Ameen Qudir

Published:
2019-03-12 22:56:54 BdST

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটর সেজে ডাক্তারদের টাইট দিচ্ছিল সাংবাদিক ও ৭ ভুয়া কর্মকর্তা



গাইবান্ধা থেকে সংবাদদাতা
____________________________

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটর সেজে পরিদর্শনের সময় গাইবান্ধার একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সাত ভুয়া কর্মকর্তা ও এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চকবরুল কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ছাট চকবরুল গ্রামের সুকুমার চন্দ্র শীলের ছেলে সঞ্জয় চন্দ্র শীল (২৬), বোয়ালী ইউনিয়নের পিয়ারাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৫), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কিশামত গোপালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী কাকলি খাতুন (২৪), গাইবান্ধা পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার চান মিয়ার ছেলে রায়হান সরকার (২৫), সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের গটিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান তালুকদারের ছেলে সারোয়ার হোসেন (২৫), পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুকজামিরা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রুবেল মিয়া (২১), পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট গ্রামের লিমন মিয়ার স্ত্রী মুর্শিদা আক্তার রুমি (২৩) ও গাইবান্ধা পৌরসভার ব্রিজরোড কালিবাড়ী পাড়ার নারু গোপাল দাসের ছেলে সাংবাদিক তপন চন্দ্র দাস (৩৬)। তপন চন্দ্র দাস স্থানীয় সাংবাদিক। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
ঘটনার দিন রোববার সকাল থেকে চকবরুল কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মমিনুল ইসলাম। এসময় সদর উপজেলার স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) আব্দুল হান্নান ওই ক্লিনিকটি পরিদর্শনে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, পরিদর্শক (অডিট ও ডিউটি) ইন্সপেক্টর, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি মাইক্রোবাসে করে গ্রেপ্তারকৃতরা ওই ক্লিনিকে আসেন। পরে তারা অফিসে প্রবেশ করে সাধারণ রোগী রেজিস্ট্রার, পরিদর্শন বই ও সার্ভিস বুক চেয়ে নেন। সঞ্জয় চন্দ্র শীল নিজেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র ঠিক নেই বলে মমিনুল ইসলামের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। মমিনুল ইসলাম বিষয়টি আব্দুল হান্নানকে জানান। আব্দুল হান্নান এসে তাদের সঙ্গে কথা বললে ওই আটজন ব্যক্তি এলোমেলো কথা বলেন। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সুমন এসে হাজির হন। সুমনের সঙ্গে সঞ্জয় চন্দ্র শীল একজন ভুয়া সিভিল সার্জনের মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেন।
ওই ভুয়া সিভিল সার্জন তাদেরকে আপ্যায়ন করার কথা বলেন। এসময় আব্দুর রউফ সুমন তাকে ওই ক্লিনিকে আসতে বললে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন কথিত সিভিল সার্জন। এদিকে আব্দুল হান্নান বিষয়টি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবিএম আবু হানিফকে জানান। তিনি সদর থানায় যোগাযোগ করে ওই ক্লিনিকে পুলিশ পাঠান। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই আটজন ব্যক্তি বাদিয়াখালী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে ভয়-ভীতি দেখান ও টাকা দাবি করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন মমিনুল ইসলাম। তারা সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন ও দুই নারী এপ্রোন পরিহিত অবস্থায় মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার) হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।
এ দুটি ঘটনা ছাড়াও গেল সপ্তাহে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের আরেকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মইনুল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়