Ameen Qudir

Published:
2019-08-08 08:42:34 BdST

খোদ রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে মধ্যরাতে ডিউটি ডাক্তারের ওপর হামলা


 

ডেস্ক
__________________________

আবারও হামলা খোদ রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে। এবার মধ্যরাতে  হামলা। এক নেতার নাম ভাঙিয়ে হামলাবাজ চক্র এই হামলা চালায়।
ডাক্তার নিগ্রহ বেড়েই চলেছে। ঢাকাসহ সারাদেশের হাজারো হাসপাতালে ডাক্তাররা তাদের অতন্দ্র পরিশ্রমে বাঁচিয়ে তুলছেন ডেঙ্গিরোগীসহ লাখ লাখ রোগীকে; সেখানে একদল দুর্বৃত্ত মেতে উঠেছে নিয়মিত ডাক্তার নির্যাতনে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংসই এই হামলা চক্রের কাজ। এরা দেশের চিকিৎসাকে বিদেশ নির্ভর করতে চায়। ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোশাররফ হোসেন ৬ আগস্ট রাত দুইটার দিকে এ নির্যাতনের শিকার হন।

মিডিয়াকর্মীদের ডা. মোশাররফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার নিজের কর্মস্থল আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে দুইজন এটেনডেন্টসহ ২৩ বছর বয়সী একজন রোগী তার কাছে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগে আরো দুইজন রোগী ছিলেন। এসময় আরেকজন সংকটাপন্ন রোগী আসেন। পরে তিনি তাকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সেলিংও করেন।

এ সময় তার কাছে আগে আসা ২৩ বছরের ওই রোগীর সঙ্গেও কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর ওই রোগীর আরো লোক তার কাছে আসেন। এ সময় তারা জরুরি বিভাগে হৈ হৈ শুরু করেন। এর মধ্যেই তিনি আবারও তাদের রোগীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে এবার তারা কার্ডিওলজির কনসালটেন্টকে চান। তাদের দাবি অনুযায়ী, সিসিইউতে ফোন দিয়ে কনসালটেন্টকে কখন পাওয়া যাবে—তা জানতে চান ডা. মোশাররফ।

দায়িত্ব শেষ হওয়ায় কনসালটেন্ট চলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে বললেও তারা এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এ সময় কনসালটেন্ট না থাকার জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে রীতিমত জেরা করতে থাকে রোগীর স্বজনরা।

কোনো চিকিৎসকের কর্মস্থলে থাকা না থাকার বিষয়ে তাদের কোনো ভূমিকা নেই জানিয়ে এই ব্যাপারে তাদেরকে হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ডা. মোশাররফ।

এরপর তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে টেবিল থেকে কলম নিয়ে তার চোখ তুলে ফেলবে বলে এগিয়ে আসে। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেন এবং তাদের উত্তেজিত হওয়ার কারণ জানতে চান।

পরিচয় জানতে চাইলে তাদের একজন নিজেকে সরকারি ছাত্রসংগঠনের নেতা বলে দাবি করেন।

পরিচয় জানতে চাওয়ার জন্য তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তখন বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জানান ডা. মোশাররফ। এছাড়া ঢাবি নেতাদের বিষয়টি অবহিত করায় তারা আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করতে করতে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

নিজের কাছে থাকা তথ্য এবং ফুটেজ দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান ওই চিকিৎসক। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকসমাজ এবং বিবেকবান মানুষ এবং কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষ আমার পাশে থাকবেন বলে আমি আশাবাদী।

এ ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাওয়া সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, ‘সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ সামলাতে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে দিনরাত পরিশ্রম করছে বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ, তখনো থেমে নেই কর্মক্ষেত্রে ডাক্তার নির্যাতন। গতরাত প্রায় দুটোর দিকে কলম দিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের চোখ তুলে নিতে চাইলেন নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির ভুয়া পরিচয় প্রদানকারী এ সন্ত্রাসী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এ সন্ত্রাসীর বিরূদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। এছাড়াও এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তারা।’

 

ভিডিও লিঙ্ক :

 

https://drive.google.com/file/d/1YkusWC15ceXw4AwxPvuukATn7BB4SsdU/view

 

এদিকে, এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে নূরে আলম আশিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাত ৩টায় আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে, যেই ঘটনায় আমাকে জড়িত হিসাবে বলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজও দেয়া হয়েছে। আপনাদের কাছে প্রশ্ন এটা কি আমি?’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সাথে আমার কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নাই। আমি এই মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

রাজধানীতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন পিতার সঙ্গে থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার নজরে আসেনি বলেও জানান নূরে আলম আশিক।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়