Ameen Qudir

Published:
2019-09-25 09:45:53 BdST

ওয়ার্ড বয় এবং বাবুর্চি যখন সার্জন! "আমি জানি বলেই তো সার্জারি করছি"


 

ডেস্ক/ চ্যানেল আই
____________________

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় ও বাবুর্চির বিরুদ্ধে রোগীর অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ড বয় মোঃ আবুল কালাম কাউকে তোয়াক্কা না করে সার্জারির কাজ করেন।
এছাড়াও আবুল কালামের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
গত রোববার বেলা ১১টায় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দরজা বন্ধ করে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে ও অনুমতি ব্যতীত এক শিশুর খতনা করছিলেন ওয়ার্ড বয় মোঃ আবুল কালাম এবং হাসপাতালের বাবুর্চি ইয়াংরিং মুরুং।
স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুর রহমানকে অবগত করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। তিনি জরুরি বিভাগে ঢুকেই আবুল কালামকে এক শিশুর খতনা করা অবস্থায় পান।
এসময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল কালামের কাছে জানাতে চান তিনি কেন সার্জারি করছেন, ডাক্তার কোথায়? জবাবে আবুল কালাম জানান, ডাক্তারকে আমরা সহযোগিতা করছি তিনি বাইরে গেছেন। এরপর জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানকে মোবাইলে কল দিয়ে ডাকা হয়।
তার কাছে জানতে চাওয়া হয় খতনা করা অবস্থায় জরুরি বিভাগ ছেড়ে কোথায় গিয়েছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, জরুরি রোগী ছিল তাকে দেখছিলাম, এরপর আউটডোরে রোগী বেশী থাকায় সেখানে সাহায্য করছিলাম।
ওয়ার্ড বয় ও বাবুর্চি খতনার কাজ করছেন কেন জানতে চাইলে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই দুজন তার কোন অনুমতি নেয়নি এবং খতনার বিষয়ে তিনি জানেন না। খতনা করা শিশুটি জরুরি বিভাগের বাইরে এক মহিলার সাথে বসা ছিল বলেও জানান তিনি।
এরপর উপজেলা মেডিকেল অফিসার আবারও ওয়ার্ড বয় আবুল কালামের কাছে খতনা করার কারণ জানতে চান। জবাবে ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম বলেন, ডাক্তার থাকলেও তো এগুলো আমরা করি, আমি জানি বলে করছি, না জানলে তো আর করতাম না। আমার সার্জারি করাতে যদি সমস্যা হয় তবে চাকরি ছেড়ে দিই, আমার কাজ তো ডাক্তারকে ডেকে আনা না।
এ কথা শুনে উপজেলা মেডিকেল অফিসার কিছু না বলে জরুরি বিভাগ ত্যাগ করে নিজ কক্ষে চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও আবুল কালামের বিরুদ্ধে ডাক্তারের রেফারকৃত রোগী ডেলিভারি কক্ষে রেখে চিকিৎসা করানো, রোগী, রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ করা অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপেলক্সের এক আয়ার স্বামীকে মাদক দিয়ে ফাসানোর চেষ্টার অডিও রেকর্ডসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের পরও ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, আবুল কালামের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যা ইচ্ছে তাই করা যায়, স্যাররা কিছু বলেন না। কিন্তু তাকে অখুশী করে এখানে চাকরি করা কষ্টকর এবং নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বয় মোঃ আবুল কালাম বলেন, সবাই বলার সুযোগ পান কিন্তু আমি কখনো বলার সুযোগ পাই না। আমার কাজ ফাইলপত্র এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে নিয়ে যাওয়া।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুর রহমান বলেন, ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম ও বাবুর্চি ইয়াং রিং মুরুং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর চ্যানেল আই।
- ইসমাইল হাসান ,প্রতিবেদক , চ্যানেল আই

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়