Ameen Qudir

Published:
2019-08-30 21:44:37 BdST

ইন্টার্নশিপ দু’বছর:মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপজেলা হাসপাতালে থাকতে হবে ১ বছর


 

সংবাদ সূত্র দৈনিক যুগান্তর/ উবায়দুল্লাহ বাদল

__________________________

দেশের মেডিকেল (এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স) শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সময়কাল ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর করা হচ্ছে। প্রথম বছর যথারীতি নিজ প্রতিষ্ঠানে এবং পরের বছর কাটাতে হবে উপজেলা হাসপাতালে।


তবে শিক্ষার্থী চাইলে নিজ জেলা বা বিভাগের যে কোনো উপজেলা হাসপাতালে ইন্টার্ন করতে পারবেন। এজন্য তাদের সরকার নির্ধারিত ইন্টার্ন ভাতা দেয়া হবে।

এসব বিধান রেখে ‘মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠানের এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৯’ এর খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, ৭ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়। এর ওপর ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মতামত দিতে পারবেন। তাদের মতামতের আলোকে এটি চূড়ান্ত করবে সরকার।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম আবদুল আজিজ।

তিনি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘নীতিমালাটির খসড়া পেয়েছি। ১ বছরের বদলে ইন্টার্ন ২ বছর করা হলে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা আরও শেখার সময় পাবেন। দক্ষতা ও যোগ্যতা আরও বাড়বে। আর ১ বছর শিক্ষা অর্জনের পর উপজেলা হাসপাতালে কাজ করলে গ্রামের মানুষ তাদের সেবা পাবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ১ বছরের জন্য নিজ মেডিকেল হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

এজন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। ১ বছরের মধ্যে ১১ মাস তারা হাসপাতালে কাজ করেন। ১৫ দিন কাজ করেন একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ ১ বছরে তারা ১৫ দিন ছুটি পান।

এমবিবিএস পাস করার পর শিক্ষার্থীদের ১ বছরের জন্য সাময়িক সনদ দেয়া হয়। সফলভাবে ইন্টার্নশিপ শেষ করলে সাময়িক সনদ ফেরত নিয়ে পেশা চর্চার স্থায়ী সনদ দেয়া হয়।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের ২ বছর সময়কালের প্রথম বছর প্রশিক্ষণার্থীকে নিজ প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালে (যে মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ বা প্রতিষ্ঠান হতে গ্র্যাজুয়েশন) ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ নিতে হবে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেবে।

প্রথম বছরের ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের জন্য কোনো শিক্ষার্থী আন্তঃকলেজ/প্রতিষ্ঠানে বদলি বা মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবেন না। তাকে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাসপাতালেই প্রথম বছর ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।

আর দ্বিতীয় বছর ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের জন্য উপজেলা নির্ধারণ করে দেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীর নিজ জেলা/বিভাগকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার সময়ে সময়ে ইন্টার্ন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করবে।

নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ইন্টার্ন প্রশিক্ষণার্থীরা ভাতা পাবেন। একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এমবিবিএস/বিডিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুধু ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণকালীন সরকার নির্ধারিত ভাতা পাবেন।

বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস/বিডিএস/সমমানের কোর্সে সার্ক ও নন-সার্ক কোটায় ভর্তিকৃত বিদেশি শিক্ষার্থীরাও ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন। বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ/প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভাতা প্রদান করতে হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সরকার নির্ধারিত সমান হারে ভাতা দিতে হবে।

আর দ্বিতীয় বছরে (উপজেলা হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সময়কালে) এ ভাতা সরকার বহন করবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর বছরের শুরুতেই সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পরবর্তী বছরের সম্ভাব্য ইন্টার্নদের তালিকা/সংখ্যা প্রস্তুত করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। ইন্টার্নরা বর্তমানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন।

২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত যার পরিমাণ ছিল মাসিক ৬ হাজার টাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এ ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকায় উন্নীত করে। আর ২০১৬ সালের জুনে তা ১৫ হাজার টাকা করা হয়।

এ ভাতা ২০ হাজার করার কথাও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে একাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়