংকক থেকে চেক আপ করে এসেছি। আগে ঢাকা থেকে থাই এয়ার ওয়েজের দিনে একটি ফ্লাইট যেত আর এখন দুটি। এছাড়া আছে বাংলাদেশ বিমানের একটি ও অন্যান্য প্রাইভেট ফ্লাইট আর প্যাসেঞ্জারদের বিরাট একটা অংশ হল রোগী।মানুষ কত কষ্ট করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যায় আর অনেক সাশ্রয় মুল্যে বিদেশ থেকে ডাক্তার এসে চিকিৎসা দেবে সে পথ বন্ধ করে রেখেছে স্থানীয় কুচক্রী মহল।চট্টগ্রাম এখন এমনভাবে নেতৃত্বশুন্য হয়ে পড়েছে যে মানুষ কোথায় যাবে বুঝতে পারছেনা।
বছর দেড়েক আগে আওয়ামী নেতা ওবায়েদুল কাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে ডাঃ দেবী শেঠী তাকে দেখতে আসেন। তখন প্রধান মত্রী নাকি তাকে বাংলাদেশের জন্য কিছু করত্তে বলেন এবং ডাঃশেঠী জানান তিনি নির্মানাধীন ইম্পেরিয়াল হসপিটালের সংগে যুক্ত আছেন। প্রধান মন্ত্রী নাকি শুনে খুব খুশী হন এবং সবরকমের সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপরেও এই অবস্থা। গত জুন মাসে সাড়েম্বরে উদবোধনের পর ইম্পেরিয়াল হসপিটাল এখনো প্রায় বন্ধ আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যযে গত কয়েক মাসে সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার হার্টের রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। এটাও কুচক্রীদের একটি মাথা ব্যাথার কারন। এদিকে শুনা যায় চিকিৎসা ব্যবস্থা পুর্নাংগ ভাবে চালু হতে না পারায় হসপিটালটি মাসে ৬কোটি টাকার অধিক লস দিচ্ছে এবং একসময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সব শেষে যে আশার খবরটি শুনা যায় তাহল প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আগামী মাসের ১৫ তারিখ থেকে মেডিকেল এসোসিয়েশনের বাঁধা অতিক্রম করে হসপিটালটি পুর্নোদ্যমে আবার কাজ শুরু করবে এবং ঐ দিন ডাঃ দেবী শেঠীও তার সহকর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়